• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গণতন্ত্রই পারে কর্তৃত্ববাদী শক্তিকে কাবু করতে

  মুহাম্মদ হাসিবুর রহমান

১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:২৭
গণতন্ত্র
গণতন্ত্র (ছবি : প্রতীকী)

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটাল হিলে সহিংস হামলার বছরপূর্তি হয়েছে কদিন আগে। ন্যাক্কারজনক সে হামলার বছরপূর্তির প্রেক্ষাপটে গত ২ জানুয়ারি মার্কিন গণতন্ত্র নিয়ে দুটো জরিপ প্রকাশ করা হয়েছে। জরিপ দুটোর একটি করেছে সিবিএস নিউজ এবং ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড করেছে অন্য আরেকটি জরিপ।

জরিপ দুটো থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ও উন্নত দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিক নিজেদের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রায় আড়াইশ বছরের প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা, মানবাধিকার, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যে গৌরবোজ্জ্বল অতীত তাদের রয়েছে, দেশটির নাগরিকেরা তাকে মলিন ভাবতে শুরু করেছেন। গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া কখনো-সখনো উচিত বলেও মনে করছেন ৩৪ শতাংশ মার্কিনি। তাছাড়া, উদারনৈতিক গণতন্ত্রের ওপর হামলাকারী, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী লোকরঞ্জনবাদী ফ্রাংকেনস্টাইন ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুচরদের সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানাচ্ছে জরিপগুলো। অথচ জরিপগুলোতে কমে গেছে গণতন্ত্র নিয়ে গর্বিত মানুষের সংখ্যা। স্পষ্টতই এই ফলাফল গণতন্ত্রকাঙ্খী প্রতিটি নাগরিকের জন্যই হতাশার, উদ্বেগের।

বিগত কয়েক বছর ধরেই গণতন্ত্র যাত্রা করছে পেছন দিকে। আর এই পশ্চাতযাত্রা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই শুরু হয়নি, এই যাত্রা শুরু হয়ে গেছে ইউরোপ, এশিয়াতেও। হান্টিংটনের বর্ণিত গণতন্ত্রের তৃতীয় জোয়ারে ভাটা এসে পড়েছে- এমনটা তাত্ত্বিকেরা বলছিলেন অনেক দিন আগে থেকেই। গত বছরের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটাল হিলে শ্বেতাঙ্গ নৈরাজ্যবাদীদের হামলা ছিল তারই সচিত্র প্রতিবেদন।

এশিয়ায় গণতন্ত্রের পথচলা কখনো মসৃণপথে হয়নি। সময়ে-অসময়ে এখানে হোঁচট খেতে হয়েছে গণতন্ত্রকামীদের। ইউরোপে সে তুলনায় গণতন্ত্র নিরাপদ ছিল অনেকটাই। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে উগ্র জাতীয়তাবাদী, শ্বেতাঙ্গ নৈরাজ্যবাদী ও লোকরঞ্জনপ্রিয় লোকজনের কোলাহলে গণতন্ত্র সেখানেও সংকুচিত হয়ে গেছে অনেকখানি। যার ঝাপটা পড়ছে এসে পৃথিবীর এমাথা-ওমাথায়। পক্ষান্তরে কর্তৃত্ববাদ, লোকরঞ্জনবাদের চলছে বাড়বাড়ন্ত। নির্বাচনি কর্তৃত্ববাদের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত!

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন হতে পারে, জনগণের জন্য, জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত থেকেও গণতন্ত্র কীভাবে জনতার অধিকার হরণকারী লোকরঞ্জনবাদী কর্তৃত্ববাদের কাছে মার খেয়ে যাচ্ছে? লোকরঞ্জনবাদী কর্তৃত্ববাদে তবে কী রয়েছে, যা থেকে উদারনৈতিক গণতন্ত্র বঞ্চিত?

গত বছরের যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়লাভের পরপরই সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন, বাইডেন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বৈশ্বিক গণতন্ত্রকে সুসংহত করা। এটা যুক্তরাষ্ট্রে যেমন, তেমনি ইউরোপ-এশিয়াতেও। ক্রমেই উদারনৈতিক গণতন্ত্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরুপে হাজির হচ্ছে নির্বাচনি কর্তৃত্ববাদ। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এখনই সবচেয়ে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হচ্ছে পশ্চিমা গণতন্ত্র। মানুষজন এমন শাসকগোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকে যাচ্ছেন, যারা গণতন্ত্রের আলাখাল্লায় সজ্জিত হয়ে চেপে ধরছেন গণতন্ত্রেরই গলা। অথচ এড়িয়ে যাচ্ছেন আদি অকৃত্রিম গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চাকারীদের।

রাশিয়ায় পুতিন, চীনে সি জিন পিং, ব্রাজিলে বলসোনারো, ভারতে নরেন্দ্র মোদি, তুরস্কে এরদোয়ান, হাঙ্গেরির ওরবান, ফিলিপাইনের দুতার্তের শাসন বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক নেতাদের থেকে জনগণের আস্থা টলে যাচ্ছে। এশিয়ান ব্যারোমিটার সার্ভের জরিপ থেকেও মিলছে একই তথ্য। সংস্থাটি জানাচ্ছে, এশিয়ায় উদারনৈতিক নেতাদের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠছে মানুষজন। যার ফলে পুঞ্জিভূত হচ্ছে ক্ষোভ, জমছে হতাশার কালো! যা কিনা স্পর্শ করছে লোকরঞ্জনবাদী এসব নেতা। ফলে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার রসদই হয়ে উঠছে লোকরঞ্জনবাদীদের হাতিয়ার।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক মহামন্দার পর প্রয়োজন ছিল একটি মহা-সংষ্কারযজ্ঞের। বিশ্বায়নের ফসল সমাজের সকল শ্রেণিতে বণ্টন করে দেয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল বিশেষ পদক্ষেপের। কিন্তু মহামন্দা-উত্তর বিশ্বে যে অর্থনৈতিক সংস্কার আমরা প্রত্যক্ষ করেছি গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর পক্ষ থেকে, তা যথেষ্ট হয়নি সমাজের নিচতলায় বসবাসরত মানুষের জন্য। ফলে নিম্ন মজুরির সীমিত কিছু কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হলেও বিশ্বায়নের ফলে ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সেই শ্রেণির প্রবেশাধিকার হতে থাকে সংকুচিত। গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর দায়বদ্ধতা নিয়ে তখনই আস্থাহীনতায় ভুগতে শুরু করে এই শ্রেণিটি।

সুদীর্ঘ সময়ের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে পশ্চিমের দেশগুলোর অনীহা নিম্ন-মধ্যবিত্তদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এই ক্ষোভেরই চূড়ান্ত ঘটে ২০১৫ সালের শরণার্থী-সংকটের সূচনায়। অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য বঞ্চিত নিম্ন মজুরির লোকেরা খেয়াল করতে শুরু করেন, বাইরের দেশ থেকে আসা শরণার্থীরা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের অর্থনীতি, পুঁজিপতিরা ভরাট করে ফেলছে তাদের কর্মসংস্থান। পাল্টে যাচ্ছে সামাজিক গঠন। সরকারগুলোর পররাষ্ট্রনীতি হয়ে যাচ্ছে অভিবাসীদের প্রতি দুর্বল। যাতে গুরুত্ব হারানোর শঙ্কায় পড়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি। সৃষ্টি হয় আত্মপরিচয়ের নয়া সংকটের। ফলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা, অর্থনৈতিক অসাম্য ও উদ্বাস্তু সংকটের ফলে পশ্চিমের সমাজে সৃষ্টি হয় বহুমাত্রিক অস্থিরতা। যারই হাইব্রিড ফসল হালের ট্রাম্প, বরিস জনসন, নাইজল ফারাজ ও মারিন লাঁ পেঁনের মতো পপুলিসট নেতারা।

পপুলিসট নেতারা পশ্চিমের সমাজে সৃষ্ট এই নতুন সঙ্কটকে উদারনৈতিক নেতাদের তুলনায় বেশি স্পর্শ করতে পেরেছেন জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী। তারা উসকে দিয়েছেন উগ্র জাতীয়তাবাদ, ধর্ম দিয়ে সৃষ্টি করেছেন বিভেদ। অঞ্চলভেদে পরিবর্তন করছেন কৌশল। কাজে লাগাচ্ছেন যেমন ডানপন্থী লোকরঞ্জনবাদীদের, তেমনি জোড়া দিচ্ছেন বামপন্থী জনতুষ্টিবাদীদেরও। তাদের গন্তব্য জনগণের প্রত্যাশার দিকে, তাদের লক্ষ্য জনগণের ক্রোধের দিকে। সেজন্যই আমরা তাদের মুখে পাইকারি হারে উচ্চারিত হতে দেখি প্রতিশ্রুতি, বাক্যবাণে বিদ্ধ করতে দেখি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের। আর দিতে দেখি জনগণের স্বপ্নের পালে হাওয়া। তাই এরদোয়ানের মুখে শুনি অটোমান সাম্রাজ্যের কল্পকাহিনী, সি জিন পিংয়ের মুখে শুনি চীনাদের শ্রেষ্ঠত্ব, পুতিনের কাছে পাই সোভিয়েত রুশের প্রতিশ্রুতি আর ওরবান-ভিলটারসদের হাঙ্গেরি-পোল্যান্ড থেকে শুনি খ্রিষ্টীয় ইউরোপের আবাহন।

পপুলিসট নেতাদের সুবিধা করে দিচ্ছে সমাজের বিভাজন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক সংষ্কারহীনতা। সমাজে নতুন করে সৃষ্ট আত্মপরিচয়ের সংকটকেও জনগণকে আকৃষ্ট করার উপাদান হিসেবে তারা বেছে নিয়েছেন। ইতিহাসের মিথস্ক্রিয়াকে তারা এক্ষেত্রে কাজে লাগাচ্ছেন সুচতুরভাবে। নতুন এই পরিচয়কে মূল সংজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত করে তারা বেছে নিচ্ছেন "আমরা" ও "তারা"। আর সামাজিক এই বিভেদ জিইয়ে রাখতে তাদের নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো।

প্রচারে ক্ষিপ্রতা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণহীনতার সুযোগ নিয়ে তারা একে ব্যবহার করে বাধাগ্রস্ত করে তুলছেন স্বচ্ছ গণতন্ত্রের প্রবাহ। আর উদারনৈতিক নেতাদের অমনোযোগীতার ফলে তারা এর ফসল তুলছেন কড়ায়-গণ্ডায়। তারা অবলম্বন করছেন জনগণের স্বপ্নকে; কিন্তু দিনশেষে তাদের রেখে দিচ্ছেন ভুখা; হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতির আফিম। গণতন্ত্রের চর্চা করেই তারা বিশ্বাসঘাতকতা করছেন গণতন্ত্রের সাথে। আক্রান্ত করছেন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে; সৃষ্টি করছেন নির্বাচনী কর্তৃত্ববাদের।

সুদীর্ঘকালের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ক্লেদই জন্ম দেয় লোকরঞ্জনবাদীদের, ফ্যাসিস্টদের। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংষ্কারহীনতার ফলেই সমাজে বাড়ে সর্বনাশা বিভাজন। মানুষ তখন তাত্ত্বিকদের হাত থেকে মুক্তির আশায় খোঁজে নতুন নেতা। ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা এমন বাস্তবতাই খুঁজে পাই। হিটলার, মুসোলিনিদের মতো স্বৈরদৈত্য একই পথরেখা অনুসরণ করে এসেছে, যেমনটা হাল আমলের নির্বাচিত একনায়কেরা করে আসছেন।

জনগণের ক্ষোভের সুযোগ নিতে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংষ্কারহীনতার বিরুদ্ধে এরা ছুঁড়ে দিচ্ছে অসাংবিধানিক, বিভাজনমূলক ও বর্জনবাদী চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক অসাম্যরোধে জনগণের আবেগকে ধাবিত করছে অবাস্তব সব প্রতিশ্রুতির দিকে আর নিজেদের ব্যর্থতাকে আড়াল করতে তারা সমাজে সৃষ্টি করছে সর্বনাশা বিভাজন। এসবই হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতার কারণে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হলে এবং সামাজিক গণতন্ত্র চর্চার পথ সুগম হলে মানুষ লোকরঞ্জনবাদীদের ধোঁকায় পড়ে না। সাম্প্রতিক সময়ে জো বাইডেনের বিজয় ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয় যার স্বপক্ষে সবচে বড় দলিল।

লোকরঞ্জনবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জাতীয় সকল স্তর ঘিরেই। সাধারণ মানুষকে লোকরঞ্জনের বিষে বিষাক্ত করতে পূর্ব-পশ্চিম সবদিকেই রয়েছে প্রতারকদের প্রবঞ্চনা। কিন্তু সে হিসেবে গণতান্ত্রিক নেতাদের নেই তেমন কোন প্রতিক্রিয়া। তারা গৎবাঁধা আর্থসামাজিক সূচকগুলো ঘিরেই বিস্তার করছেন তাদের কর্মপরিধি৷ চেষ্টা করছেন না, জনগণের আবেগ-অনুভূতিকে ছোঁয়ার। বিশ্বায়নের ফলে মধ্যবিত্তদের প্রতি সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলায় তাদের পদক্ষেপ ধনিক শ্রেণীর উপকার বৈ গরীবদের জন্য উপকার বয়ে আনতে পারেনি। শরণার্থী ইস্যুতেও উদারনৈতিক নেতাদের অভিবাসীসহিষ্ণু নীতিও উপেক্ষা করেছে নাগরিকদের উদ্বেগের। আর সামাজিক গণতন্ত্র চর্চার স্বল্পতা সৃষ্টি করেছে আদর্শবাদী গণতন্ত্রের সংকট। মোটকথা উদারনৈতিক গণতন্ত্রের নেতারা সকল স্তরেই পর্যদুস্ত হয়েছেন লোকরঞ্জনবাদী নেতাদের কাছে।

এভাবেই উদারনৈতিক রাজনীতির কানাগলি বেয়ে ওঠে আসছেন নরেন্দ্র মোদি, নিকোলাস মাদুরো, বোলসোনারোর মতো নেতারা। তাদের কেউ হয়ত ডানপন্থাকে করেছেন স্বীয় কর্তৃত্ববাদের সহযোগী, কেউ বামপন্থাকে করেছেন সহযোগী, আবার কেউ হয়ত উগ্র জাতীয়তাবাদের কাঁধে তুলে দিয়েছেন কর্তৃত্ববাদের জোয়াল। কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠার পথরেখা ভিন্ন হলেও তাদের সকলের গন্তব্য এক। সকলেই জনতুষ্টিবাদের বিষ মিশিয়ে গণতন্ত্রের পিঠে বসাচ্ছেন বিষাক্ত ছুড়ি। করছেন জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।

উদারনৈতিক গণতন্ত্র এভাবেই পড়ছে একুশ শতকের প্রথম চ্যালেঞ্জের মুখে। এই বাধা উতরাতে হলে গণতন্ত্রকে অবলম্বন করা এবং সকল শ্রেণির মানুষকে এতে সংযুক্ত করার বিকল্প নেই। কেননা, দিনশেষে গণতন্ত্র জনগণেরই শাসন। মানুষ যদি শাসনব্যবস্থায় নিজের অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্রের কাছে নিজের সঠিক হিসাব বুঝে না পায় তখনই সে ঝুঁকে বিকল্প পন্থার দিকে। সেজন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শক্তিশালী করে সামাজিক গণতন্ত্র চর্চায় অগ্রসর হওয়া উচিত গণতন্ত্রাকাঙ্খীদের; এবং জরুরী, প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের। পাশাপাশি বিশ্বায়নের ফসল সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের মাঝে সমভাবে বণ্টন করে দেওয়াটাও জরুরী। মোটকথা গণতন্ত্রের আদি নির্যাস থেকে গৃহীত ফর্মুলাই রোধ করতে পারে গণতন্ত্রের বাড়বাড়ন্ত।

এমন সমীকরণে দাঁড়ালে, ২০২০ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলতেই হয়। লোকরঞ্জনবাদের বাড়বাড়ন্ত সময়ে তিনি পরাজিত করেছেন পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জনতুষ্টিক ফ্রাংকেনস্টাইনকে। তার এই বিজয় প্রকৃতপক্ষে উদারনৈতিক গণতন্ত্রেরই বিজয়। তিনি প্রমাণ করেছেন সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্র লোকরঞ্জনবাদী কর্তৃত্ববাদের চেয়ে শক্তিশালী। যদিও সেই কর্তৃত্ববাদের চর্চা পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান দেশের প্রেসিডেন্টও করেন। লোকরঞ্জনবাদের উত্থানকালে তার এমন বিজয় সম্ভব হয়েছে কেবলই গণতন্ত্রের কল্যাণে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান সুসংহত থাকায়।

তার এই তাৎপর্যপূর্ণ বিজয় ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লোকরঞ্জনবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোই হবে মূল হাতিয়ার। গণতন্ত্রের চর্চা যেখানে যত বাড়বে আগামীতে, শক্তিশালী হবে যতখানি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো, কর্তৃত্ববাদের জমিন সেখানে সংকুচিত হবে ততখানিই।

লেখক : শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড