• শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪৩১  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনার হাত থেকে কতদিন সুরক্ষা দিবে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন? 

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৩ জুলাই ২০২০, ১৭:৩০
করোনা
ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের হাত থেকে অন্তত কয়েক বছর সুরক্ষা দেবে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের তৈরি ভ্যাকসিন। বুধবার ব্রিটিশ এমপিদের এমনটাই জানিয়েছেন টিকা তৈরিতে নেতৃত্বদানকারী বিজ্ঞানী অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট।

গিলবার্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক কমিটিকে তিনি জানান, অক্সফোর্ডের টিকাটি দীর্ঘ সময় করোনার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে বলে আশাবাদী তিনি।

সম্প্রতি অপেক্ষাকৃত কম বিপজ্জনক করোনা; যেগুলো সাধারণ ঠান্ডার জন্য দায়ী, সেগুলোয় আক্রান্ত ব্যক্তিরা বছর খানেকের মধ্যে ফের আক্রান্ত হতে পারেন বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে। এনিয়ে বিশ্বজুড়ে করোনার টিকার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গিলবার্ট জানান, সাধারণত কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পর আক্রান্তের দেহে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, টিকায় প্রাপ্ত প্রতিরোধ শক্তি তার চেয়ে বেশি হতে পারে। অধ্যাপক গিলবার্ট বলেন, টিকাগুলো দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে ভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করে।

গিলবার্ট বলেন, আমরা কয়েক বছরের জন্য টিকা তৈরির গবেষণায় একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখেছি যে, টিকাগুলো শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ প্রক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের এটা কিছু সময় পরপর পরীক্ষা ও যাচাই করে দেখতে হবে। আমাদের কাছে সঠিক উপাত্ত না আসা পর্যন্ত আমরা এ বিষয়ে জানতে পারবো না। তবে পূর্বের গবেষণাগুলো থেকে আমরা আশাবাদী যে, আমরা বেশ ভালো সময়ের জন্য, অন্তত কয়েক বছর সুরক্ষা পাবো। আর তা সম্ভবত প্রাকৃতিকভাবে অর্জিত প্রতিরোধ ক্ষমতার চেয়ে ভালো হবে।

আগামী শীতে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ফের বাড়তে পারে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এর আগে টিকা পাওয়া যাবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। অক্সফোর্ডের টিকাটি কবে নাগাদ আসতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে, যথাসময়ে টিকাটি চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন গিলবার্ট। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানিয়েছে, করোনা মোকাবেলার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছে এই টিকাটি। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে কয়েক কোটি ডোজ সরবরাহের চুক্তি করেছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

ব্রিটেনের ভ্যাকসিন টাস্কফোর্সের প্রধান কেট বিংহাম জানান, অক্সফোর্ডের টিকাটি খুব সম্ভবত সংক্রমণ বন্ধ করতে পারবে না, তবে সংক্রমণের উপসর্গ গুরুতর হওয়া থেকে ঠেকাতে পারবে। তিনি হাউজ অব কমন্সের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক কমিটিকে বলেন, আমি তুলনামূলকভাবে আশাবাদী যে, আমরা জনগণের চিকিৎসার জন্য একটি টিকা পাবো। তবে আশঙ্কা হচ্ছে, টিকাটি পুরোপুরি ভাইরাসটি ঠেকাতে সক্ষম কি না। অর্থাৎ এটি নেয়ার ফলে কেউ ফের আক্রান্ত হবে কি না! নাকি এটি এমন কোনো টিকা হবে যেটি কেবল উপসর্গের মাত্রা কমিয়ে রাখে।

এদিকে, করোনার টিকা বাজারজাতকরণের দৌড়ে এগিয়ে আছে চীনা ও মার্কিন কিছু প্রতিষ্ঠানও। মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও তাদের জার্মান সহযোগী বায়নটেকের সম্ভাব্য টিকাটি সম্প্রতি এক পরীক্ষায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া রোগীদের দেহের চেয়ে ১.৮ থেকে ২.৮ গুণ বেশি অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া আরেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইনোভিও মঙ্গলবার জানিয়েছে, তাদের সম্ভাব্য টিকাটিও স্পষ্ট সফলতা দেখিয়েছে। কয়েকদিন আগে চীনও একটি টিকায় সফলতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

ওডি/

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড