• বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

একদিকে জীব-জড়বস্তু খেলা, অন্যদিকে কিছু হতাশা

  রাজু আহমেদ

১৫ আগস্ট ২০২১, ২০:৫৮
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পৃথিবী (ছবি : সংগৃহীত)

‘ভাইরাস’ শব্দের সাথে পরিচিত হয়ে উঠেছে দেশ-বিদেশের লক্ষ-কোটি মানুষ। কিন্তু এই ভাইরাস কি আসলে জীব? নাকি জড়বস্তু? এই উত্তর হয়তো খুব সহজে সবার কাছে ধরা দিবে না। বিজ্ঞানী Lwoof যখন ১৯৫২ সালে বলেছিলেন, ‘ভাইরাস জীবও নয়, জড়বস্তুও নয়; ভাইরাস ভাইরাসই’ তখন কি তিনি ভেবেছিলেন আগামী শতাব্দীর অন্যতম চমকে উঠার কাণ্ড ঘটাতে যাচ্ছে এই অতি-আণুবীক্ষণিক সত্তা? হয়তো শুধু তিনি নন, বিশ্ববাসীও কল্পনা করেনি যে আর কিছু যুগ পরেই পৃথিবীকে এলোমেলো করে দিতে আসবে ‘করোনা’ ভাইরাস নামক প্রাণঘাতী এই ভাইরাস।

বিজ্ঞানীদের মস্তিষ্কে যখন জীব-জড়বস্তু নিয়ে গবেষণা শেষ হয় না, ঠিক তখনই লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর জন্য নিয়ে আসল হতাশা। ২০১৯-২০ সেশনের ছাত্র -ছাত্রীদের কথাই ধরুন, তারা জীবনের রঙিন সপ্ন নিয়ে এসেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রঙিন আঙিনায়। তাদের চোখে-মুখে শুধু দেশের মানুষ, নিজের পরিবারের জন্য কিছু অর্জন করার স্বপ্ন। কিন্তু ওই যে নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অতি-আণুবিক্ষণিক সত্তা তো উঁকি দিচ্ছে তাদের গতিরোধ করার জন্য।

নিদারুণ কষ্টকে সঙ্গী করে তাদেরকে ফিরতে হলো বদ্ধ দুয়ারের দিকে। পরিবার-সমাজের কাছে সুনাম অর্জন করা মেয়েদের হতে হলো একটি বোঝা। যেই কলম নিয়ে তাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল সেই কলম নিয়ে তাদের সাক্ষর করতে হচ্ছে বিয়ের কাবিননামায়। আর ওই ছাত্র গুলো! তাদের পড়তে হচ্ছে নিষ্ঠুর বাস্তবতায়। যাদের নাকি পরিবারের সুনাম অর্জন করে দেশের জন্য কিছু করার অঙ্গীকার ছিল, তারা যাচ্ছে কোদাল হাতে নিয়ে মাঠে।

করোনা পরিস্থিতি এই কঠিন বাস্তবতায় শিক্ষা জীবনের শুরুতে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী চলে যাচ্ছে একটু একটু করে হতাশায়। তাদেরকে ভাবতে বাধ্য করছে ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাদেরকে ভাবতে হচ্ছে সেশনজট নিয়েও। মিলবে কী একটু মুক্তি? আমাদের কি হার মানতে হবে ওই জীব-জড়বস্তু নামক ভাইরাসের কাছে? নাকি আমরা রাঙাতে পারবো ভবিষ্যৎ?

বিজ্ঞানীরা ভাইরাসের জীবীয় বৈশিষ্ট্যের মধ্যে বলেছিলেন যে, এই আণুবীক্ষণিক সত্তা মিউটেশন ও ভেরিয়েশন তৈরি করতে সক্ষম। তখন হয়তো কেউ ভাবতে পারেনি যে করোনা ভাইরাস তার ভেরিয়েশন ঘটিয়ে নিরাময় সৃষ্টিতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। আর ছাত্র-ছাত্রীদের শুনিয়ে যাবে একটার পর একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নোটিশ।

শিশুরা যেমন মায়ের কোলে সুন্দর ঠিক তেমনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও সুন্দর শিক্ষার্থীদের দ্বারা। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের চিরচেনা রূপ হারিয়ে ফেলেছে। আর তার প্রাণটা রয়েছে যেন একটি বদ্ধ কারাগারে। হবে কি একটু প্রশান্তি? আমরা তো ক্লান্ত বদ্ধ ঘরের পড়ার টেবিলে আর স্মার্টফোনের চক্করে।

কোনো মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানের শিক্ষা জীবনের অনেকটা সময় যদি ওই আণুবিক্ষণিক সত্তা শেষ করে দেয়, তাহলে কিছুটা হতাশায় নিমজ্জিত হওয়া তো দোষের কিছু নয়। তাই এখন লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর একটাই চাওয়া; শেষ হোক ওই জীব-জড়বস্তু খেলা। উজ্জল আলোয় আলোকিত হোক তাদের ভবিষ্যৎ।

লেখক : ল’এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড