• বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন হবে 

  রায়হান রনি

০৭ আগস্ট ২০২২, ১৪:১৪
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন হবে 
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপ প্রচার সম্পাদক রায়হান রনি (ফাইল ছবি)

যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন হয়েছে মাঝে বয়ে গেছে রক্তের সাগর। বহু ত্যাগ আর সংগ্রামের এই স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা বাংলাদেশের মানুষের আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সমৃদ্ধির প্রতীক। বঙ্গবন্ধু যখন দেশকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করলেন, তিনি স্বপ্ন দেখলেন বাঙালির ভাগ্য পরিবর্তনের ঠিক সেই মুহূর্তেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন!

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের দ্বার উন্মোচিত হলো ১৯৮১ সালে যখন বঙ্গবন্ধুর রক্তের সুযোগ্য উত্তরসূরি, গণমানুষের নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলেন। সুদীর্ঘ ২১ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হারানো গৌরব ফিরে পেলো,১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয় লাভ করলো।

সেদিন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাঙালি ফিরে পেল গণতান্ত্রিক অধিকার। এছাড়া খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সকল কিছুই নাগালে এলো সাধারণ মানুষের। যে মানুষগুলো স্বপ্নেও ভাবেনি এমন জীবনের কথা, সেই রূপকথার মতো জীবন এখন বাঙালি প্রতিনিয়তই যাপন করছে। সেই সুফল এনে দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় এলো তখন বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৪ বিলিয়ন ডলার সেই বটমলেস বাস্কেট দীর্ঘদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকায় এখন ৪২ বিলিয়ন ডলারে পরিণত হয়েছে। এই অর্জনে যেমন সাধারণ মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি তেমনি এই অবদান শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের ফসল।

দেশের রাজনীতিতে গঠনমূলক অংশগ্রহণের সুযোগ একমাত্র আওয়ামী লীগেই রয়েছে। রয়েছে আত্মসমালোচনার সুযোগ কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মীদের একাংশের আচরণে অস্থিরতা-অপরিপক্বতার চিহ্ন ফুটে উঠছে। সেটি আদর্শহীন, সুযোগ সন্ধানী রাজনৈতিক চর্চার অনিবার্য ফল বলেই মনে হয়। এর সঙ্গে রয়েছে নিয়ম না মানা সংস্কৃতির বিস্তার।

খুব স্বাভাবিকভাবেই সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সেই সাথে ব্যক্তিগত আয়ের সাথে জীবনের অসামঞ্জস্যতা। লক্ষণীয় যে অধিকাংশ অনলাইন এক্টিভিস্ট সরকারের উপরে দায় চাপিয়েই সন্তুষ্ট আবার কেউ কেউ শ্রীহীন শব্দ বোমার বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য কোভিড পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সারের মূল্য অস্বাভাবিক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় কয়েকগুণ বেশি। তাছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় জাহাজ ভাড়াও প্রায় দুইগুণ পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। সবকিছুর পরেও জনগণের স্বার্থে আওয়ামী লীগ সরকার সারের উৎপাদন ও আমদানি অব্যাহত রেখেছে।

বিএনপি আমলে কৃষিতে যে ভর্তুকি ছিল এখন তার চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি ভর্তুকি দিচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। বিএনপির শাসন আমলে সারসহ কৃষি উপকরণের চরম সংকট ছিল। সারের জন্য বিএনপি সরকার ১৯৯৫ সালে ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করে। অনলাইন প্রজন্মের কেউই হয়তো জানতে চায় না সারের জন্য জীবন দিতে হয়েছে যে কৃষক ভাইদের আওয়ামী লীগ সরকার তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে সুলভ মূল্যে।

কয়েকমাস আগে মন্ত্রী পরিষদ সচিব বক্তব্যে বলেন, ‘এই যে কোভিড রিকভার করা যাচ্ছিল কিন্তু ইউরোপের যে যুদ্ধটা এটা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ইকোনোমিক ক্রাইসিস শুধু না সাপ্লাইয়েরও একটি ক্রাইসিস হচ্ছে। কারণ রাশান দেশগুলো হল ফুড এবং এনার্জি সাপ্লাইয়ে সারপ্লাস। আমরা সবাই যেন একটু সাশ্রয়ী থাকি বা র‍্যাশনাল থাকি।’

মূল্যস্ফীতি একটি গ্লোবাল ফেনোমেনা। সারা পৃথিবীতেই মূল্যস্ফীতি দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ সারা পৃথিবীতেই এর প্রভাব বিস্তার করেছে। বাইরে থেকে আমরা যেসকল খাদ্যদ্রব্য আমদানি করি, সেগুলোর দাম এমনিতেই বাড়বে। সে জন্য বাংলাদেশের ভোক্তাদেরও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে। মানসিক প্রস্তুতি, অপচয় না করার মনোভাব তৈরি এবং বাস্তবিক চিন্তা ভাবনা করার ক্ষমতা অর্জন করাই সুনাগরিকের লক্ষ্মণ।

ভোগ বিলাসি চিন্তায় আত্মমগ্ন একজন মানুষের মাঝে দেশপ্রেম থাকে না, যারা দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখে, তারা বিদেশে প্রাচুর্যের সন্ধান করে। নিজে ভালো থাকতে চায়। কীভাবে মাতৃভূমি বাসযোগ্য হয়ে উঠবে, উন্নত ও টেকসই হবে-সেদিকে তাদের নজর নেই। অপচয় করা, নিয়ম না মানা, অবৈধ সম্পদ উপার্জনই যেন এখন মানুষের লক্ষ্যবস্তু। নিজে লাভবান হওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় আচ্ছন্ন হচ্ছে সমাজ।

১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তিরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে দেশের স্বাধীনতা ও স্বপ্নকে হত্যা করতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনা জীবিত রয়েছেন। তিনিই তার পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন; কিন্তু ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা বসে নেই; ষড়যন্ত্রকারীরা নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। তাই সকলকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

আমরা বিশ্বাস করি, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং মহাকাল তার নেতৃত্বকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতার স্বপ্ন সবকিছুর মেলবন্ধনে এই দেশ গড়ে তোলার একক যে ভূমিকা রাখছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা নাগরিক হিসেবে, সরকারি কর্মচারী হিসেবে, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যদি তার মতো করে দেশকে ভালোবেসে কাজ করি, দেশকে গড়ার স্বপ্ন দেখি, তবে যত বড় সংকট আসুক না কেন তা মোকাবিলা করা আমাদের পক্ষেই সম্ভব।

আসুন আমরা বৈশ্বিক সংকটে সুযোগ সন্ধানী আচরণ না করে একে অপরের পাশে থাকি। নিজের পেটটাকে বড় না করে মনটাকে বড় করি, চিন্তার গভীরতা বাড়াই। এতে করে তা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক সেইসাথে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও মঙ্গলজনক।

লেখক : উপ প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড