• বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সদর্পে রাজনীতির মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছিলেন যে ৭ নারী নেতা

০৮ মার্চ ২০২০, ০৮:২০
নারী
ছবি : প্রতীকী

যুগে যুগে নারীরা পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনে এগিয়ে গিয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিল নারীর বিচরণ। রাজনীতির পথটা অনেক দুর্গম। রাষ্ট্রশাসনে নারীকে দেখে অভ্যস্ত নয় মানুষ। তারপরেও অনেক লড়াই করে, নিজেকে প্রমাণ করে প্রায় ৭০টি দেশে রাষ্ট্রক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে নারী। ইতিহাসের পাতা থেকে সেই নারীদের মধ্যে থেকে সেরা সাতজনকে নিয়ে এই লেখাটি।

১। শ্রীমাভো বন্দরনায়েক, শ্রীলঙ্কা

১৯৬০ সালে প্রথম নারী হিসেবে কোনো দেশের সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত হন শ্রীমাভো বন্দরনায়েক। প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণের জন্য নির্বাচিত হন তিনি। এর বছরখানেক আগেই শ্রীমাভো বন্দরনায়েকের স্বামী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, মৃত্যুবরণ করেন। শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির প্রধান হয়ে ১৯৬০-৬৫ সাল পর্যন্ত কাজ করেন এই নারী। ১৯৭০-৭৭ সালেও আবার একই পদে আসিন হন তিনি। পরবর্তীকালে শ্রীমাভো বন্দরনায়েকের মেয়ে চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা দেশটির প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি হিসেবে যোগ দেন। ২০০০ সালে মৃত্যুবরণ করেন শ্রীমাভো বন্দরনায়েক।

২। ইন্দিরা গান্ধী, ভারত

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী ছোটবেলা থেকেই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ফলে কংগ্রেস পার্টিতে পরিচিতি ছিল তার। ১৯৬৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন এই নারী। ১৯৮০ সালেও আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে যাওয়া ইন্দিরা গান্ধী ১৯৮৪ সালেই মৃত্যুবরণ করেন। 

৩। গোল্ডা মেয়ার, ইসরায়েল

টানা ৪০ বছর দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকার পর ১৯৬৯ সালে দেশটির ৪র্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন গোল্ডা মেয়ার। ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া মেয়ার যুক্তরাষ্ট্রে বড় হন। ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রে মাত্র দুইজন নারী স্বাক্ষর করেছিলেন। মেয়ার তাদের একজন ছিলেন। ১৯৭৪ সালে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান মেয়ার। চার বছর পর মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

৪। মার্গারেট থ্যাচার, যুক্তরাজ্য

ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন মার্গারেট। নিজেদের মুদি দোকানের ওপরের একটি ঘরে থাকতেন তারা। অক্সফোর্ডে পড়া অবস্থায় এই নারী রাজনীতিতে যোগ দেন কনজারভেটিভ পার্টির মাধ্যমে। ১৯৭৫ সালে পার্টির প্রধান হন তিনি। ফলে, চার বছর পর পার্টি ক্ষমতায় গেলে উন্নত দেশগুলোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম লেখান মার্গারেট থ্যাচার। টানা ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় বহাল থাকেন এবং জনউন্নয়নের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এই নারী।

৫। ভিগদিস ফিনবোগাদোত্তির, আইসল্যান্ড

ভিগদিস তখন সন্তান এবং নিজের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। ঠিক তখনই এতদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সফলতা আসে তার। আইসল্যান্ডের প্রথম এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি হিসেবে যোগদান করেন এই নারী। টানা ১৬ বছর এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। 

৬। এঙ্গেলা মার্কেল, জার্মানি

পূর্ব জার্মানিতে বড় হওয়া এঙ্গেলা মার্কেল রসায়নে ডক্টরেট করে গবেষক এবং বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করছিলেন। বার্লিন ওয়াল ভেঙে যাওয়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন এই নারী। ২০০০ সালে ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টির প্রধান হন তিনি। পাঁচ বছর পর সেখান থেকেই জার্মানির প্রথম নারী চ্যান্সেলর এবং সবচাইতে কমবয়সী চ্যান্সেলর হিসেবে নির্বাচিত হন এঙ্গেলা। ২০১৭ সালে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হলে নিজের অবসরের কথা উল্লেখ করেন এঙ্গেলা মার্কেল। 

৭। এলেন জনসন সারলিফ, লাইবেরিয়া

হার্ভার্ড থেকে পড়াশোনা শেষ করে এলেন জনসন লাইবেরিয়া ফিরে আসেন এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। ২০০৫ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ শুরু করেন এই নারী। প্রায় ৮০ শতাংশ নারীর ভোট পান সে সময় তিনি। ১২ বছর এই পদে কাজ করেন এলেন।

এই ক্ষমতাধর নারীদের গল্পগুলো শুনতে খুব সহজ মনে হলেও, তাদের প্রতিটি জয়ের পেছনে ছিল অনেক অনেক গল্প। সেসব গল্প না হয় আরেকদিন হবে। আজ নারী দিবস। এই দিবসে আসুন, চিন্তায় কোনো বাধা না রেখে নিজেকে নিয়ে ভাবী। রাষ্ট্রপতি, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক, শিল্পী- যে কোনো পেশায় থাকতে পারেন একজন নারী। 

সূত্র- হিস্টোরিডটকম 

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড