• সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ব্যাংকে টাকার পাহাড়, কে এই যুবলীগ নেতা এনু ও রুপন?

  অধিকার ডেস্ক

১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:৪৪
যুবলীগ
দুই যুবলীগ নেতা এনু ও রুপন (ছবি : সংগৃহীত)

রাজধানীর পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া থানা যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক ওরফে এনু ভুঁইয়া ও তার ছোট ভাই থানা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুপন ভুঁইয়া। এবার যুবলীগের এই দুই নেতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে শত শত কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে। শুধু নগদ টাকা নয়, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুই ভাইয়ের বাড়ি ও প্লটের সংখ্যাও অনেক।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো- তাদের দুজনের দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই। কিন্তু দুই যুবলীগ নেতার কাছে রূপকথার আলাদিনের চেরাগ হয়ে ধরা দেয় ক্যাসিনোর অন্ধকার জগৎ।

সূত্রে জানা গেছে, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নয়াবাজার শাখার অ্যাকাউন্টে (নম্বর ০১৩৬১১০০০০০১০৮৩৪) অজ্ঞাত উৎস থেকে এখানে জমাকৃত টাকার পরিমাণ ১২২ কোটি ৫৭ লাখ ৪ হাজার ৮৬৯ টাকা। দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযান শুরুর প্রথম দিকে অ্যাকাউন্ট থেকে অনেকটা তড়িঘড়ি করে প্রায় ১০০ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়। এখন প্রায় সাড়ে ২২ কোটি টাকা ওই অ্যাকাউন্টে রয়ে গেছে। যা তারা সরাতে পারেনি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ এখন বাজেয়াপ্তের অপেক্ষায় আছে।

শুধু ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এই একটি অ্যাকাউন্ট নয়। দুই যুবলীগ নেতার নামে আরও ৮২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তারা কয়েকশ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ইতোমধ্যে তাদের সম্পদের অনুসন্ধানে মাঠে নেমে পড়েছে। এরই মধ্যে এনু ও রুপনসহ তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত অনেক তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্রের দেওয়া তথ্য বলছে, এনু ভুঁইয়া ও রুপন ভুঁইয়া কত কোটি টাকার মালিক তারা নিজেরাও হয়তো তা জানেন না।

আরও কয়েকটি ব্যাংকে শত শত কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রাখার পর সেগুলোর খোঁজ নেওয়ারও সময় পাননি তারা দুই ভাই। এছাড়াও বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা বেশ কয়েকটি ব্যাংকের কারেন্ট অ্যাকাউন্টে পড়ে আছে দীর্ঘদিন যাবত।

পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুই ভাইয়ের বাড়ি এবং প্লটের সংখ্যা মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সিআইডিকে। এখন পর্যন্ত দুই যুবলীগ নেতার মালিকানাধীন ১৯টি বহুতল বাড়ি ও একাধিক প্লটের সন্ধান পাওয়া গেছে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ক্যাসিনো কাণ্ড তাদের কাছে আলাদিনের চেরাগ হয়ে ধরা দেয়। এনু-রুপনের দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই। কয়েকটি সাইনবোর্ডসর্বস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে তারা অর্থ লুকানোর চেষ্টা করেও অবশেষে ব্যর্থ হন।

ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পর তাদের বাড়ি থেকে নগদ পাঁচ কোটি টাকা ও আট কেজি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বর্তমানে এনু ও রুপন দুজনই পলাতক রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতার এড়াতে তারা ভারতে আত্মগোপন করে আছেন।

জানা যায়, পুরনো ঢাকার কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখায় এনু ও রুপন ভুঁইয়ার নামে অসংখ্য হিসাব খোলা হয়। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হিসাব খোলা হয়েছে ঢাকা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, স্ট্যান্ডান্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকে।

অজ্ঞাত উৎস থেকে এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ জমা হতো। এভাবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নয়াবাজার শাখায় সালমান এন্টারপ্রাইজ নামে একটি অ্যাকাউন্টে (নম্বর ০১৩৬১১০০০১৬৯৮৬) ১৭ কোটি ৭৭ লাখ জমা হয়।

সিপলু কম্পিউটার নামে নয়াবাজার শাখার আরেকটি অ্যাকাউন্টে (নম্বর ০১৩৬১১০০০০০১৩১১০) ২৬ কোটি টাকা জমা হয়।

এনু-রুপন স্টিল কর্পোরেশন নামে ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখায় (হিসাব নম্বর ০২১০১০০০০০০১২৯৬৩) ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা হয়।

একই ভাবে নিয়মিত কোটি কোটি টাকা জমা হয় এনু-রুপন স্টিল হাউসের নামে প্রাইম ব্যাংকের বংশাল শাখায় (হিসাব নম্বর ১২২৩১০৯০০০৭১৮৫), এনামুল হক এনু নামে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় (হিসাব নম্বর ০১২৭৯৩৭৩৩০১), ব্র্যাক ব্যাংকের নবাবপুর শাখায় (হিসাব নম্বর (ক্লাসিক) ১৫০২১০০৫৬০৯২৮০০১), এনু-রুপন স্টিল কর্পোরেশন প্রিমিয়ার ব্যাংকের বংশাল শাখায় (হিসাব নম্বর ০১১৯১১১১০০০০৮৬০৭) এনামুল হক এনু নামে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড গুলশান শাখায় (হিসাব নম্বর ০১৯১৬৮২৮১০) ও (হিসাব নম্বর ০২৯১৬৮২৮১০১)।

এনু ও রুপন ভূঁইয়ার যৌথ নামে স্ট্যান্ডাড চার্টার্ড ব্যাংকের কাকরাইল ক্যাশ অফিসে ভিআইপি সার্ভিস নামে একটি বিশেষ হিসাব খোলা হয় (নম্বর ১৮৩৬৭৯২৮৪০১)। এই অ্যাকাউন্ট থেকে বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া রুপন ভুঁইয়ার নামে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড মতিঝিল শাখায়ও একটি বিশেষ অ্যাকাউন্ট আছে। যার নাম দেয়া হয়েছে ভিআইপি কারেন্ট অ্যাকাউন্ট (নম্বর ০১২৭৯৩৭৯২০১)। পুরনো ঢাকার বাইরে ইস্টার্ন ব্যাংকের শান্তিনগর শাখায় দুইটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয় এনু-রুপন স্টিল হাউসের নামে। যার নম্বর যথাক্রমে ১১৪৫৬২০০৪৬৯৫৪ এবং ১১৪১২৯০০০১০৮৮।

বিভিন্ন ব্যাংকে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ জমার পাশাপাশি এনু ও রুপনের নামে স্থায়ী আমানত হিসাবে বিপুল অঙ্কের স্থায়ী আমানত বা এফডিআর করা হয়। সবচেয়ে বেশি এফডিআর আছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে। এ ব্যাংকের নয়াবাজার শাখাতে এনামুল হক এনুর নামে আছে ১১টি এফডিআর। এছাড়া ঢাকা ব্যাংকের ৬টি স্থায়ী আমানত হিসাবে জমা আছে ১ কোটি ৪ লাখ ১১০ টাকা। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ধোলাইখাল শাখায় দুটি এফডিআর অ্যাকাউন্টে ৬৭ লাখ এবং প্রাইম ব্যাংকের বংশাল শাখার দুটি এফডিআর অ্যাকাউন্টে আছে ৬২ লাখ টাকা।

রুপন ভুঁইয়ার নামেও একাধিক ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসাবে বিপুল অঙ্কের টাকা জমা রয়েছে। শুধু ঢাকা ব্যাংকেই রুপনের নামে ৮টি এফডিআর পাওয়া গেছে। ঢাকা ব্যাংকে তার নামে জমা আছে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এছাড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নয়াবাজার শাখায় রুপন ভুঁইয়ার নামে আরও ১০টি এফডিআর রয়েছে। শুধু তাই নয়, রুপন ভুঁইয়ার আত্মীয় জ্যোতি ভুঁইয়ার নামেও একাধিক এফডিআর অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এর মধ্যে ঢাকা ব্যাংকেই খোলা হয় ৪টি এফডিআর।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ধোলাইখাল শাখায় রুপন ভুঁইয়ার দুইটি এফডিআর সংক্রান্ত দলিল হাতে পেয়েছে। এগুলোর নম্বর হলো যথাক্রমে ১১৫৯৬৪৭১৬৭২১৫০৭ এবং ১১৫৯৪১১০০৯৮৬৮৪৪। এ দুটি অ্যাকাউন্টে ৬৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯২ টাকা জমা আছে। প্রাইম ব্যাংকেও রুপন ভুঁইয়ার তিনটি এফডিআর আছে। এগুলোতে ৮৮ লাখ টাকা জমা আছে।

এনু ও রুপনের নামে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ২০টি বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে।

ওডি/টিএএফ

অপরাধের সূত্রপাত কিংবা ভোগান্তির কথা জানাতে সরাসরি দৈনিক অধিকারকে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
nite
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
jachai

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড