• বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

পাঙ্গাশের মচমচে আচার ও পাউডার উদ্ভাবন

  বাকৃবি প্রতিনিধি

০৯ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৩৬
গবেষক দল
অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম ও তাঁর গবেষক দল (ছবি : দৈনিক অধিকার)

পাঙ্গাশ মাছের সকল পুষ্টিগুণ ঠিক রেখে সস্তায় লোভনীয় স্বাদ ও গন্ধের মচমচে পাঙ্গাশের আচার ও পাউডার উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৎস্য প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম ও তাঁর গবেষক দল। মাছের মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের ওপর দীর্ঘদিনের গবেষণা করে তারা এ সাফল্য অর্জন করেন। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় মিঠা পানির মাছের আহরণোত্তর ক্ষতি প্রশমন ও মূল্য সংযোজন প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

সস্তা ও সহজলভ্য পাঙ্গাশ মাছ গরিবের আমিষ হিসেবে পরিচিত। তাড়াতাড়ি বড় হওয়ার কারণে থাইল্যান্ডের একটি জাত আমাদের দেশে চাষ হচ্ছে। ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ড উন্নত চাষ পদ্ধতি ব্যবহার করে উন্নত মানের সাদা ফিলেট তৈরি করে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি করছে। আমাদের দেশে নানা কারণে পাঙ্গাশ চাষ পদ্ধতি উন্নত ও আধুনিক করা যাচ্ছে না ফলে সাদা ফিলেট তেরি করে রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না।

পাঙ্গাশ মাছের আচার ও পাউডার (ছবি : দৈনিক অধিকার) 

বর্তমানে অন্যান্য মাছের উৎপাদন ও যোগান বেড়ে যাওয়ায় পাঙ্গাশের বাজার মূল্য পড়ে গেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাঙ্গাশের উৎপাদন ছিলো ৭.৫ লক্ষ মেট্রিক টন। বর্তমানে উৎপাদন কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাঙ্গাশের উৎপাদন হয়েছে ৩.৫ লক্ষ মেট্রিক টন। খাদ্যসহ অন্যান্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষিরা লোকসান গুনছেন। অনেকে পাঙ্গাশ চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পাঙ্গাশ মাছ থেকে পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন করা প্রয়োজন। ড. এ কে এম নওশাদ আলম ও তাঁর গবেষক দল দীর্ঘ দুই বছর গবেষণা করে পাঙ্গাশের দুটি মজাদার পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন।

আচারটি শুকনো ও মচমচে হওয়ায় দীর্ঘদিন প্রায় এক বছরের অধিক কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। আচারটিতে পুষ্টিমান পাওয়া গেছে শতকরা ৩৭ভাগ আমিষ, ২৮ ভাগ স্নেহ, ১৬ ভাগ মিনারেল ও ১১ ভাগ ফাইবার। হৃদরোগের চিকিৎসায় মাছের তেল অনেক উপকারী। এক কেজি পাঙ্গাশ থেকে ৩৫০ গ্রাম পাঙ্গাশ আচার পাওয়া যায় যা উৎপাদন করতে সর্বমোট ১২০- ১৫০ টাকা খরচ পড়ে। ৩৫০ গ্রাম আচার ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রয় করা সম্ভব। সাধারণ রান্নার যন্ত্রপাতি ও তৈজসপত্র দিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রেখে যে কেউ মচমচে পাঙ্গাশ আচার তৈরি করতে পারবে।

পাঙ্গাশ একটি চর্বিযুক্ত মাছ। এর চর্বি ও আমিষকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ উপযোগী করে পাঙ্গাশ পাউডার তৈরি করা হয়েছে। এক কেজি পাঙ্গাশ থেকে ২০০-২৫০ গ্রাম পাউডার তৈরি করা সম্ভব। পাঙ্গাশের পাউডার দীর্ঘদিন প্রায় এক বছরের অধিক কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। পাঙ্গাশের পাউডার দিয়ে আচার, ভর্তা, স্যুপ, নুডলস, তরকারি খিচুরি ইত্যাদি বানানো যায় অথবা একে পাউডার দুধ বা নবজাতকের
খাবার, বেকারি পণ্য, বিস্কুট চিপস; বা অন্যান্য যে কোন খাদ্য দ্রব্যে মিশিয়ে পুষ্টিগুণ বাড়ানো যায়।

জারে পাঙ্গাশের মচমচে আচার (ছবি : দৈনিক অধিকার)

মাত্র ১.৫০ টাকা মূল্যের ৩ গ্রাম পাউডার দিয়ে এক জনের খাওয়ার উপযোগী ২৫০ মিলি স্যুপ বা ৮০ গ্রাম ওজনের ১ বাটি নুডলস তৈরি করা সম্ভব। পাঙ্গাশের পাউডারে ৪৫ ভাগ আমিষ, ৩২ ভাগ চর্বি, ১ভাগ মিনারেল ও ৯ভাগ ফাইবার পাওয়া গেছে। দ্রুতই পাঙ্গাশের পণ্য দুটি বাজারে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড