• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ আগস্ট ২০১৯, ১২:৪১
এস জয়শঙ্কর
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (ছবি : সংগৃহীত)

অবৈধ অভিবাসনসহ দীর্ঘ দিনের অসমাধিত তিস্তাসহ ৫৪টি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনায় বসতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম বিদেশ সফর। 

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রকাশিত খবরে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, দুই দিনের সফরে আগামী ২০ আগস্ট ঢাকা আসবেন জয়শঙ্কর। 

এ সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ অভিবাসন, কানেক্টিভিটি, রোহিঙ্গা সঙ্কট এবং দীর্ঘ দিনের অসমাধিত তিস্তাসহ ৫৪টি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।

সম্প্রতি নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জয়শঙ্কর। এছাড়া তাজিকিস্তানে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকেও মিলিত হয়েছেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত তিন বছরে উভয় দেশ ৬০টির মতো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের পুরনো সীমান্ত ও সমুদ্রসীমা বিরোধের সমাধানও হয়েছে এই সময়ের মধ্যে। তবে তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুটির এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

আসন্ন শীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগে ঢাকা আসছেন জয়শঙ্কর। টানা তৃতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণের পর এটাই হবে শেখ হাসিনার প্রথম ভারত সফর।

এর আগে গত ৬ আগস্ট তিন দিনের সফরে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর করেন। সফরে তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার বিষয়ে তেমন কোনো সমাধান না হলেও সীমান্তের পুরোটাতেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা জানায় অমিত শাহ্। 

বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল উভয় দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোসহ সীমান্তে চোরাচালান, সীমান্তে পাচার, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, জাল মুদ্রা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়ে আলাপ আলোচনা। 

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারত বাংলাদেশিদের অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে তা ঠেকাতে সীমান্তে বাংলাদেশকে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। এছাড়া ভারত সীমান্তের পুরোটাতেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে চায় বলে জানিয়েছে।

ভারতের আনা অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জবাবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কোনো বাংলাদেশি ভারতে যায় না। যারা যায় তারা ভিসার মাধ্যমে যায়। এছাড়া তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘আমাদের দেশ থেকে তোমাদের দেশে বেড়াতে যায়, চিকিৎসা সেবা নিতে যায় বা শিক্ষা সফরে যায়। নেক্সটডোর নেইবার (প্রতিবেশী) তোমরা, সেজন্যই যায়।’ 

সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘আইন অনুযায়ী করা হলে তাতে বাংলাদেশের আপত্তি করার কিছু নেই। জয়েন্ট বাউন্ডারি অ্যাক্ট অনুযায়ী যেভাবে আগে তারা করেছে সেভাবেই বাকিটা করলে আমাদের অসুবিধা নেই।’

এ দিকে অনুপ্রবেশ ইস্যু যৌথ বিবৃতিতে রাখার বিষয়ে ভারত বাংলাদেশকে এক ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছে বলে সফররত বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন। 

তারা বলেছেন, অনুপ্রবেশ ইস্যু যৌথ বিবৃতিতে রাখার ব্যাপারে ভারতের দিক থেকে একটা চাপ তৈরি করা হয়েছিল। দিল্লীর বৈঠকে এসব আলোচনা হলেও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কোনো ঐকমত্য না হওয়ায় কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি। দুই দেশ আলাদা আলাদাভাবে বক্তব্য তুলে ধরেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যদিও অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি এবার বাংলাদেশ এবং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে বৈঠকের আলোচ্য-সূচিতে ছিল না, কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের গুরুত্ব দিয়ে তোলা হয়। তবে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বাংলাদেশ ভারতের বক্তব্য গ্রহণ করেনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতকে জানিয়েছেন, ‘অনুপ্রবেশের ব্যাপারে তারা যেটা আমাদেরকে বলছেন, যেটা ওনারা বলতে চাচ্ছেন, যে তোমাদের দেশ থেকে তো বহুলোক আসে। আমি সেখানে বলেছি, আমাদের দেশ থেকে এখন আর অবৈধভাবে যায় না। ভিসা নিয়েই যায়। অবৈধভাবে যাওয়ার কোন প্রশ্ন আসে না কারণ আমাদের দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে গেছে। প্রবৃদ্ধি বেড়ে গেছে।’

ভারতের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত বছর ২৩ লক্ষ লোক বৈধভাবে গিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তারাই স্বীকার করলেন, গত বছর নাকি আমাদের ১৪ লক্ষ লোককে তারা ভিসা দিয়েছেন। আর মাল্টিপল ভিসা দেওয়া ছিল। সব মিলিয়ে ২৩ লক্ষ বাংলাদেশের নাগরিক গত বছর ভারত গিয়েছিল।’ 

এছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে পশ্চিমবাংলায় সামনের বিধানসভা নির্বাচনের সময় সীমান্তে নজরদারির জন্য বাংলাদেশকে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, ‘ওনারা (ভারত) বলছিলেন যে, পশ্চিমবাংলায় ইলেকশন হবে, সেই সময় বর্ডারটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। আমি বলেছি, বর্ডার আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ্ ভারতে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত ও বহুবার দিয়েছেন। এছাড়া প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে ভারতে ভোটের প্রচারে নেমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন, ক্ষমতায় এলে তার সরকার অবৈধ বাংলাদেশিদের লোটাকম্বল নিয়ে ফেরত পাঠাবে।  

ওডি/এআর 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড