• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রতারক ডিসি অফিসের কেরানি এখন কোটিপতি

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

১৯ মার্চ ২০২০, ১৬:২২
ডিসি অফিস
নির্মাণাধীন বাড়ি ও শহিদুল ইসলাম (ইনসেটে) (ছবি : দৈনিক অধিকার)

গ্রামের সহজ সরল মানুষদের বোকা বানিয়ে জমি ক্রয়। এরপর সেই জমি সরকারি প্রকল্পে বিক্রি করে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। হঠাৎ করেই এত সম্পদের মালিক হওয়ায় শহরজুড়ে এখন আলোচনা ও সমালোচনার শীর্ষে তিনি।

শহিদুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শিক্ষা শাখায় পদে ১৫ হাজার টাকা বেতনে কর্মরত। সেই শহিদুল ইসলাম এখন ঠাকুরগাঁও শহরের বড় মাঠের পাশে নির্মাণ করছেন ছয় তলাবিশিষ্ট আলিশান বাড়ি। ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ হতে চলেছে তিন তলার কাজ। বাড়িটিতে রয়েছে লিফটের ব্যবস্থাও।

এছাড়াও শহরের গোয়ালপাড়ায় ৮ শতক জমির ওপর বসতভিটা, সদরের শিংপাড়া এলাকায় তার ৬০ শতক জমি ও আবাদি এক একর জমি রয়েছে বলে জানান শহিদুল।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে যোগদান করেন শহিদুল ইসলাম। ২০১১ সালে পদোন্নতি পেয়ে তিনি সেখানেই অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োজিত আছেন।

হঠাৎ করেই এত টাকার মালিক কীভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে শহিদুল জানান, ২০১৮ সালে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার গোয়াগাঁও গ্রামের চিহারু মোহাম্মদের ছেলে ইমাম উদ্দীনের কাছ থেকে ৬৫ শতক জমি কিনেছিলেন ৯ লাখ টাকায়। সেই জমি সরকারি একটি প্রকল্পে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে ২০১৯ সালে সরকারের নিকট তিনি দেড় কোটি টাকায় বিক্রি করেন। সেই টাকা দিয়ে শহরের জেলা স্কুল বড় মাঠের দক্ষিণ পাশে ৬ দশমিক ১৪ শতক জমি কিনে ওই জমিতে ছয় তলাবিশিষ্ট বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেছেন ৭ মাস আগে। বাড়িটির আয়তন সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফিট। নির্মাণে ব্যয় হবে ১ কোটি টাকার বেশি। সমস্ত টাকাই তিনি বৈধভাবে আয় করেছেন বলে দাবি তার।

তবে জমির মালিক ইমাম উদ্দীন জানালেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, একটি প্রকল্পের কাজে সরকার জমিগুলো কিনবে। আপনারা সরকারের কাছে জমি বিক্রি করলে টাকা পাইতে দেরি হবে, ঘুরে ঘুরে টাকা তুলবেন অনেক ঝামেলা হবে। এছাড়া হয়রানিসহ নানা বাধা-বিপত্তির সৃষ্টি হবে। এভাবেই ভুল বুঝিয়ে আমাকেসহ স্থানীয় আরও কয়েকজনের কাছ থেকে তারা কয়েকজন মিলে জমিগুলো অল্প দামে কিনে নেন। এর মধ্যে শহিদুলের নিকট আমার ৬৫ শতক জমি বিক্রি করি। প্রতি শতকে দাম দিয়েছে ৪৫ হাজার টাকা করে। অথচ সেই জমি বিক্রি করে শহিদুল এখন কোটিপতি।

ওই এলাকার জমি বিক্রেতা ইমাম উদ্দীন, সিরাজ উদ্দীন, এনামুল হক ও কাশিমসহ অন্যান্যদের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে পাওয়ার গ্রিড নির্মাণের জন্য আমাদের জমিগুলো অধিগ্রহণ করবে সরকার। এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে আগে থেকেই জানত ডিসি অফিসে কর্মরত শহিদুল। আমাদের ভুল বুঝিয়ে দ্রুত সময়ে জমিগুলো কিনে সে। পরে তিনগুণ দামে সরকারের কাছে জমি বিক্রি করে সে এখন কোটিপতি।

নয় লাখ টাকায় জমি ক্রয় করে সরকারের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকার বেশি পায়। সে সময়ে কয়েকজন জমি বিক্রি করেনি তাদের নিকট। তারা পরে সরকারের নিকট জমির দাম প্রতি শতকে দুই লাখ টাকা বেশি পেয়েছে। কিন্তু আমরা জমি বিক্রি করেও দিয়েছিলাম, রেজিস্ট্রিও করে দিয়েছিলাম। পরে আর কিছুই করার ছিল না। আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, সরকারি অফিসের তথ্য সাধারণ মানুষের জানার ক্ষমতার বাইরে। সরকার কোন সময় কোন স্থানে বড় বড় স্থাপনা নির্মাণ করবে। কখন কোন স্থানের জমি অধিগ্রহণ করবে। সে খবর তাদের দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া বাইরের লোকজনের জানার ক্ষমতা নেই। অথচ শহিদুলের মতো কর্মচারীরা ডিসি অফিসে চাকরি করে বলেই এমন খবর আগে থেকে জেনে তা কাজে লাগিয়ে নিরীহ মানুষকে ঠকিয়ে ভুল বুঝিয়ে জমি কিনছেন। পরে সেই জমি বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে ন্যায্য মূল্য ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এসব কর্মচারীর কারণে।

আরও পড়ুন : ডিসি সুলতানার দখল থেকে ১১ বিঘা জমি উদ্ধার

তবে শহিদুল ইসলামের দাবি তিনি কোনো অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেননি। নিয়ম মোতাবেক জমি বিক্রি করেছেন। তা সরকারের কাছে বিক্রি করেছেন। বিক্রয় করা জমির মূল্য ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সরকারকে ভ্যাট প্রদান করে চেক গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, আমার সাদা টাকা। আপনারা যেমন এসেছেন ইতোমধ্যে ডিএসবি ও এনএসআইয়ের লোকজন খোঁজ-খবর নিয়ে গেছেন। তাতে কি হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, জমি অধিগ্রহণের অনেক জনকে চেক প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া কার সম্পদ কত? এ বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখা সম্ভব হয় না।

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড