• রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পাণ্ডুলিপির কবিতা

দেয়ালের মুখোশ দেখতে দেখতে ক্লান্ত আমি

  রিক্তা রিচি

২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:০৭
কবিতা
প্রচ্ছদ : কাব্যগ্রন্থ ‘রোদের গ্রাফিতি বোঝে না রক্তাক্ত বুলেট’

অভিমান জমে থাক রাতের ত্রিভুজে 

তোমাকে কতদিন দেখি না। নক্ষত্রের ট্রাঙ্কে দুঃখগুলো জমা দিলাম। তারপরেও তোমাকে দেখিনি।

অভিমানে ঝরে পড়ে কত ফুল, কত তারা নিভে যায় রাতের ত্রিভুজে।
কতশত ঝর্ণারা করে আত্মদহন। কত নদী নীরবে চোখ মুছে। 

পরেও তুমি ধরা দাওনি। তোমাকে দেখিনি। অভিমানগুলো খসে খসে জল হয়, জল ঝরে সমুদ্রের লোনাজলে। 

অভিমান আলগোছে জমে থাক রাতের ত্রিভুজে।

বিষাদের দ্রাঘিমারেখা 

কেবল জল জানে বিষাদের দ্রাঘিমারেখা।
ব্যথাগুলো কাপড় তো নয়, সুই-সুতায় সেলানো যাবে।
কাদা মাটিও নয়, যা রোদের তাপে শুকিয়ে যাবে।


ক্যামেলিয়ার ফেনার মতো বিশ্বাস 

চোখের ঠিক বাইরে অসংখ্য জোনাকির মেলা
হাতের খানিকটা দূরে অসংখ্য সবুজ প্রজাপতি নেচে বেড়ায়, গান গায়।
বাড়ির ঠিক পাশেই পাহাড়ের সারি নবান্নের ধানের মতো আমাকে ডাকে
কিন্তু ফিরে তাকাতে ভয় হয়।
পায়ের অনেকটা কাছে ছুটে আসে নদী, আমি ভেজাতে পারি না পা। 
দেখতে পারি না জোনাকির আলো। শুনতে পারি না প্রজাপতির গান।

দেয়ালের মুখোশ দেখতে দেখতে ক্লান্ত আমি!
পোশাকি সত্যের থাবায় প্রকৃতরা ডাইনোসরের মতো বিলীন হয়ে গেছে।

শিউলি গাছের শীর্ষ ডালে আমার দুঃখেরা জমে থাকে।
কাঠবেলিও তা জানে।
ক্যামেলিয়ার ফেনার মতো বিশ্বাস উড়ে যায়।
জীবন তো কেবল দশ সেকেন্ডের ভ্রমণ। যা কেবল মৃত্যুর পরেই অনুধাবন করা যায়।
অথচ জীবনের সাজে সেজে ওঠে কত্ত তাসের ঘর! ধাতব গয়না!

কানের পাশে অসংখ্য শকুন মৃত্যুর গান শোনায়। নিছক অবহেলিত জীবনের চেয়ে মৃত্যু ঢের শ্রেয় জেনেও এর দড়িতে ঝুলাতে পারি না আত্মাকে।
আত্মারা কেবলই সততার বীজ বোনে।


ঘুণে খায় বিবেকের প্রজাপতি 

এক হাজার এক নম্বর রুমের ডাবল চৌকি, পড়ার টেবিল ও দেয়ালের আস্তরণে ভাসে কেবল আবরার ফাহাদের স্মৃতির ঊর্ণনাভ। 
ঝিম ধরা নগরীর বুকে কেবলই রাক্ষসের আখরা।
দিন দুপুরে শকুনেরা পরে সোনালি মুখোশ।

বিবেকের নীল প্রজাপতি যখন ঘুণপোকা খায় 
কাঁঠাল কাঠের মতো,
তখন মানুষের পোশাক পরে কিছু জন্তু মানুষ সাজে। 

তাইতো রাতজাগা বারান্দায়, লাশ হয় ফাহাদ
কার্তিকের ভোর দেখার আগেই।
কেউ কেউ গাছ খায়, কেউ কেউ গরম রক্তের ঢেউ
পৃথিবীটা কেবলই গ্রাফিতি আঁকে, সবুজ বীজের চারা খেয়ে।

নষ্ট জন্মের বুকে থু থু ছিটিয়ে যে চলে যায় বিপ্লবের পথে
সে-ই জেতে, অন্যরা বাঁচে জীবিত কবরে শুয়ে শুয়ে।


মস্তিষ্কের ভীষণ ক্ষুধা

মস্তিষ্কের ভীষণ ক্ষুধা
পিয়াসে ফেটে চৌচির প্রান্তরের মতো
চাই গলা ভেজানো দুধ চা আর নবাবি লেক্সাস বিস্কুট। 
মাঝে মাঝে পেয়ালা ভরা সবুজ চায়েও ভেজে ঠোঁটের গণিত।  

নদীর ঢেউ জানে মস্তিষ্কের নামতা, সূত্রের সকল মিছিল।
শুধু আমি ও আমরা বুঝি না, চিনি না হৃদয়ের রাসুল।  
রোদের বোবা নিউরনও বোঝে কামুক ঠোঁটের ভাষা, পাটখড়ির মতো চড়ুইও জানে আমার ক্ষুধা।
জানে ঘাটে বাঁধা ডিঙি, লেকে চড়া বোবা বোট ও শাদা কবুতরের ঝাঁক। 
মস্তিষ্কে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে বেঁচে আছি,
আর হৃদয়ে পাথর
ভুলে গেছি জীবন, প্রেম স...ব
পাঁচ কোটি বছর তোকে না দেখার আর্তনাদে
মুছে গেছে চোখের সোনালি আলো। 
এখন, আমি আর দিন দেখি না। 
দেখি তুই ও তোদের দূষিত বিবেক।
দেখি নিভে যাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক মোম।

আরও পড়ুন : কথা ছিল আমি হবো তোমার দীর্ঘতম প্রতীক্ষা

ওডি/এসএন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড