• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বয়স্কদের দেহেও নিরাপদ মডার্নার ভ্যাকসিন 

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:০৬
করোনা
ছবি : সংগৃহীত

তরুণদের দেহের মতোই বয়স্কদের দেহেও নিরাপদ মডার্নার ভ্যাকসিন। বয়স্কদের দেহে এই ভ্যাকসিন কতটা নিরাপদ সে বিষয়ে প্রাথমিক একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে তরুণদের দেহে এই ভ্যাকসিন যতটা নিরাপদ ঠিক ততটাই নিরাপদ বয়স্কদের দেহেও।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ওই গবেষণার বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের সঙ্গে যৌথভাবে দেশটির বায়োটেক কোম্পানি মডার্নার তৈরি করোনার সম্ভাব্য এই ভ্যাকসিন নিয়ে বেশ আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে ওই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বয়স্কদের দেহে এই ভ্যাকসিন কতটা নিরাপদ সে বিষয়ে আরও বেশি পরিপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। করোনায় বয়স্কদের নিয়ে আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি। কারণ তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন এবং তরুণদের তুলনায় বয়স্কদের মৃত্যুহারও বেশি।

আটলান্টার ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ইভান এন্ডারসন বলেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। নতুন এই গবেষণা আমাদের অনেকটাই নিশ্চয়তা দিচ্ছে।

মডার্নার প্রথম ধাপের পরীক্ষার বিস্তৃত ফলাফল এটি। প্রথম ধাপে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সীদের দেহে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ৪০ জন বয়স্ক স্বেচ্ছাসেবীর দেহে ২৫ মাইক্রোগ্রাম এবং ১০০ মাইক্রোগামের মডার্নার ভ্যাকসিনের দু'টি ডোজ প্রদান করা হয়।

প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৫৬ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের এবং অপর ডোজটি প্রদান করা হয়েছে ৭১ বা তার বেশি বয়সীদের। এতে দেখা গেছে, ওই স্বেচ্ছাসেবীদের দেহে এই সম্ভাব্য ভ্যাকসিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ৫৬ থেকে ৭০ বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রেও।

করোনার সম্ভাব্য এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের দেহে এই ভ্যাকসিন যেমন কার্যকরী বয়স্কদের ক্ষেত্রেও এটি একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

মডার্নার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সম্ভাব্য ভ্যাকসিন বয়স্কদের দেহে তরুণদের মতোই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম।

প্রথম ধাপে এই ভ্যাকসিন ১৩ হাজারের বেশি মানুষের দেহে প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশই শেতাঙ্গ, লাতিনো এবং আমেরিকান ইন্ডিয়ান।

ইতোমধ্যেই মার্কিন কোম্পানি মডার্নার তৈরি কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য এই ভ্যাকসিনটি চূড়ান্ত ধাপে ৩০ হাজার মানুষের দেহে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এর আগে করোনার সম্ভাব্য কোনো ভ্যাকসিন এত মানুষের দেহে পুশ হয়নি। মডার্নার দাবি, বছর শেষেই তাদের ভ্যাকসিন সবাই ব্যবহার করতে পারবে।

কোনো রোগের ভ্যাকসিন বা টিকা তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণত অনেকগুলো ধাপ পার হতে হয়। চূড়ান্ত ধাপে হাজার হাজার মানুষের দেহে গণহারে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ মূলত দেখা হয় সবার ব্যবহারের জন্য তা কার্যকর ও নিরাপদ কিনা। সফল হলেই ভ্যাকসিনটি গণমানুষের জন্য ব্যবহারের অনুমোদন দেয় কর্তৃপক্ষ।

তৃতীয় ধাপে উচ্চ মাত্রার ডোজ প্রয়োগ করেছে মডার্না। তবে এতে তেমন কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, শরীরে ব্যথা, ঠান্ডা অনুভূত হওয়াসহ সামান্য কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী ৬৫ বছর বয়সী নরম্যান হালমে বলেন, আমি এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছি। তবে আমার দেহে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

ওডি/

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড