• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চট্টগ্রামকে হারিয়ে বরিশালের শুভসূচনা

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

২১ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:৫৪
ছবি : সংগৃহীত

ধীরগতির শুরুর পর সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নাটাই নিজেদের হাতে নিয়েছিল ফরচুন বরিশাল। তবে জয় থেকে যখন মাত্র ৩৪ রান দূরে, তখন এক ওভারেই তিন উইকেট নিয়ে চাপ বাড়িয়ে দেয় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। কিন্তু যেই দলে জিয়াউর রহমান ও ডোয়াইন ব্রাভোর মতো হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান ক্রিজে থাকেন, তাদের আর ভয় কীসের?

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) উদ্বোধনী ম্যাচে চট্টগ্রামকে ৪ উইকেটে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে ফরচুন বরিশাল। আজ শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) মিরপুর হোব অব ক্রিকেটে চট্টগ্রামের দেওয়া ১২৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৮ বল আগেই জয় তুলে নেয় বরিশাল।

১৭তম ওভারে ১৮ রান নিয়ে কার্যত ম্যাচ বের করে নিয়ে আসেন জিয়া। শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন হয় মাত্র ১৮ রান। ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই শরিফুল ইসলামকে চার হাকান ব্রাভো। ২ চার ১ ছয়ে ১২ বলে ১৯ রান করে জিয়া ও ১০ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন ব্রাভো।

শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি বরিশালের। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আসে প্রথম চার। মাত্র ১১ রান আসে প্রথম চার ওভার থেকে, ২৪ বলের মধ্যে ১৪টিই ডট। এমন ধীরগতির শুরুর পর মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কল্যাণে রানের চাকা থাকে সচল। ১৫তম ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়লেও শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য বেগ পেতে হয়নি।

ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ফিরলে তিনে নেমে ব্যাট হাতে রীতিমত সংগ্রাম করেছেন সাকিব আল হাসান। মিরাজকে মিড উইকেটে চার মারার পরের বলেও ব্যাট চালিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে। ২ চারে ১৬ বলে ১৩ রান করেন তিনি।

উইকেটে থাকা আরেক ওপেনার সৈকত আলীর সঙ্গে এবার জুটি গড়েন তৌহিদ হৃদয়। সিঙ্গেলস-ডাবল খেলে বলে-রানে সমান রাখার চেষ্টা করেছেন দুজনে। ১৭ বলে ১৬ করে তৌহিদ ফেরেন মুকিদুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। ভেঙে যায় ৩৪ রানের জুটি।

তৌহিদ ফিরলে সৈকতের সঙ্গী হন ইরফান শুক্কুর। রানের চাকা দারুণভাবে সচল রাখেন দুজনে। সিঙ্গেলস-ডাবলের সঙ্গে ছিল ওভার বাউন্ডারিও। দারুণ খেলতে থাকা এই জুটি থামিয়ে দেন মিরাজ। পরপর ফেরান সৈকত ও ইরফানকে। একই ওভারে রান আউট হয়ে ফেরেন সালমান হোসেন। তিন উইকেট হারানোর চাপ উড়ে যায় জিয়া-ব্রাভোর ইনিংসে। ৩৫ বলে সর্বোচ্চ ৩৯ রান আসে সৈকতের ব্যাট থেকে। ইরফান করেন ১৩ বলে ১৬ রান।

আন্তর্জাতিক ও স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ৪ উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন মিরাজ। এর আগে মোট ৯৯ ম্যাচে তার সর্বোচ্চ উইকেট ছিল ২টি। আজ নিজেকে ছাড়িয়ে যান তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়া হয়নি। ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন তিনি। হন ম্যাচসেরাও। এছাড়া মুকিদুল নেন ১টি উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৫ রান তোলে চট্টগ্রাম। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন অলরাউন্ডার বিনি হাওয়েল। দেশি-বিদেশি অন্য ব্যাটসম্যানরা যেখানে খাবি খেয়েছেন, সেখানে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন তিনি। ৩টি করে চার-ছয়ে শেষ পর্যন্ত ২০ বলে ৪১ রান করে থামেন তিনি। এছাড়া ২০ রানের ঘর পেরোতে পারেনি আর কোনো ব্যাটসম্যান।

দুই অঙ্কের ঘর ছোঁয়ার আগেই আউট হয়েছেন বাকি চার ব্যাটসম্যান লুইস, আফিফ হোসেন, সাব্বির রহমান ও মেহেদি হাসান মিরাজ। এরপর খেলার হাল ধরার চেষ্টা করেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও নাইম ইসলাম। শামীম আউট হন ২৩ বলে ১৪ রান করে। শামীমের পর উইকেটে থিতু হয়ে ফেরেন নাইম ইসলামও। তার ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ১৫।

দারুণ বোলিং করেছেন তিন স্পিনার নাঈম হাসান, সাকিব ও জ্যাক লিনটট। নাঈম ২টি ও সাকিব-লিনটট ১টি করে উইকেট নেন। ৪ ওভারে নাঈম দিয়েছেন ২৫ রান। আর সাকিব ৯ ও লিনটট দেন ১৮ রান। আলজারি জোসেফ সর্বোচ্ছ ৩ উইকেট নিয়েছেন ৩২ রান দিয়ে। সবচেয়ে খরুচে ছিলেন ব্রাভো, ৪ ওভারে দিয়েছেন ৩৯ রান! নিয়েছেন ১টি মাত্র উইকেট। সংক্ষিপ্ত স্কোর :

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স : ১২৫/৮ (২০ ওভার)

বিনি হাওয়েল ৪১, উইল জ্যাকস ১৬, নাঈম ইসলাম ১৫, শামীম হোসেন ১৪।

আলজারি জোসেফ ৩২/৩ নাঈম হাসান ২৫/২, সাকিব আল হাসান ৯/১।

ওডি/কেএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড