• বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

ইচ্ছা আর আত্মবিশ্বাসের মোড়কে সাজানো মৌ এর ‘সিন্দুক’

২০ জুলাই ২০১৯, ১২:৪৬
সিন্দুক
নিজের ডিজাইন করা শাড়িতে মৌ

ছোটবেলায় আমরা বহুবার পড়েছি, ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়’। মানুষের কত রকমেরই তো ইচ্ছা হয়। কেউ চায় বাঁধনহারা হয়ে ঘুরতে, কেউ চায় কিছু বানিয়ে সবাইকে চমকে দিতে। আবার কেউ কেউ চায় সবকিছুর বাইরে নিজের একটি পরিচয় দাঁড় করাতে। 

ইচ্ছা যাই হোক, পথ চলার জন্য নিজের আত্মবিশ্বাস লাগে। আর তার পাশাপাশি চাই কাছের মানুষগুলোর ভালোবাসা। যাদের জীবনে দুটোই মেলে, তারা ভাগ্যবান বটে। রাজশাহীর মেয়ে রিদওয়ান তাহরীমা ইসলাম মৌ তাদেরই একজন। নিজের ইচ্ছা আর কাছের মানুষদের ভরসাতে শিক্ষার্থী পরিচয়ের পাশাপাশি যিনি দাঁড় করিয়েছেন নিজের আরেকটি পরিচয়। জি, বর্তমানে তিনি একজন উদ্যোক্তাও।

কীভাবে এলেন ব্যবসায়, কী নিয়েই বা ব্যবসা করছেন সবকিছু নিয়ে গল্প হয় তার সঙ্গে। মূল পেশায় এখনো শিক্ষার্থী মৌ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে মাস্টার্সে পড়ছেন তিনি। এর পাশাপাশি দেড় বছর ধরে দাঁড় করিয়েছেন নিজের উদ্যোক্তা পরিচয়। ‘সিন্দুক’ নামের একটি অনলাইনভিত্তিক পোশাক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তিনি। 

মৌ বলেন, ‘একজন স্টুডেন্ট হওয়ার পাশাপাশি নিজের একটা পরিচয় দাঁড় করাতে চাচ্ছিলাম। এর পাশাপাশি আর্থিক স্বাবলম্বিতাও চাইছিলাম। দুটো মিলিয়েই ব্যবসায় আসা। তবে হুট করে ব্যবসায় এসে যে ব্যবসায়ী হয়ে গেছি ব্যাপারটা এমন নয়। শুরুর পথটা এতটা মসৃণ ছিল না।’

সিন্দুকের কিছু পোশাক 

কেমন ছিল শুরুর পথটা? কীভাবেই বা শুরু হলো পথ চলা। জানতে চাইলে মৌ বলেন, প্রতিটি মানুষেরই অনেক স্বপ্ন থাকে। আমার চোখেও নিজেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। বাসা থেকে প্রতিমাসে পড়াশোনা আর হাতখরচের টাকা পাঠাত। আমি হাত খরচের টাকা থেকে অল্প অল্প করে টাকা জমাই। সেই জমানো টাকা দিয়েই শুরু হয় আমার স্বপ্নের সিন্দুকের পথ চলা। শুরুতে অনেক চিন্তা ছিল, ভয় ছিল। মানুষ কীভাবে গ্রহণ করবে, আদৌ করবে কি না। শুরুতে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল। তবে বর্তমানে নিজের প্রতিষ্ঠানকে মোটামুটি দাঁড় করাতে পেরেছি বলা যায়।’

সিন্দুক বলতেই আমাদের মাথায় আসে যত্ন করে রাখা কিছু। একটা সময় দামি পোশাক বা গয়না সিন্দুকে ভরে রাখতেন নারীরা। মৌ এর প্রতিষ্ঠানের নাম শুনে সেই কথাই মনে পড়ে গেল। ভাবনার কথা জানাতেই মৌ বললেন, ‘সত্যিকার অর্থে এমন ভাবনা থেকেই আমার পেজের নাম ‘সিন্দুক’ রাখা। ব্যবসা শুরু করার সময় ভাবছিলাম পেজের নাম কী রাখব। ঠিক সেসময় আমার নানুর বাসায় যাওয়া, সেখানে একটি সিন্দুক দেখতে পাই। পুরোনো দিনের মানুষগুলো তাদের নিত্যকার পোশাক, জিনিসপত্র, গয়না সবকিছুই সিন্দুকে রাখেন। সেই থেকেই মাথায় আসলো নিজের প্রতিষ্ঠানের নাম রাখব ‘সিন্দুক’। কারণ যত্ন করে তৈরি করা পোশাকই মানুষ পাবে এখানে।’

সিন্দুক

সিন্দুকের ডিজাইন করা কিছু শাড়ি

দেশের ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়েই ‘সিন্দুকের’ বেড়ে ওঠা। এখানে পাওয়া যাবে নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি ব্লক, বাটিকের শাড়ি, ব্লকের জামা। আরও পাবেন হাতের কাজের পোশাক, কুর্তি, কামিজ, থ্রিপিস ইত্যাদি। কম লাভে নিজের ডিজাইন করা পোশাক সবার হাতে পৌঁছে দিতে চান মৌ। তাই সিন্দুকের পোশাকগুলোর দামও নির্ধারণ করা হয় সহজলভ্য হিসেবে। 

‘সিন্দুককে’ ঘিরে অনেক ভালোলাগার স্মৃতি রয়েছে মৌর। তিনি বলেন, ‘আমার ব্যবসা ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো লাগার অনুভূতি হলো সবার অভিবাদন। পরিবার থেকে শুরু করে আশেপাশের সবাই আমার কাজকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করে। একটি কমিউনিটিতে আমার কাজকে মূল্যায়ন করা হয়, এই স্মৃতিও রয়েছে ভালোলাগার ঝুড়িতে। এছাড়াও একবার একজন নারী রিপ্রেজেন্টার হিসেবে রাজশাহীর একটি লোকাল কমিউনিটি রেডিওতে নারীদের কর্মসংস্থান, স্বাবলম্বিতা নিয়ে কথা বলেছি, যেটা ছিল অন্যরকম এক ভাললাগার স্মৃতি।’

মৌ মনে করেন, অনলাইন ব্যবসা করতে হলে মানসিকভাবে প্রচণ্ড শক্তিশালী ও ধৈর্যধারণের মানসিকতা থাকতে হয়। সেসঙ্গে থাকতে হয় আত্মবিশ্বাসও। প্রতিটি কাজেই ভালো ও খারাপ সময় থাকে। সেটিকে মানিয়ে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

ভবিষ্যতে ফেসবুক পেজ থেকে ‘সিন্দুক’ এর ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়বে ওয়েবসাইটে। এমনটাই চান মৌ। ক্রেতারা যেন স্পর্শ করে, বাছাই করে নিজের পছন্দের পোশাক কিনতে পারেন তার জন্য একটা শো রুমও দিতে চান তিনি। 

‘সিন্দুক’ এর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক- Shinduk

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড