• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আবিরুনের সঙ্গে কী হয়েছে, এজেন্সি বলছে—আল্লাহই ভালো জানেন

  অধিকার ডেস্ক

০৩ আগস্ট ২০১৯, ১৪:১৭
আবিরুন
সৌদি আরবে নির্যাতিত হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরছেন অসহায় নারীরা, ইনসেটে আবিরুনের জাতীয় পরিচয়পত্র (ছবি : সংগৃহীত)

খুলনার মেয়ে আবিরুন বেগম। বিয়ে করে মাত্র ১ বছর ছিলেন স্বামীর সঙ্গে। এরপর বিচ্ছেদ হলে ১৮ বছর কাটিয়েছেন একাকী, আর বিয়ে করেননি। ছিলেন বাবার বাড়িতে। কিন্তু ৬ বোনকে নিয়ে বৃদ্ধ বাবার সংসারে ছিল টানাটানি। সচ্ছলতার আশায় সৌদি আরব যান। কিন্তু ২ বছরের মাথায় এলো মৃত্যুর খবর।

রিক্রুটিং এজেন্সি বলছে, ৪৮ বছরের আবিরুন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের দাবি, তিনি খুন হয়েছেন।

আবিরুনের বিদেশ যাওয়ার নথিপত্র থেকে জানা যায়, তিনি রিক্রুটিং এজেন্সি ফাতেমা এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের (আরএল-১৩২১) মাধ্যমে সৌদি আরব যান। 

ওই এজেন্সির কর্ণধার জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে থাকলেও আমাদের মৃত্যু হতে পারে। কেউ কেউ বিমানে বসেও মারা যান। আল্লাহ জানেন, কীভাবে মারা যায়। তার ব্যাপারটিও আল্লাহই ভালো জানেন।

সড়ক দুর্ঘনায় মৃত্যু দাবি করেও এক পর্যায়ে জাহিদুল বুঝাতে চাচ্ছেন আবিরুনেরও দোষ ছিল। তার ভাষ্য, এক কাঠি কখনো বাজে না। একটা ঢোল আর একটা কাঠি দুই জায়গায় রাখলে বাজে না।

আবিরুনের পরিবার বলছে, সৌদি যাওয়ার কয়েক দিন আগে আবিরুন হঠাৎ সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। তবে রিক্রুটিং এজেন্সি, দালাল রবিউল এবং নিপুনের চাপ ও হুমকির মুখে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে সৌদি আরব যেতে বাধ্য হন তিনি।

তবে যে আশায় সৌদি গিয়েছিলেন তা আর হয়নি। আবিরুন সৌদি যাওয়ার পর দুই বছরে একটি টাকাও পায়নি দেশে থাকা পরিবার। এমনকি তার সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারেনি পরিবার। এতদিন পর দিশেহারা পরিবারের কাছে এলো আবিরুনের মৃত্যুর খবর। পরিবারটি এখন লাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

স্থানীয় দালাল রবিউলের মাধ্যমে সৌদি যান তিনি। তাকে জিজ্ঞাসা করলে বলতেন, আবিরুন হয়তো অ্যাকাউন্ট নম্বর ভুলে গেছে অথবা নম্বরে ভুল আছে। তবে সে অনেক ভালো আছে।

আবিরুনের বোন রেশমা আক্তার বলেন, আপাই ছিল আমাদের একমাত্র আয়ের মানুষ। সৌদি যাওয়ার পরে বোনের কোনো খোঁজ পায়নি। দালালের কাছে বারবার অনুরোধের পরে কয়েক মাস পরপর দুই-এক মিনিট কথা বলতে পারতাম। ওখানে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। মামলা করলে আপার বড় ক্ষতি হবে বলে দালাল আমাদের হুমকি দিত। বলত অ্যাকাউন্ট নম্বরে ভুল আছে, তাই টাকা আসে না।

রেশমা আরও বলেন, দালাল রবিউল এখন আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আপার মৃত্য নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে নাকি সৌদি থেকে লাশ আনতে পারব না।

জানা গেছে, আবিরুনের লাশ সৌদির একটি হাসপাতালে রয়েছে। তার লাশ দ্রুত দেশে আনতে ও এই মৃত্যুর ন্যায়বিচারে দাবি জানিয়েছে পরিবার।

দুই বছরে কোনো টাকা না পাওয়া ব্যাপারে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আবিরুনের পরিবার কেন দুই বছর চুপ করে ছিল। আগে কেন তারা অভিযোগ জানায়নি। এর মানে তারা মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে ১২০ জন নারী কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছি। বাকিদের অন্যরা এনেছে আমি প্রসেস করেছি। আবিরুনের পাসপোর্ট নম্বর জানার পরে বলতে পারব, তিনি কীভাবে সৌদি আরব প্রবেশ করেন।

ওডি/এমআর

প্রবাস জীবন, আকাঙ্খা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমীকরণ সবই লিখুন দৈনিক অধিকারকে [email protected] আপনার প্রবাস জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র অনুভূতিও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড