• বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘অদ্ভুত নিয়তি’-এর ১৭তম পর্ব

ধারাবাহিক উপন্যাস : অদ্ভুত নিয়তি

  রিফাত হোসেন

১৮ আগস্ট ২০১৯, ১২:৫৮
উপন্যাস
ছবি : প্রতীকী

আদিত্য জ্যোতিকে নিয়ে ভিতরে এলো। ড্রয়িংরুমের সোফায় বসিয়ে  পানি এগিয়ে দিলো। জ্যোতি ঢকঢক করে পানি খেয়ে ফেলল। আদিত্য আজ অবাক এর পর অবাক হচ্ছে। জ্যোতির মধ্যে এত অস্থিরতা আগে কখনোই দেখেনি ও। জ্যোতি কথা বলতে পারছে না ঠিক করে। ওর কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে আসছে। চোখে আছে ভয়ঙ্কর এক ভয়। আদিত্য জ্যোতির পাশে বসে ওকে নিজের বাহুডোরে আবদ্ধ করে নিলো। জ্যোতি এখনও ভয়ে কাঁপছে। অনবরত কেঁদেই যাচ্ছে ও। আদিত্য  ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বার কয়েক জিজ্ঞেস করল, ‘কী হয়েছে?’

জ্যোতির কোনো উত্তর দিলো না। আদিত্য বেশি ঘাটালো না আর। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসছে। জ্যোতির ভয়ের কারণটা যাই হোক, ওকে এবার বুঝিয়ে হোস্টেলে পাঠাতে হবে। কিন্তু এই অবস্থায় সেখানে পাঠানো কী ঠিক হবে ওকে? আদিত্য অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিলো ইরাকে ঘটনাটা জানাবে। জ্যোতি এইরকম করছে কেন? তা জানে না আদিত্য। তবে এটা সহজের বুঝতে পারছে জ্যোতির মনে একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। জ্যোতির স্বাভাবিক হওয়ার জন্য আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করল আদিত্য। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় জ্যোতি। আদিত্য ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এবার বলেন কী হয়েছে? এত ভয় পেয়েছেন কী দেখে?’

জ্যোতি কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল, ‘ভাইয়া আর ভাবীর গাড়িটা এক্সিডেন্ট হয়েছে।’

আদিত্যর চোখে দু'টো বড় বড় হয়ে গেল। বিস্ময়, কৌতূহল, আর মনে একরাশ আতঙ্ক নিয়ে জ্যোতির দিকে তাকালো। জ্যোতি আবার বলল, ‘ভাইয়া আর ভাবীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মিস্টার জন নামে একজন ফোন করেছিল আমাকে। লোকটা ওখানকার অফিসের বস। তিনি এখন আহত হয়ে হাসপাতালে শুয়ে আছে। ভাইয়ার অফিসে অভিভাবক এর জায়গায় আমার নাম এবং নম্বর দেওয়া আছে। মিস্টার জন ভাইয়ার অফিস থেকে আমার নম্বর কালেক্ট করে আমাকে ফোন করেছে। তাদের গাড়ির ড্রাইভার সাথে সাথে মারা গেছেন।’

আদিত্য কী বলবে ভেবে পাচ্ছে না। ওর বিশ্বাস'ই হচ্ছে না এইসব। বেশ কিছুক্ষণ নীরবতা আদিত্যর মাঝে। জ্যোতি কান্না কিছুটা থামিয়ে বলল, ‘আমি এখন কী করব আদিত্য? আমার বাবা-মা তো  গ্রামে থাকে। ভয়ে তাদের খবরও দিতে পারছি না। তাছাড়া তারা গ্রামের বাইরে তেমন কিছুই চিনে না। পড়াশোনাও করেনি। এখন তাদের এইসব বলে কোনো লাভ হবে না। বরং মানসিক এবং শারিরীক, এই দুই ভাবেই আরো ভেঙে পড়বে তারা। বয়স্ক বাবা-মাকে এতটা চাপ দিতে চাই না আমি। নিজের অসহায়তার জন্য নিজেকেই ঘৃণা করতে ইচ্ছে করছে। কেন আমি ছেলে হয়ে জন্মালাম না? কেন আমি পৃথিবীকে চিনতে পারলাম না? অন্তত নিজের দেশটাকে চেনা উচিত ছিল আমার। আমার পরিচিত-ও কেউ নেই। যে তার সাহায্য নিয়ে ওদের খুঁজে বের করব।’

- মেয়ে হয়ে জন্মানোটা কোনো অপরাধ নয় জ্যোতি। এটা ঠিক আপনি আজ অসহায়। কিন্তু সেটা মেয়ে হয়ে জন্মানোর জন্য নয়, সেটা হলো আপনি নিজের উপর আস্থা রাখতে পারছেন না বলে। নিজের মনোবলের প্রতি আত্মবিশ্বাস নেই আপনার। আপনি এতদিনে দেশকে বা পৃথিবীরকে চিনেন পারেননি তো কী হয়েছে? এখন থেকে চিনতে শুরু করুন। আপনার সামনে বেশ বড় একটা সুযোগ আছে। সুযোগটা কাজে লাগান।

- এখন কী করব আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। ভাইয়া আর ভাবীকে খুঁজে বের করতে হবে। মিস্টার জনের সাথে দেখা করতে হবে সবার আগে। সে সিলেটের কোনো এক হাসপাতালে আছে। আমি তো কখনোই সিলেট যাইনি। কীভাবে যেতে হয় তাও জানি না?

- আমি যাবো আপনার সাথে। আপনি একটু অপেক্ষা করুন। আমি টাকা নিয়ে আসছি।

আদিত্য ভিতরের ঘরে গেল। কিছুক্ষণ পর আবার ড্রয়িংরুমে এসে বলল, ‘চলুন। বাস স্ট্যাণ্ডে গিয়ে  সিলেট যাওয়ার টিকিট কাটকে হবে। আমি বুঝতে পারছি না উনারা চট্রগ্রামে থেকে সিলেটে চলে গেল কেন? আর আমাদের উচিত শুভ ভাইয়ার অফিসের বসকে খবরটা দেওয়া। তার সাথে যোগাযোগ করা। তিনি আমাদের সাহায্য করতে পারবেন।’

- কাজের জন্যই  সিলেট গিয়েছিল ওরা। আর ভাইয়ার অফিসের বস সবটাই জানে। ইনফ্যাক্ট তারা অনেকক্ষণ আগে সিলেটের উদ্দেশ্যে নিজস্ব গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে।

- আপনাকে জানায়নি উনারা? আপনি তো উনাদের সাথে একি গাড়িতে যেতে পারতেন সিলেট।

- আমাকে খবরটা দিয়েছে মিস্টার জন। ভাইয়ার অফিসের কারোর সাথে আমার কথা হয়নি। হয়তো মিস্টার জনের কাছ থেকে খবরটা জেনেছি আমি, তাই তারা পূনরায় আমাকে কিছু বলেনি।

- ঠিক আছে চলুন।

দু’জনে বাড়ি থেকে বের হয়ে রিকশা দিয়ে বাস স্ট্যাণ্ডের দিকে গেল। জ্যোতির মনে এক আতঙ্ক। আদিত্য যতটা পারছে জ্যোতিকে সাপোর্ট দিচ্ছে। বাস স্ট্যাণ্ডে গিয়ে সিলেটের বাসের টিকিট কাটতে গেল আদিত্য। জ্যোতি গিয়ে বাসে ওঠে সিটে বসল। কিছুক্ষণ পর আদিত্যও এসে জ্যোতির পাশে বসল। জ্যোতি নিজের ফোন থেকে মিস্টার জনকে ফোন দিয়ে বলল, ‘আমরা আসছি স্যার। সিলেট পৌঁছে আমি আবার আপনাকে ফোন দিবো। আপনি হাসপাতালের ঠিকানাটা একটু ম্যাসেজ করে পাঠিয়ে দিবেন তখন।’

- ঠিক আছে। এসো তোমরা। তবে সাবধান হয়ে আসবে। বাস মাঝে কোন ধাবা, বা রেস্টুরেন্টে ব্রেক করলে অন্যসব যাত্রীদের থেকে আলাদা কোথাও যাবে না। বৃষ্টির দিনে রাতের সিলেট মোটেও ভালো না। এছাড়াও সিলেটের চারিদিকে জঙ্গল। অনেক সন্ত্রাসীরা নিরিবিলি জায়গায় রাতে কাটানোর জন্য আস্তানা গেড়ে বসে।  তাই বলছি, সচেতন হয়ে থাকবে সারাক্ষণ।

- চিন্তা করবেন না স্যার। আমাদের কিছু হবে না। ভাইয়া আর ভাবীর খোঁজ পেলে আমাদের জানাবেন।

- অবশ্যই জানাবো। যদি তারা সুস্থ থাকে, তাহলে সকালেই ফিরে আসবে এমনটাই আশা করছি।

- জ্বি স্যার। আমি এখন রাখছি।

জ্যোতি ফোন রেখে দিলো। এদিকে বাস ও ছেড়ে দিয়েছে। চারিদিকে রাতের অন্ধকার আস্তে আস্তে গভীর হচ্ছে। বাইরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। আদিত্য জানালাটা আটকাতে গেলে জ্যোতি বাধা দেয়। আদিত্য জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে জ্যোতির দিকে তাকালো। জ্যোতি বলল, ‘এটা এভাবেই খোলা থাক। একমাত্র এই বৃষ্টির জলই পারবে আমার চোখের জলকে আড়াল করতে।’

আদিত্য প্রতিউত্তর দিলো না। জ্যোতির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, ‘চিন্তা করবেন না। আমি আপনার পাশে সবসময় আছি।’
জ্যোতির আদিত্যর বুকে মাথা রাখল। আদিত্য আবার হাত বুলিয়ে দিয়ে জ্যোতির কপালে একটা চুমু দিলো। এক হাত দিয়ে নিজের বুকে আঁকড়ে ধরে রাখল আদিত্য। জ্যোতির মনের অন্তরালে চাঁপা কান্নার আওয়াজ স্পষ্ট অনুভব করতে পারছে আদিত্য। জ্যোতি কাঁপছে। আদিত্য আরো শক্ত করে জ্যোতিকে নিজের বুকে আগলে রাখছে। জ্যোতির মনে এক অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করছে। বিশ্বাস করার মতো একজন কে পাশে পেলে জীবনে কোনো বাধা আসার আগেই তা সমাধান হয়ে যায়৷ বেশ কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর জ্যোতি বলল, ‘শুনছেন?’

- জ্বি, বলেন।

- ভাইয়ার পরে আপনিই একমাত্র ব্যক্তি, যে আমাকে এভাবে আগলে রাখছে। সেই ছোট থেকে ভাইয়ার সাথে থাকি। ছোট থেকেই ভাইয়া আমাকে এভাবে নিজের বুকে আগলে রেখেছে। আজ বড় হয়ে আমি আরো একজন কে পেলাম, যে নিজের সবটুকু আদর আর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে নিজের বুকে আগলে রেখেছে। একটা ঘর, যা  ইট আর পাথর দিয়ে তৈরি নয়। ঘরটা পরিপূর্ণ ভালোবাসা দিয়ে তৈরি। আর সেই ঘরে আমি একা বসে আছি। আপনার বুকটা আমার জন্য একটা ঘর। আমাকে চারিদিক দিয়ে আপনি ঘিরে রেখেছেন। যেকোনো বিপদ আসলে আপনি তা মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত। আমাকে রক্ষা করার জন্য দু'বারও ভাববেন না আপনি। জানেন, নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে আপনাকে।

আদিত্য মৃদু হাসি দিয়ে বলল, ‘শুভ ভাই বলেছিল, আগে নিজেকে বিশ্বাস করতে শিখতে হবে। তারপর আশেপাশের মানুষজন কে।’

- হ্যাঁ। আমি আগে নিজেকেই বিশ্বাস করি। তারপর আশেপাশের মানুষজনকে। এবং আমার নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখেই বলছি, এই পৃথিবীতে ভাইয়ার পরে আপনার এই বুকটাই আমার জন্য শ্রেষ্ঠ ঘর।

আদিত্য কিছু বলল না। আবার নীরবতা দু'জনের মাঝে। রাতের গভীরতা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। সেই সাথে গাড়ির গতি-ও। আদিত্যকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে জ্যোতি। গাড়ির ভিতরে লাইটের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে জ্যোতি বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।

এক-মুহূর্তের জন্যও ঘুমায়নি মেয়েটা। খুব যে ভয়ে আছে ও, তা চোখ আড়ায়নি আদিত্যর৷ মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ হয়ে যায় ওর। পরক্ষণেই আবার কাঁপুনি দিয়ে চোখ মেলে তাকায়। ভয়ে কুকড়ে যায়। আদিত্যর শার্ট খামচে ধরে রাখে। হয়তো চোখ বন্ধ করলেই শুভর ভয়ঙ্কর কোনো রূপ ওর সামনে ভেসে ওঠে। তাই সাথে সাথে কেঁপে ওঠে। মাঝরাতে সিলেটে পৌঁছে যায় ওরা। আদিত্য জ্যোতির কপালে একটা চুমু দিয়ে স্নেহশীল কণ্ঠে বলল, ‘মিস্টার জনকে একটু ফোন দিন জ্যোতি।’

জ্যোতি কোনো সাড়া দিলো না। আদিত্য পরপর আরো কয়েকবার ডাক দিলে, চোখ মেলে তাকায় জ্যোতি। আদিত্য আবার বলল, ‘মিস্টার জনকে ফোন দিন।’

জ্যোতি আশেপাশে ফোনটা খুঁজতে লাগল। কিন্তু পাচ্ছে না ও। আদিত্য বলল, ‘কী হয়েছে?’

- ফোনটা খুঁজে পাচ্ছি না।

- কী বলছেন? এটা কীভাবে সম্ভব? সন্ধ্যায়’ই তো মিস্টার জনকে ফোন দিলেন। আমি তো তখন ফোনটা আপনার হাতেই দেখেছিলাম।

- আমি বুঝতে পারছি না। মিস্টার জনকে ফোন করার পর ফোনটা আমার হাতেই ছিল সম্ভবত। কিন্তু এরপর যে কোথায় রেখেছি ফোনটা তা আমার মনে নেই।

- আমিও  তখনকার পর আর খেয়াল করিনি ফোনটা।

জ্যোতির চোখেমুখে চিন্তার ছাপ। আদিত্য বলল, ‘এখন কী করব তাহলে? আমরা তো হাসপাতালের নাম বা ঠিকানাটাওল, কিছুই জানি না।’

- আমিও সেটাই ভাবছি। মিস্টার জনের নম্বর তো আর মুখস্ত নেই আমার। আর ভাইয়ার অফিসের কারোর নম্বরও জানা নেই। মোবাইলে সেভ করা ছিল সব। কীভাবে বুঝব, মোবাইলটা এভাবে চুরি হয়ে যাবে? মনে তো হচ্ছে এই বাসের কেউ বিশেষ টেকনিক খাটিয়ে এই কাজটা করেছে।

- হয়তো। তবে সে এখনো বাসে বসে নেই। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত, মাঝে বেশ কয়েক ঘন্টা সময় পেরিয়ে গেছে। সুতরাং মোবাইলের আশা ছেড়ে দিন।

- তাহলে এখন কী করব আমরা?  কোথায় খুঁজবো মিস্টার জন কে? সিলেটে তো অনেক হাসপাতাল আছে।

- আগে স্ট্যাণ্ডে যেয়ে নিই, তারপর ভেবে দেখবো।

জ্যোতি কিছু বলল না। আদিত্যও চুপ করে রইল।

হঠাৎ বাসটা থেমে গেল। বাসের সবার মনে একটা আতঙ্ক। এইরকম জনশূন্য একটা জায়গায় বাস থামানোর কোনো কারণ'ই নেই। আদিত্যর বুক থেকে মাথাটা তুলে সামনের দিকে তাকালো জ্যোতি। আদিত্য বলল, ‘আপনি বসুন, আমি দেখছি কী হয়েছে।’

আদিত্য সহ আরো কয়েকজন সিট থেকে ওঠে ড্রাইভার এর কাছে গেল। ড্রাইভার বলল, ‘সামনের রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। পাহাড় ভেঙে পড়েছে রাস্তার উপরে। বাস আর সামনে যেতে পারবে না।’

আদিত্য বলল, ‘কিন্তু রাতের মধ্যেই গন্তব্যে যেতে হবে আমাদের। খুব দরকার।’

- আমার কী করার আছে ভাই?  সকালে পুলিশ এসে রাস্তা ক্লিয়ার করার ব্যবস্থা করবে। এরপর যেতে পারব আমি। তার আগে কিছুই করতে পারব না।

 কোনো উপায় না পেয়ে হতাশ হয়ে সবাই নিজের সিটে এসে বসল। জ্যোতি বলল, ‘এখন কী করব আমরা? আমাদের কাছে যে এত সময় নেই। একেই ফোন নেই সাথে। তার উপর দেরি হওয়ার কারণে মিস্টার জন যদি অন্য কোথাও চলে যায়, তাহলে খুব বিপদে পড়ে যাবো আমরা। ভাইয়াদের কোনো খোঁজ খবরই পাবো না।’

- আমি দেখছি কী করা যায়, আপনি বসুন।
আদিত্য আবার সিট থেকে ওঠে ড্রাইভার এর কাছে গিয়ে বলল, ‘অন্য কোনোভাবে এই বন্ধ রাস্তাটা ক্রস করা যাবে? আসলে রাতেই মধ্যেই আমাদের পৌঁছাতে হবে।’

- পাহাড়ের পিছন দিকে একটা জঙ্গল আছে। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে রাস্তার ওপাড়ে যেতে পারবেন।

- জঙ্গলের ভিতর গেলে কী কোনো সমস্যা হবে?

- আমার জানামতে জোক ছাড়া কিছুই নেই জঙ্গলে। দিনের বেলায় তো অনেকেই যাতায়াত করে। রাতে অবশ্য নিরিবিলি থাকে।

- ঠিক আছে।

আদিত্য জ্যোতির কাছে এলো। জ্যোতিকে নিয়ে বাস থেকে নেমে পাশের জঙ্গলে ঢুকে পড়ল আদিত্য। মধ্যরাত। বৃষ্টি অনেকক্ষণ আগেই থে গেছে। আকাশে তারা জ্বলজ্বল করছে এখন। চাঁদ তার নিজস্ব আলো সাথে নিয়ে দেখা দিয়েছে।
জোৎস্নার আলোয় জঙ্গলটা আবছা আবছা দেখা যাচ্ছে। নিশ্বব্দে হেঁটে যাচ্ছে দু'জন। হঠাৎ কিছু মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা গেল। জ্যোতি ভয় পেয়ে আদিত্যর হাত চেপে ধরল। আদিত্য জ্যোতিকে ইশারায় বলল কথা না বলতে। 

চুপ করে কথাগুলো শোনার চেষ্টা করছে আদিত্য। ওর মনে হচ্ছে ওরা ছাড়াও আরো কয়েকজন মানুষ আছে এই জঙ্গলে। বেশ কয়েকজনের কণ্ঠস্বর'ই শুনতে পেলো আদিত্য। জ্যোতিকে ধরে গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল আদিত্য। জ্যোতি আদিত্যকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। চোখ মেলে কোনোদিকে তাকাচ্ছে না ও। আদিত্য নিজেও কিছুটা ভয়ে আছে।

(চলবে...)
আরো পড়ুন ‘অদ্ভুত নিয়তি’-এর ১৬তম পর্ব -
ধারাবাহিক উপন্যাস : অদ্ভুত নিয়তি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড