• সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

  অধিকার ডেস্ক

১৫ মে ২০২২, ২০:৫৬
প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা
প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা (ছবি : সংগৃহীত)

আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ একটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ওয়ার্ল্ডফিশ কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্প। প্রকল্পের লক্ষ্য হল একটি সমন্বিত লবণ-আর্টেমিয়া-অ্যাকুয়াকালচার উৎপাদন ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে কক্সবাজারের লবণ চাষীদের জীবন- জীবিকার উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক মাছ চাষের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা গত বৃহস্পতিবার মৎস্য অধিদপ্তর (DoF), মৎস্য ভবন, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য অধিদপ্তরের জনাব, শামীম আরা বেগম, পরিচালক (রিজার্ভ) এবং জনাব ক্রিস্টোফার প্রাইস, ওয়ার্ল্ড ফিশ রিজিওনাল ডিরেক্টর সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক আর্টিমিয়া বিশেষজ্ঞ ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. প্যাট্রিক সরগেলুস, ঘেন্ট ইউনিভার্সিটি, বেলজিয়াম, এবং মৎস্য অধিদপ্তর এবং ওয়ার্ল্ড ফিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ড. মিজানুর রহমান, টেকনিক্যাল টিম লিডার, প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি তুলে ধরেন। ড. মিজান, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), বাংলাদেশের চিংড়ি হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন, বেসরকারি সংস্থা (শুশীলন, মুক্তি কক্সবাজার, কোস্ট ফাউন্ডেশন), লবণ চাষি, ঘেন্ট ইউনিভার্সিটি, বেলজিয়াম, ক্যান থো বিশ্ববিদ্যালয়, ভিয়েতনাম এর সাথে চলমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বর্ণনা দেন।

লবণ চাষীরা খুবই দরিদ্র, ৮৬% প্রাথমিক শিক্ষার নিচে, ৮০% লবণ উৎপাদনের জন্য ইজারাকৃত জমির উপর নির্ভরশীল এবং বেশিরভাগই লবণ বিক্রির রাজস্বের উপর নির্ভরশীল। প্রকল্পটি কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, মহরেশখালী ও টেকনাফ নামে কক্সবাজারের চারটি উপজেলার সাতটি ক্লাস্টারে সমন্বিত আর্টিমিয়া-মাছ-লবণ উৎপাদনে সফল হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আর্টিমিয়া বায়োমাস পোস্ট লার্ভা ডায়েট, চিংড়ি হ্যাচারিতে ব্রুডস্টক ডায়েট, চিংড়ির নার্সারি, কার্প ব্রুডস্টক ডায়েট, ক্যাট মাছ (শিং, মাগুর), তেলাপিয়া, শোল পোনা পালনের সম্ভাব্যতা প্রদর্শনের জন্য খাবার হিসেবে সরবরাহ করা হয়েছে। আর্টিমিয়া বায়োমাস ব্যবহার করে মানুষের খাদ্যের রেসিপি তৈরি হয়েছে। মৎস্য প্রদর্শন চাষিরা এলাকার গড় উৎপাদনশীলতার চেয়ে চার গুণ বেশি উৎপাদনশীলতা দেখিয়েছেন (২৩৩ কেজি/হেক্টর)।

বর্তমানে, আর্টিমিয়া, মেরিন অ্যাকুয়াকালচার এবং বসতবাড়িতে মাছ চাষ সহ প্রায় ১০০ টি প্রদর্শনী পুকুর চালু রয়েছে। প্রকল্পটি স্পষ্টভাবে বাংলাদেশে আর্টিমিয়া পুকুর উৎপাদনের প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা প্রদর্শন করেছে। প্রফেসর ডঃ প্যাট্রিক সরগেলুস, বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাপী আর্টিমিয়া, পুকুরে চাষের সুযোগ ও সুবিধা বর্ণনা করেছেন। আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আর্টেমিয়া সিস্ট এবং বায়োমাস যেমন চিংড়ি, কাঁকড়া, সামুদ্রিক পোনা উৎপাদনের মাধ্যমে সামুদ্রিক মাছ চাষ এবং স্বাদু পানির মাছ চাষের উন্নতি করার সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন

আর্টিমিয়া বাংলাদেশের মৎস্য সেক্টরকে আরও উন্নয়নের জ্ন্য একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন আর্টিমিয়া, উৎপাদনে বাংলাদেশ দ্রুত অগ্রগতি করেছে; আর্টিমিয়া, সিস্ট এবং বায়োমাস উৎপাদনের জন্য আরও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি প্রয়োজন, আর্টিমিয়া, উৎপাদনকারী দেশগুলির সাথে সহযোগিতা বাড়াতে যেমন চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, ইকুয়েডর। ইন্টারন্যাশনাল আর্টিমিয়া কনসোর্টিয়াম, অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশের জন্য সহযোগিতা সহজতর করতে পারে।

ওয়ার্ল্ড ফিশ বাংলাদেশের রিজিওনাল ডিরেক্টর মিঃ ক্রিস্টোফার প্রাইস – আর্টিমিয়া প্রকল্পের অগ্রগতির জন্য স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করেছেন। প্রকল্পটি দরিদ্র লবণ চাষীদের জীবনযাত্রার উন্নতির সুযোগ খুলে দিবে। খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে আর্টিমিয়া চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্পটি মেরিকালচার এবং চিংড়ি হ্যাচারিতেও কাজ করেছে।

শামীম আরা বেগম, পরিচালক (রিজার্ভ), মৎস্য অধিদপ্তর আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ প্রকল্পের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। পুকুরে আর্টিমিয়া উৎপাদন বাংলাদেশের মৎস্য খাতকে বদলে দিতে পারে। পুকুরে আর্টিমিয়া উৎপাদন করতে পারলে চাষিরা এর সুফল পাবেন। তিনি এই ধরনের পাইলট কাজ করার জন্য ওয়ার্ল্ডফিশ কে ধন্যবাদ জানান।

ওডি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড