• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত বৈরুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ আগস্ট ২০২০, ০৮:২৬
বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত বৈরুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭
মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে (ছবি : রয়টার্স)

লেবাননের রাজধানী বৈরুত যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। রক্তাক্ত হয়ে ছুটছে মানুষ। হাসপাতালেও ঠাঁই পাচ্ছেন না আহতরা।

বিলাসবহুল হোটেল, আবাসিক ভবন সবকিছু এখন ধ্বংসস্তূপ। আহতদের চিৎকার আর নিখোঁজের স্বজনদের দীর্ঘশ্বাসে ভারি হয়ে উঠছে আকাশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে রাজধানী বৈরুতের বন্দর এলাকায় জোড়া বিস্ফোরণ ঘটে। এই ধ্বংসলীলার মধ্যে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে লেবাননের সরকার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে শহরটিতে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রশাসন। তাছাড়া ভয়াবহ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বন্দরটির ১৬ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বিস্ফোরণে বৈরুত শহর ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠেছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, বৈরুতের বন্দর এলাকা থেকে বড় গম্বুজ আকারে ধোঁয়া উড়ছে, এর কিছুক্ষণের মধ্যে বিকট বিস্ফোরণে গাড়ি ও স্থাপনা উড়ে যেতে দেখা যায়।

বিস্ফোরণস্থল থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে থাকা ভবনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেবাননে চরম গৃহযুদ্ধ চলার সময়ও এতটা ধ্বংসযজ্ঞ দেখা যায়নি বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

আরও পড়ুন : নেপালের সমর্থনে ভারতের আরেক অঞ্চল দখলে নিল চীন

বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাসপাতালগুলোও। এতে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। বিস্ফোরণস্থলের দুই কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত সেন্ট জর্জ হাসপাতাল। সেখানকার এক চিকিৎসক গার্ডিয়ানকে বলেন, আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসছে মানুষ, তবে আমরা তাদের ভর্তি করাতে পারছি না। তাদের রাস্তার উপরে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাসপাতাল ভবন ভেঙে গেছে। ধ্বংস হয়ে গেছে জরুরি বিভাগ।

আরও পড়ুন : রামমন্দির নির্মাণে ফাঁকা মাঠে কেবল ‘মোদী আর মোদী’

লেবাননের রেডক্রসের প্রধান জর্জেস কেট্টানেহ সম্প্রচার মাধ্যম মায়াদিনকে বলেন, আমরা যা দেখছি তা বড় ধরনের এক বিপর্যয়। চারদিকে হতাহতদের দেখা যাচ্ছে। আহতদের বাঁচাতে মানুষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছে রেডক্রস।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকালে বিস্ফোরণের পর পরই বন্দর এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনদের ভিড় জমাতে দেখা গেছে। ভাইয়ের খোঁজে আসা এক তরুণী নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে বারবার খোঁজ জানতে চাইছিলেন। ভাইকে চেনাতে তার শারীরিক গঠনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন।

আরও পড়ুন : যে কারণে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শিকার লেবানন (ভিডিও)

বলছিলেন, তার নাম জাদ। তার চোখগুলো সবুজ। তবে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছিলেন না। আর ওই নারী বারবার তাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছিলেন ভেতরে যেতে দেওয়ার জন্য।

পাশেই আরেক নারীকে দেখা যাচ্ছিল স্বজনের খোঁজে এসে তার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অবস্থা। তিনিও এসেছিলেন ভাইয়ের খোঁজে। তার ভাইও বন্দরেই কাজ করতেন।

আরও পড়ুন : যে কারণে ইরানকে দেখা মাত্রই দুর্বল হয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্র!

ওই এলাকায় নিয়োজিত এক সেনা সদস্য বলেন, ভেতরে খুব খারাপ অবস্থা। মাটিতে মানুষের মৃতদেহ পড়ে আছে। এখনও মৃতদেহ উদ্ধার করে সেগুলোকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর কাজ চলছে।’ বন্দর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপ সরানো শুরু হলে মৃতের সংখ্যা উল্লেখজনক হারে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামাদ হাসান রয়টার্সকে বলেন, অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। জরুরি বিভাগের কর্মীদের কাছে এসে লোকজন তাদের প্রিয়জনের সন্ধান চাইছে। রাতে অনুসন্ধান অভিযান চালানোটা কঠিন। কারণ সেখানে বিদ্যুৎ নেই।

আরও পড়ুন : দখলকৃত নতুন ভূখণ্ডের মানচিত্র জাতিসংঘ-গুগলে পাঠাচ্ছে নেপাল

লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউন তিনদিনের শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, জরুরি তহবিল হিসেবে তার সরকার ১০০ বিলিয়ন লিরা (৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার) সহায়তা দেবে।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড