• শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধারাবাহিক উপন্যাস : দ্যা গেম (১৯তম পর্ব)

  রোকেয়া আশা

২৩ মার্চ ২০২০, ১২:৫২
কবিতা
আমি ব্লু হোয়েল বা অন্য কোন ভার্চুয়াল রিয়ালিটি গেম খেলছি না (ছবি : প্রতীকী)

সে অন্ধকারে নিজের ল্যাপটপ নিয়ে কিছু একটা করছে। চোখে একটা রিমলেস চশমা। অপ্রয়োজনীয় যদিও। চোখের সমস্যা নেই তার তারপরও বাদামী চোখদুটো কম্পিউটারের সামনে বসলে চশমায় ঢেকে নেয় সে। পিতৃসূত্রীয় অভ্যাস। 
- বলো আইজ্যাক!
তার কানে হেডফোন। সেখানে আইজ্যাকের কণ্ঠ ভেসে আসে, ভারী পুরুষকণ্ঠ। 
- সমস্যা হয়ে গেছে একটা।
- কিসের সমস্যা?
- আগামীকাল সন্ধ্যে নাগাদ এমনিতেও সবাই জেনে যাবে। সেউলের ল্যাব থেকে ভাইরাসটা এক্সপ্লোড করেছে।
আইজ্যাকের কথা শুনে এপাশে ছোট করে একটা শ্বাস ফেলে বলে, ‘জানতাম। এমন কিছু একটাই চাচ্ছে ওরা। কোরিয়ায় ভাইরাস সংক্রমণ থাকবে কিছুদিন। আইওয়াশের জন্য। কিন্তু আমি নিশ্চিত, এদের টার্গেট এখন বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল আর পাকিস্তান।’
- আর ভারত?
- এখনই বুঝতে পারছি না। ভারত হতে পারে, নাও পারে।
- মাঝখান থেকে তাহলে কোরিয়ানগুলোকে মারার দরকার কি ছিলো?
- নো আইজ্যাক! ইট ইজ দ্যা গেম। আমরা কেন ইয়ুন দুয়োকে এটাক করলাম তাহলে?
আইজ্যাক চুপ হয়ে যায়।
- আইজ্যাক?
- বলো।
- আমার বাবা তোমার নাম আইজ্যাক কেন রেখেছিলো জানো?
- আইজ্যাক আসিমভের নামে। তার প্রিয় লেখক৷
- রুশ নাম। তোমার কি নিজেকে রুশ মনে হয় না কখনো?
আইজ্যাক বলে, ‘আমার কোন জাতীয়তা নেই৷’
- গুড। তাহলে রুশ মাদারচোদটাকে একটু টাইট দিতে হবে এইবার।"

- প্রফেসর পেত্রানোভ?
ডাক শুনে বৃদ্ধ চোখ তুলে তাকায়। বয়সী, ধবধবে সাদা চুল। চেহারা ভোলাভালা হলেও চোখ দুটোতে নিষ্ঠুরতার ছাপ বোঝা যায় মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করলে। 
- কিউর কি তৈরি করতে পারবেন?
পেত্রানোভের চোখেমুখে কৌতুক ফুটে ওঠে;
- কিউর দিয়ে কি হবে? রাশিয়া তো আর আক্রান্ত হচ্ছে না।
- কিউর তো কমার্শিয়ালভাবে ব্যবহার করতে পারি আমরা৷ এফেক্টেড দেশগুলোতে বিক্রি করবো।
পেত্রানোভ বললো, ‘এইসব বালছাল আলাপ বাদ দেন। রুশ মিনিস্ট্রি যে আদৌ এইসব ঔষুধ বিজনেস নিয়ে ভাবে না সেটা আমি জানি। একটু থেমে সামনের ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে সম্বোধন করে, ‘মিস্টার সকোলভ।’
ইভান সকোলভ ভ্রু কুঁচকে তাকায় পেত্রানোভের দিকে।
- ঠিকই বলছেন প্রফেসর। আমি কিউর নিয়ে ভাবছি দুটো কারণে। এক, রাশিয়া যাতে কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য আগে থেকেই কিউর রেডি রাখা দরকার। দুই, আমার ধারণা; হামাজিয়ান রাম বলে যেই শুয়োরের বাচ্চাটা আমার কনটেস্টটাকে স্যাবোটেজ করছে, সে এশিয়ান। ওকে খাচায় ধরতে হলে আমার হাতে কিউরটা থাকা লাগবে।
- সাইবার ওয়ার্ল্ড নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই মিস্টার সকোলভ। হামাজিয়ান রাম যা খুশি করুক। তবে কিউরটা বানানোর চেষ্টা আমি করছি। আমার টিমও করছে। সিটান থারটিনে রাশিয়া যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা আমিও চাই।

প্রফেসর পেত্রানোভের ল্যাব থেকে বের হয়ে ইভান সকোলভ তার নতুন সেডানে চেপে মিনিস্ট্রির দিকে যাচ্ছে। কোরিয়ায় সিটান থারটিন নামের যে ভাইরাসটিকে রুশ হিয়ারার্কির নির্দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার ভয়াবহতা কোরিয়া টের পাবে আরও আটচল্লিশ ঘন্টা পর। খুব সূক্ষ্মভাবে করা হয়েছে কাজটা। সেউলের যেই ল্যাবরেটরিতে ভাইরাসটা এক্সপ্লোড করেছে, তার সাথে রাশিয়াএ কোনরকম কোন যোগাযোগ বের করা অসম্ভব। ল্যাবটার ফাউন্ডিং ডিরেক্টর দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন, কেউ যদি কন্সপিরেসি থিওরির দিকে যায়ও, ভাববে এটা যুক্তরাষ্ট্রের কাজ। আর এমনিতে, সেউলে ইদানীং হরিণের মাংস বেচাকেনা হচ্ছে প্রচুর। সিটান থারটিনের প্রোটিন অনুর কোডিং সাজানো হয়েছেই এমনভাবে, যেটা হরিণকে আক্রান্ত করবে সহজে। এবং মানুষকেও। কিন্তু, কোরিয়ান বিজ্ঞানীরা ভাবতে শুরু করবে, ভাইরাসটা এসেছে হরিণ থেকে। 

স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে মুচকি হাসে ইভান। আইটি বিশেষজ্ঞ হলেও, যার স্ত্রী ছিলেন একজন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার। রুশ হিয়ারার্কির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মিলেভা সকোলভা। আঠারো বছর আগে, এই পরিকল্পনা মিলেভাই করে গেছিলো।

আরও পড়ুন : ধারাবাহিক উপন্যাস : দ্যা গেম (১৮তম পর্ব)

- মিস ইয়ুন দুয়ো, ইন্ডিয়ান মেয়েটাকে আপনি দেখলে চিনবেন?
অফিসার প্রশ্ন করে। আগেরদিন মেয়েটি আর কোন কথা বলতে পারে নি। অফিসার এরমধ্যেই লিলিয়া ইনে এসে আরেকদফা জিজ্ঞাসাবাদ করে গেছে, শিল্পা খুরানার মার্ডার কেস নিয়েও কাজ শুরু করেছে। 
ইয়ুন দুয়ো মাথা নাড়ায়। চিনতে পারবে। 
অফিসার পাঞ্চালীর ছবি দেখায়। ইয়ুন দুয়ো মাথা নাড়ে। এরপর শিল্পার ছবিটা দেখাতেই কেঁপে ওঠে। 
- ইট ইজ হার! ফুঁপিয়ে ওঠে মেয়েটি। 
মানে টা কি! তরুণ অফিসারের ভ্রু কুঁচকে যায়। শিল্পা খুরানা, ইয়ুন দুয়োকে মারার চেষ্টা করেছে; আর এখন সে নিজেই খুন হলো?

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড