• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নারীর স্থূলতা সন্তান গ্রহণে কতটা প্রভাব ফেলে?

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

২০ জুন ২০১৯, ১৫:৪৩
স্থূলতা
ছবি : প্রতীকী

স্থূলতা সবসময়েই ক্ষতিকর কিছু প্রভাব নিয়ে আসে। এটি শুধু আপনার জন্য নয়, আপনার অনাগত সন্তানের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। নিজেকে ও শিশুকে সুস্থ রাখতে তাই জেনে নিন গর্ভাবস্থায় স্থূলতা ও এর প্রতিকার সম্পর্কে-

স্থূলতা কী?

আপনার শরীরের চর্বির পরিমাণ যদি নির্দিষ্ট একটি অবস্থার চাইতে বেশি হয়ে যায় তাহলে সেটিকে স্থূলতা বলে। সাধারণত ব্যক্তির উচ্চতা ও ওজনের ভিত্তিতে বডি মাস ইনডেক্স নির্ধারণের মাধ্যমে সে স্থূল, নাকি নয় এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বিএমআই ১৮.৫ হলে সেটাকে কম ওজন বলে ধরে নেওয়া হয়। ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ এর মধ্যে বিএমআই হলে সেটাকে স্বাভাবিক বলা যায়। তবে, শরীরের ভর এর বেশি হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে ব্যক্তিকে স্থূল বলে ধরে নেওয়া যায়।

স্থূলতা গর্ভধারণে কতটা প্রভাব রাখে?

স্থূল ব্যক্তির পক্ষে স্বাভাবিক প্রজননক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পারে। এছাড়া নারীরা অতিরিক্ত স্থূল হয়ে পড়লে তাদের সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে নানারকম সমস্যা তৈরি হয়। শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। সাথে থাকে গর্ভধারণে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা।

স্থূলতার কারণে গর্ভধারণে যে যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে যেগুলো হলো-

● অকাল গর্ভপাত ● গ্যাস্টেশনাল ডায়াবেটিস ● উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনির নানাবিধ সমস্যা ● স্লিপ অ্যাপনিয়া ● হৃদপিণ্ডের সমস্যা ● সি-সেকশন হওয়ার সম্ভাবনা এবং তাতেও নানারকম জটিলতা

স্থূলতা অনাগত শিশুকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

আপনাকে যেমন স্থূলতার জন্য কিছু বাড়তি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তেমনি এর কারণে ভুগতে হতে পারে আপনার অনাগত শিশুটিকেও। এক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি যে দুটি সমস্যায় ভুগতে হতে পারে সেগুলো হলো-

১। অনেক বেশি স্থূলতার সাথে, বডি ফ্যাট নিয়ে শিশুটি জন্ম নিতে পারে। তার হজম ক্ষমতা অনেক কম থাকতে পারে। ২। শরীরের কোন জন্মত্রুটি দেখা দিতে পারে।

গর্ভধারণের সময় কতটা স্থূল হওয়া স্বাভাবিক?

আপনার গর্ভধারণের আগের ওজন এবং শিশুর ওজন- এই দুটো ব্যাপারের উপর নির্ভর করে গর্ভধারণের সময় আপনার পক্ষে কতটা স্থূল হওয়া স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে, আপনি যদি স্থূল হন এবং একটি সন্তানসহ গর্ভধারণ করেন, তাহলে ১১ থেকে ২০ পাউন্ড ওজন বাড়তে পারে। অন্যদিকে, একের বেশি শিশু গর্ভে থাকলে ওজন ২৫-৪২ পাউন্ড বেড়ে যেতে পারে।

তবে, গর্ভধারণ করলে ওজন অনেক কম বাড়লেও সেটিকে ক্ষতিকর বলে মনে করা হতে পারে। কারণ, এতে করে শিশুর বেড়ে ওঠা নিয়ে সন্দেহ থাকে। তাই, আপনার এই সময়ে ঠিক কতটা ওজন রাখা উচিত, কতটা কমানো বা বাড়ানো উচিত- সেটা সঠিকভাবে জানতে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

এছাড়াও, এমন সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সতর্ক থাকুন। গ্যাস্টেশনাল ডায়াবেটিসের ব্যাপারে পরীক্ষা করুন, পরীক্ষা করে, পর্যাপ্ত খাবার ও শরীরচর্চা করে নিজেকে সুস্থ রাখুন। আপনার শারীরিক যেকোনো সমস্যার প্রভাব পড়তে পারে আপনার শিশুর ওপর।

তাই, চেষ্টা করুন এই প্রভাবকে যতটা দ্রুত সম্ভব কমিয়ে আনতে। এতে আপনি যেমন সুস্থ থাকবেন, তেমনই সুস্থ থাকবে আপনার অনাগত শিশুটিও!

সূত্র- মায়োক্লিনিক

ওডি/এনএম

স্বাস্থ্য-ভোগান্তি, নতুন পরিচিত অসুস্থতার কথা জানাতে অথবা চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পেতেই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার পরামর্শ দেবার প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড