• বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন মোদী

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ মে ২০১৯, ১৬:০৮
নরেন্দ্র মোদী
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এনডিএ জোট থেকে সমর্থন নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। (ছবিসূত্র : দ্য ইন্ডিয়া টুডে)

ভারতের সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের পর টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের দিকে হাঁটছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। যে কারণে নরেন্দ্র মোদীকে আবারও দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে নিয়োগ দিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ।

রবিবার (২৬ মে) এক টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোবিন্দ বলেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদীকে তার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামের তালিকা ও নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করতে বলা হয়েছে।’ এর আগে শনিবার (২৫ মে) স্থানীয় সময় রাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জোটসঙ্গীদের নিয়ে সাক্ষাৎ করেন মোদী। আর এদিনই তাকে এই নিয়োগ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের মোট ৫৪৩ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৩৫১ আসনে জয়লাভ করে। নিরঙ্কুশ এই বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও তার দল বিজেপিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বের বড় বড় সব রাষ্ট্র প্রধানরা।

বিজেপি সূত্রের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গত শনিবার পার্লামেন্ট ভবনের সেন্টার হলে এনডিএ জোটের সকল আইন প্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকে করেন নরেন্দ্র মোদী। যেখানে তাকে জোট থেকেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়। 

পরে একই দিন রাতে জোটসঙ্গীদের একাংশকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নরেন্দ্র মোদী। যেখানে তিনি রাষ্ট্রপতি বরাবর সরকার গঠনের আবেদন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি তাকে শপথ দিন নির্ধারণ ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম গঠন করতে নির্দেশ দেন।

এ দিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আগামী ৩০ মে বৃহস্পতিবার টানা দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিতে পারে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। তবে সমালোচকদের দাবি, মোদী ও তার দল বিজেপি বর্তমানে একটি বিভাজন নীতি ও হিন্দুত্ববাদই প্রথম এমন কৌশল ব্যবহার করেছে। 

যদিও গত শনিবার আইন প্রণেতাদের করা বৈঠকে মোদী বলেছিলেন, ‘এই নির্বাচন সামাজিক ঐক্যের এক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। সাধারণভাবে বলা হয় নির্বাচন সব সময় দূরত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে বিভাজন তৈরি করে, দেওয়াল বানায়। কিন্তু এবারের নির্বাচন সেই দেওয়াল ভাঙার কাজ করেছে।’

বিশ্লেষকদের দাবি, ভারতের নির্বাচনে মোদীর এই বিজয় সাধারণত হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ওপর এর সমর্থন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কিছু কিছু বিশ্লেষকদের মতে, গত পাঁচ বছরে মোদীর সমর্থকরা দেশের মুসলমানসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অসহিষ্ণুতার চর্চা চালিয়েছেন। তাছাড়া প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের ওপরও তারা এক রকম পেশিশক্তি প্রয়োগ করেছেন। একই সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাক-পন্থী জঙ্গিদের চালানো এক হামলার জেরে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে বিমান হামলা পরিচালনা করেছে ভারতীয় বিমান বাহিনী বিএসএফ।

আরও পড়ুন : পদত্যাগ করেছেন নরেন্দ্র মোদী

যা পরবর্তীতে লোকসভা নির্বাচনি প্রচারণায় এ ঘটনাকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি। এ সময় বিজেপির পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হয় যে, একমাত্র মোদীর হাতেই ভারতের জাতীয়তাবাদ পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে।

সূত্র : 'এনডিটিভি'

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড