• বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধারাবাহিক উপন্যাস : দ্যা গেম (১০ম পর্ব)

  রোকেয়া আশা

১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৩৩
গল্প
ছবি : প্রতীকী

শিল্পা চিৎকার করে জেগে ওঠে। খেয়ালই নেই, ঘামে ভিজে গেছে পুরো শরীর - পিঠ, মুখ, কপাল। পাঞ্চালীও জেগে গেছে। শিল্পার চিৎকার শুনে। টিম ইন্ডিয়াকে প্রতিনিধিত্ব করতে ওরা রাশিয়ায় উড়ে এসেছে। পাঞ্চালী মনে করার চেষ্টা করে, রাশিয়াতে আসার পর থেকে কি কি হয়েছে। নাতানিয়া নামের ব্লন্ড রুশ মেয়েটির সাথে ওরা মিনিস্ট্রিতে গিয়েছিলো। দুপুরে? হ্যাঁ। একটা ঘোরের মধ্যেই পাঞ্চালী মনে করে, বিকালের দিকে হলরুমে শিল্পা চিৎকার করে ফিরে আসে। নাতানিয়া, মাশা আর পাঞ্চালী তখন ওকে ধরে রেখেছিলো। কি যেন দেখে ভয় পেয়েছিলো শিল্পা? লাশ? না। মেয়েটা বেঁচে আছে। 

শিল্পা নিজের বেডে উঠে বসে হাপাচ্ছে। পাঞ্চালীর হুঁশ হয় সহসা। লাফিয়ে নিজের বেড থেকে নেমে শিল্পার কাছে ছুটে যায় সে। 
- শিল্পা, ঠিক আছো তুমি?
শিল্পা বিহ্বলভাবে মাথা নাড়ে। পাঞ্চালী বেডসাইড ল্যাম্পটা জ্বেলে দেয়। গ্লাসে করে পানি নিয়ে এসে শিল্পাকে দেয়। শিল্পা পানিটুকু ঢকঢক করে খেয়ে নেয় এক চুমুকেই। 
পাঞ্চালীর দিকে তাকায়। তারপর ধীরে বলে, ‘কোরিয়ান মেয়েটা বেঁচে আছে, না?’
পাঞ্চালী বলে, ‘হ্যাঁ। বেঁচে আছে।’
- কি বিচ্ছিরি! 
পাঞ্চালী শিল্পাকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। 
- ইটস ওকে শিল্পা। ইটস ওকে।
শিল্পা কথা বলে না আর। পাঞ্চালীকে আঁকড়ে ধরে নিঃশব্দে কাঁদতে থাকে। 

শাহেদ ঘাড় ফিরিয়ে পাশের বেডের দিকে তাকায়। সুমন নাক ডাকতে শুরু করেছে। শাহেদ সেদিকে একবার তাকিয়েই আবার ফোনে মন দেয়। নিশার সাথে ম্যাসেঞ্জারে কথা হচ্ছে ওর। প্রেমিকা। তিনবছরের সম্পর্ক। এখানে ব্যস্ততায় সারাদিন কথা হয় নি, এখন সারাদিনের জমানো সব গল্প একসাথে শুরু করেছে। রাত। বেশ রাত। সবাই ঘুমুচ্ছে, তাই সব নিঃশব্দ। 

নিশা রাতের মস্কো কেমন জানতে চায়। ফোনের স্ক্রিনে টেক্সটটা দেখে মুচকি হেসে বিছানা থেকে নামে শাহেদ। আস্তে, যেন ওর জন্য সুমনের ঘুম ভেঙে না যায়। তারপর জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। অপূর্ব। আলো - ঝলমলে আলো ; গভীর অন্ধকার রাতে দালান আর রাস্তার আলোগুলো কেমন মায়া জমিয়ে রেখেছে। ফোন থেকে ডিএসএলআরের এপটা বের করে শাহেদ। ছবি তোলে সুন্দরী মস্কোর। নিশার কাছে ছবিগুলো পাঠাতে যাবে, তখনই চোখ আটকে যায় জানালার নিচে। ফিউদর। চুপি চুপি বেরিয়ে যাচ্ছে। 
- এত রাতে? এখানে কি করতে এসেছিলো ও? 
দ্রুত হাতে ফিউদরের কয়েকটা ছবি তুলে নেয় শাহেদ। দোতালার জানালা থেকে তোলা ছবি জুম করলে চেহারা বুঝতে পারার কথা। জুম করে দেখেও শাহেদ। হ্যাঁ, চেনা যাচ্ছে। এটা ফিউদরই। 
চলে যাচ্ছে লোকটা। শাহেদের কি এখন কিছু করার আছে? না। সকালে দেখা যাবে নাহয়। দীপ্তের সাথে কথা বলতে হবে। নিজের বিছানায় এসে শুয়ে পড়ে সে। নিশাকে মস্কোর ছবিগুলো পাঠিয়ে শুভরাত্রি জানায়। ঘুম প্রয়োজন ওর এখন। 

প্রায় তন্দ্রা লেগেছে, এমন সময় বাইরে খসখসে শব্দটা শুনতে পায়। উঠে বসে আবার সে। খালি পায়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় দরজার কাছে। চেষ্টা করে যতটা সম্ভব নিঃশব্দে দরজা খুলতে। সতর্কই ছিলো সে। তবুও খুট করে খুব আস্তে শব্দটা হয়েই গেলো। শাহেদ পাত্তা দেয় না। মুখ বাড়িয়ে দেখে শব্দটা কোত্থেকে আসছে। দোতালার এই উইংসে আটটা ঘর। মাঝখানে সিড়ি। সিড়ির ওপাশে আরো আটটা ঘর, ওদিকের ঘরগুলোতে মেয়েরা আছে। এপাশে বাংলাদেশ দুটো ঘরে, ভারত তিনটা ঘরে, তারমধ্যে একটা ঘরে বোধহয় চীনা এক ছেলেও আছে, ভারতের ছেলে পাঁচজন। আর তিনটা ঘরে কোরিয়া। 

সিঁড়ির দিকে চোখ যায় শাহেদের। কালো মেয়েটি ওখানে ভয়ার্ত মুখে দাঁড়িয়ে আছে। শিল্পা খুরানা। এদিকে একটা ঘরের দরজা খুলে যায়। ছেলেটিকে চেনে শাহেদ। তায়ে হি। কোরিয়ার টিমের। ডানে বামে না তাকিয়ে সোজা সিঁড়ির দিকে হেঁটে যায়। শাহেদের ঘর সিঁড়ি থেকে বেশ দূরে। দেখা যায়, তবে নিচুগলার কথা শোনা যায় না। তায়ে হিকে দেখে মনে হচ্ছে ভয়ানক উত্তেজিত। শাহেদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে আছে বলে শাহেদ ওর মুখটা দেখতে পাচ্ছে না। 
- কি হচ্ছে এখানে? 
মস্কোতে আসার আগে পাওয়া টেক্সটের কথা ভাবে। কি লেখা ছিলো? ‘ওয়েলকাম টু দ্যা গেম’। 
শাহেদের মনে হচ্ছে সত্যিই একটা বড়সড় খেলার মধ্যে এসে পড়েছে সে। শাহেদ কি এই খেলায় গুটি? নাকি খেলোয়াড়? সিঁড়ির দিকে তাকায় আবার। শিল্পাকে দেখে মায়াই হতে থাকে। দেখেই মনে হচ্ছে বেচারি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে আছে। চট করেই একটা কথা মাথায় আসে শাহেদের। 
কোরিয়া গতবছরের চ্যাম্পিয়ন, ভারত ফার্স্ট রানার আপ৷ কেউ এই দুই টিমকে স্যাবোটেজ তো করছে না? 
শাহেদ আর দাঁড়ায় না। দরজাটা লাগিয়ে নিজের বিছানায় এসে শুয়ে পড়ে। প্রায় সাথে সাথেই ঘুম। 

সকালবেলায় লিলিয়ার পাশের রেস্তোরাঁয় নাস্তা করতে করতে শাহেদ টিমের অন্যদের জানায় আগের রাতের কথা। দীপ্ত কফির মগে চুমুক দিতে দিতে প্রশ্ন করে, ‘শিল্পা আগে থেকেই দাঁড়িয়ে ছিলো?’
- তাই তো দেখলাম। 
শাহেদের উত্তর। আরও কিছু বলতে যাবে, তখনই পেছন থেকে স্পষ্ট বাংলায় কেউ প্রশ্ন করে, ‘শিল্পা কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলো?’ 
সবাই তাকিয়ে দেখে মেয়েটাকে৷ শ্যামলা, মাঝারি উচ্চতার একটা মেয়ে। গতকালই দেখেছে সবাই ওকে।
- আমি পাঞ্চালী মৈত্র। টিম ইন্ডিয়া।
মৈত্র পদবী শুনেই সবাই বুঝে নেয়, মেয়েটি বাঙালি। 
শাহেদ দীপ্তের দিকে তাকায় একবার । বোঝার চেষ্টা করে পাঞ্চালী ওদের আলোচনা কদ্দূর শুনেছে। 
দীপ্তই বলে, ‘শিল্পা কেমন আছে এখন?’
- মোটামুটি। খুব শকড গতকালকের ঘটনার পর থেকে। 
- স্বাভাবিক। 
- আপনারা শিল্পাকে নিয়ে কি বলছিলেন? ও নাকি কোথাও দাঁড়িয়ে ছিলো? 
দীপ্ত বলে, ‘মাশার কাছে শুনেছিলাম আর কি! গতকাল। ফিমেল ওয়াশরুমে।’
পাঞ্চালী কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। এরা কিছু বলবে বলে মনে হয় না। 
মাথা ঝাঁকিয়ে পাঞ্চালী নিজের টিমের কাছে ফিরে যায়। শিল্পাকেও দেখতে পায় ওরা। সবুজ চুড়িদার পরেছে।
ওরা আবার আলোচনায় ঢুকতো, তখনই স্টিফান আসে৷ 
- হাই! 
মনে মনে হাসে আয়েশা। মাহিরাকে বোধহয় পছন্দ হয়েছে ছেলেটার।


(চলবে...)

‘দ্যা গেম’-এর ৯ম পর্ব- ধারাবাহিক গল্প : দ্যা গেম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড