• বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ

  রূপগঞ্জ প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৩:৩৮
ছাত্রলীগ
বাঁয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন পুলিশ সদস্যরা, ডানে হামলার পর দোকানের অবস্থা (ছবি: দৈনিক অধিকার )

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভুলতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুপক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। 

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের এ সংঘর্ষের সময় স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া উভয় পক্ষের সশস্ত্র মহড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় এক পক্ষ আরেক পক্ষের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করে। বর্তমানে উভয় পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ মিয়া তার পারিবারিক অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুমের মুড়াপাড়ার বাড়িতে যায়। সন্ধ্যায় আব্দুল আজিজ মিয়াকে নিয়ে শেখ ফরিদ মাসুম একটি প্রাইভেট কারে করে ভুলতা এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় প্রাইভেট কারের সামনে তাদের একটি মোটরসাইকেল ছিল। ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হামজালার পক্ষের লোকজন সামনে থাকা মোটরসাইকেলটির গতিরোধ করে। 

পরে মোটরসাইকেল আরোহী বিপ্লব হাসানকে হামজালার পক্ষের লোকজন মারধর শুরু করে। শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুম তার সহযোগী বিপ্লব হাসানকে মারপিট থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এ সময় মাসুমের সঙ্গে হামজালা লোকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। 

এর কিছুক্ষণ পরে হামজালার লোকজন ধারাল অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভুলতা থেকে নাহাটি এলাকায় একটি অস্ত্রের মহড়া দেয়। এরপর শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুম ও রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদারের লোকজনও একত্রিত হয়ে পাল্টা মহড়া দেয়। একপর্যায়ে ফয়সাল শিকদারের লোকজন হামজালার দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া একটি মুদি দোকানসহ বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। 

খবর পেয়ে ভুলতা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়। পুলিশ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই হামজালাসহ তার এক থেকে দেড় শতাধিক লোক রামদা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভুলতার নাহাটি এলাকায় অবস্থিত রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল শিকদারের অফিস ভাঙচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক এবং গোলাম মর্তুজা পাপ্পার ছবি ভাংচুর করেন বলে দাবি করেন শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুম। 

এছাড়াও নাহাটি এলাকার বেশ কয়েকটি দোকানও ভাঙচুর করেন তারা। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপই সশস্ত্র অবস্থায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পরে ফের পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

‘গ’ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহিন ফরাজী ও রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সূত্র জানায়, এলাকার বিভিন্ন কাজ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরেই ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‘গ’ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহিন ফরাজী বলেন, এ ব্যাপারে কোনো পক্ষকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ওডি/এমএমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড