• শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধারাবাহিক উপন্যাস : দ্যা গেম (১৮তম পর্ব)

  রোকেয়া আশা

১১ মার্চ ২০২০, ১২:৫৬
গল্প
আমি ব্লু হোয়েল বা অন্য কোন ভার্চুয়াল রিয়ালিটি গেম খেলছি না (ছবি : প্রতীকী)

মাশা একটা লম্বা দম নেয়। সম্ভবত ওর উচিত বাবার সাথে সবটা শেয়ার করা। 
- আমি ব্লু হোয়েল বা অন্য কোন ভার্চুয়াল রিয়ালিটি গেম খেলছি না বাবা।
ইভানের মুখ থেকে মেঘ সরে না তাও। 
- তাহলে তুমি ভোরে কবরস্থানে গিয়েছিলে কেন? 
মাশা বড় বড় চোখে বাবার দিকে তাকায়। তারপর চোখ নামিয়ে ফেলে। যেই চোখে পানি টলমল করছে। 
- আমি শুধু জোশেফের কবরের কাছে গিয়েছিলাম বাবা। আমি ওকে ভালোবাসতাম! ভালোবাসি!
ইভান অবাক হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। বিশ বছর বয়স হয়েছে মাশার। তবুও মেয়েকে এতদিন ধরে ছোটটিই ভেবে গেছেন ইভান। তার ছোট্ট মাশা যে এখন তরুণী, সেসব খেয়ালই করেননি। মেয়েটার জীবনেও প্রেম এসেছিলো? কিন্তু মেয়েটাও কেন প্রেমকে আজীবনের জন্য হারিয়ে ফেলার কষ্টটা পেলো? ইভানের মতো? 
ইভান কিছু না বলে এগিয়ে গিয়ে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে। মাশা শিশুবেলার মতো করেই বাবাকে আঁকড়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে। 

সকাল হতেই রুশ পুলিশ আবারও চলে আসে লিলিয়ায়। 
দীপ্তরা সবাই একসাথে বসেছে আজ। আগেরদিন মিশু, মাহিরা ছিলো না। 
‘ থ্যাংক ইউ।’ একজন অফিসার এসে হাত মেলায় দীপ্তের সাথে। 
দীপ্ত একটা মুহূর্ত অফিসারের চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে তারপর মুচকি হাসে। 
বাকিরা কেউ বুঝে উঠতে পারে না, ঘটনাপ্রবাহ আসলে কোনদিকে যাচ্ছে। দীপ্ত বাকিদের দিকে তাকিয়ে ‘একটু আসছি’ বলে অফিসারের সাথে বেরিয়ে যায়। 
‘দীপ্ত কি করছে আসলে?’
সুমন প্রশ্ন করে। 
আয়েশার মুখেও চিন্তার ছাপ। 
‘জানিনা। গতকালও হুট করে ওই পুলিশটার সাথে চলে গেলো। কি যে করছে কিছু বুঝতেও পারছি না।’
আবারও নীরবতা। এরকম একটা ঘটনার পরে হোটেল স্টাফরাও বাড়াবাড়ি রকমের চুপচাপ হয়ে গেছে। ওরা ছয়জন লবিতে যেই সোফাগুলোয় বসে আছে তার থেকে কিছুটা দূরেই রিসিপশনের টেবিল। রিসিপশনের মেয়ে দুটো গলা একদম খাদে নামিয়ে কথা বলে নিজেদের মধ্যে। কিসের ভয় ওদের? 
দীপ্ত ফিরে আসে কিছুক্ষণের মধ্যেই। এসে কোন রাখঢাক ছাড়াই সরাসরি ওদের জানায়, 
‘পোস্টমর্টেম নিয়ে ঝামেলা হবে জানা কথা। আমি তাই গতকাল ওদের বলেছিলাম শিল্পার ব্লাড স্যাম্পল নিয়ে গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি করতে। এটুকুতে কোন লিগাল ঝামেলা হওয়ার কথা না।’
‘ব্লাড তো ...’ তারিকুল কথা শেষ করতে পারে না; দীপ্ত আগেই বলতে শুরু করে, ‘লিকুইড স্যাম্পল ছাড়াও গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি করা যায়।’
মাহিরা প্রশ্ন করে, ‘সেটা কি? আর কেন করে?’
দীপ্ত ব্যাখ্যা করতে শুরু করে- শিল্পার ডেডবডিতে কোন ভিজিবল জখম তো আমরা দেখিনি। হতে পারে হয়তো ও ন্যাচারাল কোন কারণে মারা গেছে। আর যদি ব্যাপারটা এমন হয়, যে এটা আসলে একটা খুন, তাহলে দু’টা সম্ভাবনা থাকে। হয়তো মুখে বালিশ চাপা দিয়ে খুনটা করা হয়েছে, আর নয়তো বিষ দিয়ে।’
সবাই জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে দীপ্তের দিকে। 
- এখন, যদি বিষ দিয়ে মারা হয়, সেক্ষেত্রে যেকোনো বিষই ধরা পড়বে একমাত্র গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি টেস্টে। কারণ, কিছু কিছু বিষ আছে যেগুলো গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি ছাড়া ধরা যায় না। 
কিছুক্ষণ সবাই চুপ থাকে। তারপর সুমন জিজ্ঞেস করে, ‘শিল্পাকে তাহলে বিষ দিয়ে মারা হয়েছে বলছিস?’
‘হ্যাঁ। এবং সেটা একোনাইট দিয়ে। খুনী অসম্ভব ধূর্ত। একোনাইট দিয়ে মানুষ মারার আইডিয়া যার তার মাথায় আসবে না।’
দীপ্ত একনাগাড়ে কথাগুলো বলে থামে। আয়েশা প্রশ্ন করে এবার; ‘একোনাইট কি জিনিস সেটা জানিনা। মারাত্মক কোন বিষই হবে হয়তো। কিন্তু তোর মাথায় এটার কথা কেন আসলো?’
- একোনাইট হবে তা ভাবিনি। বললামই তো ; বিষ দিয়ে কিংবা মুখে বালিশচাপা দিয়ে মারা হয়েছে ভেবেছিলাম। এজন্যই পুলিশকে বলেছিলাম গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি করাতে। 
- কিন্তু, তায়ে হির সাথে তো আর কথা হয়নি আমাদের। " পাশ থেকে মাহিরা মনে করিয়ে দেয়। 
বাকিদেরও খেয়াল হয় তখন। আগের দিন শিল্পার ডেডবডি পাওয়ার সাথে সাথেই পুরো হোটেলে হুলস্থুল লেগে গিয়েছিলো। তায়ে হির সাথেও তাই আর কথা হয় নি। 
- হ্যাঁ। ওর সাথে কথা বলা দরকার।  দীপ্ত সায় দেয়। 

ইভান সকোলভের কাছে ফোন আসে সকাল আটটায়। ইয়ুন দুয়োর জ্ঞান ফিরেছে। পুলিশের সাথে ইভানও তখনই হাসপাতালে চলে যায়। ইয়ুন দুয়োর স্টেটমেন্ট নেওয়া হবে। কেবিনে আকাশী পর্দা দেওয়া জানালায়। ইভান সেদিকে তাকিয়ে ভ্রু কোঁচকায়। হাসপাতালের কেবিন মানে সব ধবধবে সাদা হবে। আকাশী পর্দা কেন! ইয়ুন দুয়োর বিছানার বেডশিট আর বালিশের কভার অবশ্য সাদা। বেডসাইড ছোট টেবিলও আছে একটা। তাতে কাচের গ্লাস, জগ আর রাজ্যের ওষুধের বোতল, ট্যাবলেটের পাতা। কয়েকটা উইশকার্ডও আছে। ফুল নেই কোন। ডাক্তাররা এলাউ করে নি। 
‘ও কথা বলার মতো অত সুস্থ না। বেশি স্ট্রেস দেবেন না ওকে।’ ডাক্তার কথা বলে। ইভান ডাক্তারের দিকে তাকায়। খুবই অল্প বয়সী তরুণ৷ নীল চোখ, বাদামী চুল। 
ইভানের পাশে থাকা পুলিশ অফিসার মাথা ঝাঁকায়। দু’জনেই কেবিনের দরজায় দাঁড়িয়ে। ভেতরে ঢোকার আগে ডাক্তার কিছু নির্দেশ দিচ্ছিলেন। 
ডাক্তারের কথা শেষ হলে ইভান, অফিসার আর ডাক্তার; তিনজন ইয়ুন দুয়োর কাছে যায়। 
‘ইয়ুন দুয়ো, কেমন আছেন?’
অফিসার হাসিমুখে প্রশ্ন করে। 
জবাবে মেয়েটি বহুকষ্টে ঠোঁট বাকিয়ে হাসে কেবল। 
‘সরাসরি কাজের প্রশ্ন করুন অফিসার। ও বেশি কথা বলার অবস্থায় নেই।’
ডাক্তারের কঠিন গলা শুনে অফিসার মুখ কালো করে ফেলে। তবে দ্রুত সামলেও নেয়। 
‘আপনাকে কে এটাক করেছিলো? কিছু মনে করতে পারেন?’
ইয়ুন দুয়োর মুখ ম্লান হয়ে যায়, ভয়? 
খুব অস্ফূটে, প্রায় শোনাই যায় না মতো ইয়ুন দুয়োর ঠোঁট থেকে দুটো শব্দ বেড়িয়ে আসে;
‘ইন্ডিয়ার গার্ল।’

আরও পড়ুন : ধারাবাহিক উপন্যাস : দ্যা গেম (১৭তম পর্ব)

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড