• সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চিকিৎসক শূন্য ফেনীর মঙ্গলকান্দি ২০ শয্যার হাসপাতাল

  ফেনী প্রতিনিধি

১১ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৪৫
মঙ্গলকান্দি হাসপাতাল
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ২০ শয্যা বিশিষ্ট মঙ্গলকান্দি হাসপাতাল। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

চিকিৎসক শূন্য হয়ে পড়েছে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ২০ শয্যা বিশিষ্ট মঙ্গলকান্দি হাসপাতাল। মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা যায়। এদিন রোগীরা চিকিৎসাসেবা না পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দরজায় ছিল তালা লাগানো।

হাসপাতালটিতে একজন অফিস সহকারী আর অপেক্ষমাণ রোগী ছাড়া কোনো চিকিৎসককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিক হাসপাতালে কর্মরত দুইজন চিকিৎসকের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের অফিস সহকারী এরশাদ উল্যাহ বলেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক হিসেবে মোহাম্মদ রাকিব বিন সিরাজ ও উপসহকারি কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মকর্তা সাহেদা আক্তার কর্মরত রয়েছেন। ওইদিন হাম-রুবেলার টিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ থাকায় সাহেদা আক্তার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রশিক্ষণে চলে যান। অপর চিকিৎসক মোহাম্মদ রাকিব বিন সিরাজের বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগে ডিউটি থাকায় তিনি সকালে হাসপাতালে আসেননি। এ কারণে হাসপাতাল চিকিৎসক শূন্য ছিল।

তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরকে তিনি পাশের পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে চিকিৎসা নিতে বলেছেন। অন্যথায় পরের দিন এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে চিকিৎসক না থাকায় এভাবে সকাল থেকে ৫০-৬০ জন রোগীকে চিকিৎসকের বিষয়ে কৈফিয়ত দিতে হয়েছে।

উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকার শারীরিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বিবি খদিজা নামে এক নারী বলেন, তিনি বেলা সাড়ে ১১টায় চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে এসে কোনো চিকিৎসক না পেয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে বাড়ি ফিরে যান।

মির্জাপুর এলাকার জোহরা আক্তার নামে এক নারী তার নাতনি মিমিকে (৭) পেট ব্যথা ও ডায়রিয়ার চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে এসে চিকিৎসক না থাকায় ডাক বাংলা এলাকায় একটি ফার্মেসী থেকে স্যালাইন নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

একইভাবে ডাক বাংলা বাজারের নুর করিম নামে এক ব্যবসায়ী তার ছোট মেয়ে নাইমা সুলতানাকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তিনিও মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

তিনি বলেন, এভাবে দু’জন চিকিৎসক হাসপাতালে না থাকাটা খুবই দুঃখজনক। কতগুলো লোক চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসে চিকিৎসক না থাকায় ফিরে গেছেন। অন্তত দুজনে মধ্যে একজন চিকিৎসক থাকলেও মোটামুটি চিকিৎসা সেবা চালিয়ে নিতে পারতেন। তিনি এ জন্য কর্তৃপক্ষে সুদৃষ্টি কামনা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক মোহাম্মদ রাকিব বিন সিরাজের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

চিকিৎসক সাহেদা আক্তার বলেন, তিনি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম-রুবেলার টিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণে ছিলেন। অপর চিকিৎসক মোহাম্মদ রাকিব বিন সিরাজের দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটি থাকায় তিনি সকালে হাসপাতালে আসেননি।

আরও পড়ুন : সিরাজগঞ্জে বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির শকুন উদ্ধার

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: উৎপল দাশ জানান, ওইদিন তিনিসহ হাসপাতালে ছয়-সাতজন চিকিৎসক জেলায় ও উপজেলায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণে ছিলেন। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও হাম-রুবেলার টিকার প্রশিক্ষণ ছিল। একারণে দুটি হাসপাতালে চিকিৎসকের উপস্থিতি কম ছিল। ভবিষ্যতে যাতে করে একেবারে হাসপাতালে চিকিৎসক শূন্য না হয়। বিষয়টি তিনি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড