• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অন্যের জমিতে নার্সারি করেই সংসার চলে নূরজাহানের 

  সুবল রায়, দিনাজপুর প্রতিনিধি

০৮ মার্চ ২০২০, ১১:১৯
দিনাজপুর
নূরজাহান (ছবি : দৈনিক অধিকার)

স্বামী আর পাঁচ সন্তানকে নিয়ে দিনের পর দিন অনাহারে দিন কাটত নূরজাহান বেগমের। পরে তিনি পরিকল্পনা করলেন নার্সারি ব্যবসার। গড়ে তুললেন একটি নার্সারি। তার কঠোর পরিশ্রমে আজ তিনি সফল নার্সারি ব্যবসায়ী। ফিরেছে তার সংসারে সচ্ছলতা।

নার্সারিটি বর্তমানে ‘নূরজাহান নার্সারি’ নামে পরিচিত। দিনাজপুর শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে বিরল উপজেলায় সীমান্ত ঘেঁষা ধর্মপুরের মিরাপাড়া গ্রামে প্রায় ৩০ বছর পূর্বে নূরজাহান গড়ে তুলে একটি নার্সারি। কারও সাহায্য সহযোগিতা ছাড়াই অন্যের ভাড়া করা ৫০ শতক জমিতে ফলদ ও বনজ গাছের চারা উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করে। তার নার্সারিতে উৎপাদন করা হয় আম, লিচু, লেবু, কাঁঠাল, পেঁয়ারাসহ নানা সুস্বাদু ফলের কলম চারা। আরও উৎপাদন হয় মেহগনি, সেগুন, নিম, কড়াইসহ মূল্যবান কাঠের চারা। এলাকায় নূরজাহান নার্সারি উৎপাদিত চারার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে উন্নতমানের চারা কিনতে।

বিভিন্ন গাছের কলম গ্রাফটিং, কাটিং নূরজাহান নিজের হাতে করে থাকে। এ কাজের জন্য কখনো তাকে কেউ প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করেনি। অন্যকে দেখে শিখেছে সে। অর্থাভাবে তার পুত্র রাজু আহম্মেদের লেখা পড়া বন্ধ হয়ে গেলে সে তার মায়ের সঙ্গে নার্সারির কাজ করে বলে জানায় রাজু আহম্মেদ।

নার্সারি ব্যবসার আয় থেকে নূরজাহান ও তার স্বামী ৩টি মেয়ের বিয়ে দেয় বলে জানান তার বড় মেয়ে সাথী আক্তার।

নার্সারি ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক। ভূমিহীন নূরজাহানের চোখে স্বপ্ন ছিল নার্সারি গড়ার। আর এই নার্সারি ব্যবসার মধ্য দিয়ে সে খুঁজে পেয়েছে সংসারের সচ্ছলতা। নূরজাহান গত ৩০ বছরে কোনো সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতা পাননি। সরকারি সহযোগিতা পেলে নার্সারি ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত করতে পারবে, আরও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে বলে জানান নূরজাহান বেগম। সে দেশে নারী সমাজকে নার্সারি ব্যবসার মধ্য দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান।

নূরজাহান একজন উদ্যোগী ও আত্মনির্ভরশীল নারী। তাকে সহযোগিতা করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান এলাকার বিশিষ্টজন আব্দুল মজিদ।

আরও পড়ুন : সংগ্রামী নারী উদ্যোক্তা মেহেরপুরের জোনাকি বিশ্বাস

নূরজাহান বেগমের মতো নারীরা উদ্যোগী ও পরিশ্রমী হলে পরনির্ভরতা কাটিয়ে নারীরা হবে আত্মনির্ভরশীল। আর এই জন্য সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে এমনটি প্রত্যাশা বিরলবাসীর।

ওডি/জেএস

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড