• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ইয়াবার সিন্ডিকেট বাংলাদেশে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৪৮
ইয়াবা টেবলেট
ইয়াবা টেবলেট (ছবি : সংগৃহীত)

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিশাল এক ইয়াবা পাচারের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে বাংলাদেশি মাদক কারবারিরা। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইয়াবার চালান দিচ্ছে। আবুধাবিতে অবস্থানরত জনৈক সোহেল নামের এক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে এই চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার নিয়ন্ত্রণে মাদক সিন্ডিকেটে যুক্ত রয়েছে ১৫ থেকে ২০ জন। আর এদের মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যে ইয়াবা পাচার করেন তিনি। 

এই সিন্ডিকেটটি দেশের অভ্যন্তরেও মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। সোহেল নামের ওই নিয়ন্ত্রণকারীর বাড়ি কুমিল্লার দক্ষিণ সদর থানায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।          

আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রটির অন্যতম সদস্য নাসির উদ্দিন সরকারকে ২৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ রাজধানীর উত্তরা থেকে আটকের পর এসব তথ্য পেয়েছে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব।

সোমবার (১৯ আগস্ট) র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, গোয়েন্দা অনুসন্ধানে র‌্যাব জানতে পারে একটি আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছে। চক্রটি পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে নিয়ে আসা ইয়াবা কৌশলে আকাশপথে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করছে। র‌্যাব-১-এর অনুসন্ধানী দল চক্রটির কয়েক সদস্যকে শনাক্ত করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদকের একটি বড় চালান ঢাকা থেকে দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মাদক চোরাকারবারিকে ধরতে র‌্যাব-১ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

রবিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৩ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণি, ১৫ নম্বর রোডের একটি আবাসিক হোটেল থেকে আচারের দুটি বয়ামে ২৬ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি পাসপোর্টসহ নাসির উদ্দিন সরকার (৩৫) নামে ওই চোরাকারবারিকে আটক করা হয়। তার বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং থানার চান্দ্রপুর গ্রামে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাসির উদ্দিন জানান, দুবাইয়ের আবুধাবিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের জনৈক সোহেলের হাত ধরে তিনি এ মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন। সোহেল দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত। বাংলাদেশে তার নিয়ন্ত্রণে ১৫-২০ জন সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

মাদকের সিন্ডিকেটে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নাসির উদ্দিন জানান, ২০০৮ সালে ৩ বছর মেয়াদী ভিসা নিয়ে দুবাই যান নাসির। আবুধাবির মোসাম্বা শহরে বহুতল ভবনের জন্য এসি তৈরির প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। সোহেলের সঙ্গে সেখানেই তার পরিচয়।

সোহেল ওই একই প্রতিষ্ঠানের ফেব্রিকেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে গেলে ২০০৯ সালের শেষের দিকে নাসির উদ্দিন দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর মাঝে মধ্যে সোহেলের সঙ্গে কথা হতো। এক পর্যায়ে সোহেল তাকে মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মাদক কারবারে সম্পৃক্ত করেন। এরপর এ পর্যন্ত তিনি এ সিন্ডিকেটের হয়ে ২০-২৫টির মতো মাদকের বড় চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবারহ করেছেন।

নাসির আরও জানান, চক্রের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করায় সোহেল তাকে মাদকের একটি চালান নিয়ে দুবাইয়ে যেতে বলেন। এতে তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দেয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। দুবাই যাওয়ার জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ও টিকিট বুকিংসহ সব কাজ সোহেলের লোক করে দেয়। এ ছাড়াও তাকে অগ্রীম ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়।

বিমানবন্দরে চেকিংয়ে মাদকের উপস্থিতি যাতে বোঝা না যায় সে জন্য একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করা হয়। তিনি সোহেলের নির্দেশে ইয়াবা প্রথমে কার্বন পেপারে মুড়িয়ে তার উপর কালো স্কচ টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে দুটি আচার ভর্তি বয়ামের ভেতর নেয়। 

নাসির আরও জানান, এ প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেটের সদস্যরা এখন পর্যন্ত অসংখ্য মাদকের চালান আকাশপথে দেশের বাইরে নিয়ে গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে নাসির আরও কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

ওডি/এআর 

অপরাধের সূত্রপাত কিংবা ভোগান্তির কথা জানাতে সরাসরি দৈনিক অধিকারকে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড