• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘ফ্ল্যাট নাম্বার নয়ছয়’-এর ১০ম পর্ব

ধারাবাহিক উপন্যাস : ফ্ল্যাট নাম্বার নয়ছয়

  লামইয়া চৌধুরী

১৬ জুলাই ২০১৯, ১৩:৩১
গল্প
ছবি : প্রতীকী

মৌন সারাটা রাস্তায় একটা কথাও বলল না। সায়াহ্ন গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে ধীরগতিতে বাইক চালিয়ে যখন বাসার অনেকটা কাছে চলে এলো, তখন মৌনের মনে পড়ল, আদুরী আর শায়েরী সায়াহ্নের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল। তারপর ফিরে কিসব উল্টাপাল্টা বলল। মৌন বলল, ‘তাড়াতাড়ি চালাও না, এত স্লোলি চালাচ্ছ কেন?’
- এত তত্ত্বরি কিয়ের? ঘরে যাইয়া সিলিং ফ্যান মুছবি?
মৌন বাইকে ভয় পায় না, তাই সায়াহ্নকে ধরে বসতে হয়নি। আরামছে এক সাইড হয়ে বসে বাইকের পিছন দিকটায় ধরে বসেছিল। মৌন হাতটা সরিয়ে সায়াহ্নকে জড়িয়ে ধরার ভঙ্গি করল, কিন্তু ধরল না। উল্টো সায়াহ্নের পেটে জোরে চিমটি কাটল।
সায়াহ্ন আহ করে উঠল। চোখ মুখ বিকৃত করে বলল, ‘এই হাতি কি অইছে তোর?’
মৌন এবার সত্যি সত্যি মন খারাপ করল। আর একটা কথাও বলল না। সায়াহ্ন অ্যাপার্টমেন্টের সামনে বাইক থামাতেই, মৌন চুপচাপ নেমে দ্রুত পা চালিয়ে লিফটে উঠে গেল। সায়াহ্নকে বাই পর্যন্ত বলল না! সায়াহ্ন ভাইয়া এমন করে বলল কেন? একবার খাটো বলল, এখন আবার হাতি বলে!

লিফটে দাঁড়িয়েই মৌন একবার নিজেকে দেখে নিল। কোথায় মোটা সে? একদম ফিট, স্লিম বডি। হ্যাঁ, একটু খাটোই! তাই বলে এমন করে বলতে হয়? এসব ভাবতে ভাবতে মৌন সায়াহ্নকে সেদিনের ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসা করতেই ভুলে গেল। 

রুচিকে পড়ানোর কথা ছিল সকাল নয়টায়। কিন্তু শায়েরী দশটায় কল দিয়ে রুচির আম্মুকে বলল, ‘আন্টি আমি অসুস্থ ছিলাম তো তাই দেরি হয়ে গেছে, রুচির কি এখন আর কোনো প্রাইভেট আছে?’
রুচির আম্মু বললো, ‘হ্যাঁ, আছে তো শায়েরী। তবে সন্ধ্যায় কিংবা বিকালে আসতে পারো।’
- আন্টি পাঁচটার পর আসব।
রুচির আম্মু চিন্তিত গলায় বললেন, ‘আজ না এলেও তো পারো, তুমি তো অসুস্থ বললে।’
- আরে না আন্টি, ও কিছু না, এখন একদম ঠিকঠাক। তাহলে আমি পাঁচটায় আসি, কেমন? 
- ঠিক আছে, এসো। 
রুচির মায়ের সঙ্গে কথা বলা শেষ করে শায়েরী বাড়িতে ফোন দিল। মায়ের সাথে কথা বলে জানালো সন্ধ্যায় কিছু টাকা পাঠাবে। বাকিটা পাঠাবে সপ্তাহখানেক পর। মায়ের সাথে কথা বলা শেষে শায়েরী গেল ভার্সিটিতে। ভার্সিটিতে ক্লাস করে আর বাসায় ফিরল না। তিনটা পর্যন্ত ক্লাস ছিল। তারপর, আর বাসায় আসার সময় নেই। বাসায় এসে আবার রুচিদের বাসায় যাওয়া তিন-চার ঘণ্টার ব্যাপার। জ্যামে গাড়ি চলে পিঁপড়ার গতিতে। শায়েরী ভাবল, তারচেয়ে বরং ক্যাম্পাসেই বসে আড্ডা দেওয়া যাক। মৌনটা তো আজ আসেইনি ভার্সিটিতে। ওর উডবির সাথে দেখা করতে গিয়েছে। সায়াহ্ন ভাইকে ঠিকঠাক সব বলতে পারবে তো? ইশ, মানুষটা কি সুন্দর! এত সুন্দর একটা মানুষকে কি করে মৌন রিজেক্ট করতে পারে? কি সুন্দর, নীল চোখ, একদম ডুবে যেতে ইচ্ছে করে! 

কলা ভবনের সামনে ঘাসের ওপর বসে শায়েরী আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। কি সুন্দর, স্বচ্ছ নীল আকাশ! জীবনটা কেন এত কঠিন? এমন স্বচ্ছ হলেই তো পারত। কতো কতো কাজ তার! সবচেয়ে বেশি চিন্তা হয় বাবাকে নিয়ে। বাবা ভালো হবে তো? আবার শায়েরীর পুরোনো সুখের দিন ফিরে আসবে তো? নাকি সারাটা জীবনই তাকে এমন কষ্টের বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে? শায়েরীর ভাবনায় ছেদ পড়ল মোবাইলের রিংটোনে। মোবাইল স্ক্রিনে প্রহরের নাম দেখে শায়েরী ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে মোবাইলটা বন্ধ করে রেখে দিল। সকাল থেকেই মেয়েটা ফোন করছে, কিন্তু শায়েরী একবার‌ও রিসিভ করছে না। কারণ, সে জানে, ফোন রিসিভ করলেই প্রহর ওকে বাসায় যেতে বলবে। আর শায়েরী এ বাসায় যাবে না, আর কখনোই যাবে না সে! এত অপমান কেন সহ্য করবে সে? বয়সে বড় দেখেই মুখের ওপর কিছু বলতে পারে না। নয়তো কবেই দাঁতভাঙা জবাব দিত! মামানিরগুলো না হয় মানা যায়, কিন্তু নক্ষত্র ভাই, জাস্ট ইনসেইন! নিজেকে কি যে মনে করেন! আহারে পুরুষ! আহারে মামানি! আহারে মামানির গর্দভ ছেলে!

(চলবে...)

আরো পড়ুন ‘ফ্ল্যাট নাম্বার নয়ছয়’-এর ৯ম পর্ব - ধারাবাহিক উপন্যাস : ফ্ল্যাট নাম্বার নয়ছয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড