• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

রাজধানীতে রিকশার ভবিষ্যৎ কী?

  অধিকার ডেস্ক

১০ জুলাই ২০১৯, ১৭:২৩
রিকশা
ফাইল ফটো

রাজধানীর মূল সড়কগুলোতে রিকশা চলাচল বন্ধ করার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। ৩টি সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধের প্রতিবাদে বুধবার (১০ জুলাই) কিছু এলাকায় রিকশা চালকরা সড়ক অবরোধ করেছেন।

কিছু দিন ধরেই রাজধানীতে রিকশা চলতে দেওয়া ঠিক কিনা এ বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে পুরনো বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়েছে। সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় হতে খিলক্ষেত, শাহবাগ থেকে রামপুরা হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত সড়কে ও মিরপুর রোডে রিকশা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর থেকে এ বিতর্ক। রবিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

যানজট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, অলি-গলি বাদ দিয়ে মূল সড়ক থেকে প্রর্যায়ক্রমে রিকশা তুলে দেওয়া হবে।

তিনি বলেছেন, ঢাকার বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে, একটা শহর থমকে থাকতে পারে না। এ ধরনের উদ্যোগে অনেক ধরনের প্রতিবন্ধকতা আসবে। কিন্তু আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ; কাজগুলো আমরা করব।

রাজধানী থমকে থাকার জন্য কেবল রিকশাই দায়ী?
যানবাহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহউদ্দিন বলেন, রাজধানী থমকে থাকার জন্য শুধুমাত্র রিকশা দায়ী না হলেও সড়কে ধীর গতির যানবাহন চলাচল করলে শহরের গতি বাধাগ্রস্ত হয়। রিকশার কারণে কোনো গাড়ি নির্দিষ্ট গতিতে চলতে বাধা পায়। রিকশা একটি লেনে চলছে না।

তিনি বলেন, রাজধানীতে কতগুলো রিকশা প্রয়োজন; সেটি দুই সিটি করপোরেশনকে ঠিক করতে হবে। পাশ্ববর্তী দেশের কলকাতার উদাহরণকে রাজধানী ঢাকার জন্য ব্যবহার করা যায়।

এদিকে সাঈদ খোকন বলেন, আমরা একবিংশ শতাব্দীতে আছি। এ সময়েও আমাদের রাজধানীতে মানুষ চালিত রিকশা রয়েছে, এটা বিশ্বের কোনো রাজধানী শহরে নেই, এ থেকে আমাদের বের হতেই হবে।

মেয়র বলেন, এটা নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমানে ৩টি সড়কে রিকশার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ৯০ এর দশক পর্যন্ত রাজধানীতে সব সড়কে রিকশা চলত। প্রথমে ভিআইপি রোড পরে মিরপুর রোড হতে রিকশা সরানো হয়।

নতুন করে ৩টি সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মতিঝিল থেকে উত্তরা পর্যন্ত যানজট নিরসনে মেট্রোরেল নির্মাণ চলছে। এ প্রকল্পের কারণে উত্তর ও দক্ষিণে মূল যে ভিআইপি সড়ক আছে, যেটি উত্তর ও দক্ষিণ সিটিকে যুক্ত করেছে, সেখানে সড়ক অনেকটাই সরু হয়ে গেছে। এতে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

তবে কিছু এলাকার বাসিন্দারা রিকশা না থাকার কারণে ব্যাপক ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন। অফিস, স্কুলে রওনা হওয়ার সময় রাজধানীর প্রগতি সরণিসহ আশপাশের কিছু সড়ক অবরোধ করেন রিকশা চালকরা।

খিলগাঁও, নতুন-বাজার, বাড্ডা, রামপুরাসহ কিছু এলাকায় অনেক মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। বাসাবোর কদমতলার জলি আক্তার ভোগান্তির বর্ণনা করে বলেন, আজ আমার ছেলে স্কুলে যেতেই পারেনি, মেয়ে কলেজে গেছে। এখনো ফিরেনি। কিছুক্ষণ আগে মেয়ে জানাল হেঁটে বাসায় ফিরেছে।

জলি বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করে হঠাৎ রিকশা নিষিদ্ধ করলে খুব বিপদে পড়ব। এ মুহূর্তে রিকশা ছাড়া চলতে পারব না। আমাদের এলাকায় কোনো বাস নেই। রিকশা তুলে দেওয়ার আগে বিকল্প কিছু একটা করা দরকার।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, বাস সার্ভিসকে আমরা বিকল্প হিসেবে উৎসাহিত করছি। চক্রাকারে বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। মেট্রোরেল চালু হয়ে গেলে অনেক সুবিধা হবে, কম পয়সায় ভালো সার্ভিস মিলবে। আমরা মানুষ চালিত রিকশাকে নিরুৎসাহিত করতে চাই।

বিপুল সংখ্যক রিকশা চালকের জন্য কী বিকল্প ভাবা হচ্ছে?

রাজধানীতে রিকশার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সাম্প্রতিক এক গবেষণা। দিনে একটি রিকশা চলে দুই শিফটে। এ হিসেবে চালকের সংখ্যা আনুমানিক ২২ লাখ। 

বিলসের পরিচালকদের একজন কোহিনুর মাহমুদ মনে করেন, এত বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য বিকল্প ভাবা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যে কোনো শ্রমজীবী মানুষ হোক না কেন, তার পেশা থেকে তাকে সরাতে হলে সময় দিতে হবে। আমরা বলছি কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না, আবার আমরা পেছনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিচ্ছি একটা বিশাল জনগোষ্ঠীকে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফিরতে হবে। এরা মূলত খণ্ডকালীন রিকশা চালক। এরা যাতে গ্রামে কাজ পায়, তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, রিকশা চালকদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাহির করলে তো আর হবে না। মনে করুন রাজধানীতে প্রচুর পাবলিক বাস চালু হলে, সেখানেও বহু কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে, লোক লাগবে। প্রশিক্ষণ দিয়ে এসব বাসে তাদেরই সুযোগ দেওয়া যায়।

ওডি/এমআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড