• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

জিয়ার পরিচয় তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী : রেলমন্ত্রী||কলকাতায় চিকিৎসা করাতে যাওয়া ২ বাংলাদেশিকে পিষে মারল জাগুয়ার||ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের ফরম বিক্রি শুরু ||ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রস্তাব নাকচ করে দিল মার্কিন সাংসদ||ভারতকে অবিলম্বে কাশ্মীরের কারফিউ তুলতে বলেছে ওআইসি||‘তদন্ত করতে হবে কেন এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে’||ইউক্রেনের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ জনের প্রাণহানি||‘অগ্নিকাণ্ডে কেউ চাপা পড়েছে কিনা তল্লাশি চলছে’ ||মুক্তিপ্রাপ্ত ইরানের সুপার ট্যাঙ্কারটি আটকে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট জারি||অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  
eid

বর্ষায় ব্যস্ততা বেড়েছে নৌকা কারিগরদের

  নাজির আহমেদ আল আমিন, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ

১৪ জুন ২০১৯, ১৮:০৩
ভৈরব
নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বছর ঘুরে চলে এসেছে বর্ষা, বইছে সুবাতাস। তাই বর্ষার আগমনে নৌকার কারিগররাও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। বছরের অন্য মাসগুলো যেমনই কাটুক, বর্ষার অপেক্ষায় তারা অধির আগ্রহে বসে থাকে। কারণ বর্ষায় ব্যাপারীরা তাদের মৌসুমি ব্যবসার জন্য নৌকা তৈরিতে প্রয়োজন বিভিন্ন প্রকার কাঠ যেমন- মাথাকাঠ, বাইমা গুড়া, চাড়া, দারত, থুতি, বাহা, পাটাতন, মাছাইল, এবং তলির (নিচের অংশ) কাঠ কিনে মজুদ করতে থাকে।

আর তখনই বেড়ে যায় কারিগরদের কদর। তারাও প্রস্তুত থাকে নৌকা তৈরির যন্ত্রপাতি যেমন- হাতুড়ি, বাটাল,করাত ইত্যাদি নিয়ে। কখন কোন ব্যাপারীর ডাক পড়ে। আবার কেউ কেউ অগ্রিম অর্ডারও নিয়ে রেখেছে। সব মিলিয়ে ব্যাপারী আর কারিগর উভয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে।

এমনইভাবে গড়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ভৈরব ও কুলিয়ারচরের বিভিন্ন নৌকার হাট। এক সময় বিশাল নৌকার হাট বসতো ভৈরবের আকবর নগর, শিমুলকান্দি বাজার এবং কুলিয়ারচরের ছয়সতি বাসস্ট্যান্ড বাজারে।

কুলিয়ারচরের ছয়ছতির গ্রামের নৌকার মো. মানিক মিয়া বলেন, বাজার এখন আর আগের মতো জমজমাট হয় না। আগে ১০ হাত একটা নৌকা বিক্রি করতাম ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা আর ১২ হাত একটা নৌকা বিক্রি করতাম ২ হাজার থেকে ২৫শ টাকায়। তারপরও আমাদের লাভ হতো। আর এখন সেই একই মাপের নৌকা বিক্রি করতে হয় সাড়ে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায় তারপরও লাভ করা কঠিন হয়ে যায়।

কারণ হিসেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে কাঠের দাম ছিল কম এবং কারিগরের মজুরি ছিল মাত্র ২শ টাকা আর এখন মালের দাম এবং মজুরি দুটিই বেড়েছে। তা ছাড়া ক্রেতা কমার কারণে বিক্রি কম।

তিনি আরও বলেন, আগে সব দিক থেকেই আমাদের হাটে ব্যাপারী ক্রেতা আসত কিন্তু এখন বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা এবং হাউজিং কোম্পানি বালু ভরাট করার ফলে অনেক জায়গাই এখন আর নৌকার প্রয়োজন হয় না। তাই ক্রেতাও অনেক কমে গেছে। এখন শুধু যে জায়গাতে বালু ভরাট হয়নি বা ব্রিজ কালভার্ট আছে সেখান থেকে কিছু ক্রেতা নৌকার বাজারে আসে। সে কারণেই নৌকার ব্যাপারী এবং কারিগররা এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। আর আমরা আমাদের বাপ দাদার ব্যবসা হিসেবে ধরে রেখেছি মাত্র।

শিমুলকান্দি এলাকার আনোয়ার মিস্ত্রি বলেন, আমি অনেক বছর ধরে এই পেশায় নিয়োজিত আছি। তবে এখন আর আগের মতো চলে না। শুধু বর্ষায় এই কাজ করি আর বাকি সময় অন্য কাজ করি।

ছাগাইয়া এলাকার দিলিপ মিস্ত্রি বলেন, আগে বিভিন্ন গ্রামের একমাত্র যান ছিল নৌকা। তখন আমাদের নৌকার চাহিদাও ছিল প্রচুর। এখন এ সব এলাকায় ইঞ্জিন চালিত টলার চলাচল করায় অনেকাংশেই নৌকার চাহিদা কমে গেছে। এছাড়া রাস্তাঘাটও ভাল তাই নৌকার কাজও কম। তবুও ভরা বর্ষায় যখন পানিতে এলাকা ভরে থাকে তখন কিছু লাভের আশায় আবার ফিরে আসি সেই পুরনো ব্যবসায়।

স্থানীয়রা বলেন, আগে নৌকার হাটের যে কদর ছিল সে তুলনায় এখন নেই বললেই চলে। তবে বর্ষার ভরা মৌসুমে কিছু পাইকারি ব্যবসায়ীরা এবং খুচরা ক্রেতা আসার কারণেই এই শিল্প এখনও কিছুটা হলেও টিকে আছে।

ওডি/এমবি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড