• শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধারাবাহিক উপন্যাস : দ্যা গেম (১৭তম পর্ব)

  রোকেয়া আশা

০৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৫৯
উপন্যাস
ছবি : প্রতীকী

দীপ্ত আর আয়েশা হোটেলের লবিতে বসে আছে। ওদের মুখোমুখি সাদা পোশাকে এক রুশ পুলিশ অফিসার বসা। দীপ্ত আর আয়েশার কথা রেকর্ড করে নিচ্ছে।

- আমাদের সাথে শিল্পার দেখা করার কথা ছিলো সন্ধ্যে সাড়ে ছয়টায়। ওর নিজের রুমে। আমি আর আয়েশা আপু সেইমতো সন্ধ্যের দিকে ওর রুমে যাই। দরজা খোলাই ছিলো, শুধু ভেজানো। হাত দিয়ে ঠেলা দিতেই তাই খুলে যায়। তখনই আমরা শিল্পাকে বিছানার ওপর এলিয়ে পড়ে থাকতে দেখি। এই পর্যন্ত বলে দীপ্ত থামে। সামনের অফিসার প্রশ্ন করে, ‘সাড়ে ছয়টায় ওর রুমে গিয়েছিলেন? তার আগ পর্যন্ত কোথায় ছিলেন আপনারা?’ আয়েশা বলল, ‘আমরা পুরো টিম আমাদের টিম গাইডের সাথে স্প্যারোজ হিলে গিয়েছিলাম। ওখান থেকে ফিরতেই সন্ধ্যা হয়ে গেছে।’ অফিসার নিজের নোটবুক বন্ধ করে উঠে দাঁড়ায়ে বলে, ‘থ্যাংক ইউ৷ টু বোথ অফ ইউ।’ এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে আবার বলে, ‘আবারও হয়তো আপনাদের কোন সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে আমাদের।’ - নিশ্চয়ই। দীপ্ত আর আয়েশা একে একে হ্যান্ডশেক করে বিদায় দেয় অফিসারকে। দীপ্ত আর আয়েশা দীপ্তের রুমে যায়। বাকিরাও সবাই ওখানেই। - কিছু বুঝলে? তারিকুল প্রশ্ন করে। দীপ্ত চুপ থাকে কিছুক্ষণ। তারপর বলে, ‘ফরেনসিক নিয়ে মনে হচ্ছে একটু ঝামেলা হবে। এখানেই পোস্টমর্টেম হবে কিনা তাও তো জানি না।’ - দীপ্ত! আয়েশা ডাকে পাশ থেকে। - আমরা তো ওদেরকে জানালামই যে শিল্পার সাথে আমাদের দেখা করার কথা ছিলো। কিন্তু এরপর ওরা আর কিছু জিজ্ঞেসও করেনি। কেমন না ব্যাপারটা? দীপ্ত নিজেও যে লক্ষ্য করেনি তা নয়। ইনভেস্টিগেটরদের আচরণ সত্যিই বেশিই গা-ছাড়া ছিলো। দীপ্ত অবশ্য মুখে বলে, ‘বোধহয় আমরা বিদেশি বলে সেভাবে কোন স্ট্রেস দিতে চায় নি।’ সবাই চুপ হয়ে যায় এরপর।

ফিউদর স্মিরনোভ তখন ভ্যালেন্তিনাকে জড়িয়ে ধরে থরথর করে কাঁপছে। প্রথমে জোশেফ, এরপর ইয়ুন দুয়ো ; এবার শিল্পা। এরপরকে - তার কোন উত্তর নেই। একজন রুশ, একজন কোরিয়ান, এরপর একজন ভারতীয়র ওপর আক্রমণ। আর নিতে পারছে না ফিউদর। ভ্যালেন্তিনাকে আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। একটা জালে জড়িয়ে গেছে সে। এই কনটেস্টের সবাই। অথচ আড়াল থেকে কে কলকাঠি নাড়ছে - তা বোঝার কোন উপায় নাই। ফিউদর শুধু জানে, সে বেঁচে থাকতে চায়। ভ্যালেন্তিনার সাথে বেঁচে থাকতে চায়। সে শুনবে। সে হামাজিয়ান রামের সব কথা শুনবে।

শিল্পাকে আমি ভালোবাসতাম৷ আমি ওর সাথে থাকতে চেয়েছিলাম। " পাঞ্চালী চোখ মুছতে মুছতে কথাগুলো বলে। লবিতে বসে আগের ইনভেস্টিগেটররাই এবার পাঞ্চালীর স্টেটমেন্ট নিচ্ছে। দীপ্তরা সবাই তখন একটু দূরেই দাঁড়িয়ে আছে। সুমন ফিসফিস করে বলে, - এই মেয়ে কি লেসবিয়ান নাকি? আয়েশা কটমট করে ওর দিকে তাকিয়ে মাথার পেছনে জোরে এক চাটি মেরে বলে, ‘একদম হোমোফোবিক কথাবার্তা বলবি না। এটা ওর পারসোনাল ব্যাপার।’ ওপাশে ইনভেস্টিগেটররা শিল্পার ব্যাপারে পাঞ্চালীর থেকে খুটিনাটি তথ্য নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। ওরা চলে যাবে, এমন সময় দীপ্ত ওদের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। - ইয়েস? দীপ্ত অফিসারের জিজ্ঞাসের মুখে বলে, ‘একটু আলাদা কথা ছিলো।’ অফিসার চারদিকে তাকিয়ে মাথা ঝাঁকিয়ে দীপ্তকে নিয়ে বের হয়ে যায়। দীপ্ত ফিরেও আসে বেশ কিছুক্ষণ পরেই। তবে তখনই কিছু জানায় না বাকিদের।

ভোর চারটা। ইভান সকোলভ অস্থিরভাবে বারান্দায় পায়চারি করছেন৷ কনটেস্টটাই না এখানে বন্ধ করে দিতে হয়! ইয়ুন দুয়ো তো তবু অন্তত এখনো বেঁচে আছে। কিন্তু শিল্পা খুরানার মৃত্যুটা তো পুরো কনটেস্টটাকেই খাদের কিনারে ফেলে দিচ্ছে। ইভান অস্থিরভাবে হাঁটতে হাঁটতে মাশার ঘরের সামনে গিয়েই থমকে গেলেন। মাশার ঘরের দরজার নিচ দিয়ে আবছা আলো আসছে। স্ক্রিন রেডিয়েশন। ল্যাপটপ? এই সময়ে? ইভানের মনে পড়ে, দুইদিন আগে ভোর চারটায় মাশা কবরস্থানে গিয়েছিলো। বা হাতের কব্জি অভ্যাসবশে তুলতেই খেয়াল হলো, ঘরের মধ্যে তিনি হাতে ঘড়ি পরেন না। ট্রাউজার্সের পকেট থেকে ফোন বের করে সময় দেখেন, ভোর চারটা। একটা অপার্থিব আশঙকা তাকে ঘিরে ধরে। জোশেফের মতো তার মেয়েটারও একই পরিণতি হতে যাচ্ছে না তো? আর ভাবেন না। জোরে জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করেন। - মাশা, মাশা! দরজা খোলো! হেডফোন কানে মাশার কাছে পিতার আর্তি পৌঁছাতে দেরিই হয় ; ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সব মানুষেরই আছে। কেউ একজন দরজা ধাক্কাচ্ছে, বোঝার সাথে সাথেই হেডফোন খুলে ল্যাপটপটা শাট ডাউন করে ফেলে মাশা। বিছানা থেকে নেমে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। ইভান সাথে সাথেই মেয়েকে জড়িয়ে ধরে। কাঁদতে শুরু করে শিশুর মতো। - ইউ ওকে মাই চাইল্ড? হতভম্ব মাশা কিছু না বুঝেই মাথা নাড়ে। বাবাকে ধরে নিয়ে ঘরে থাকা ডিভানটায় বসায়। লাইটের সুইচটা অন করে পানি এনে দেয়। - কি হয়েছে বাবা? ইভান পানির গ্লাসটা ধরে তীক্ষ্ণ চোখে তাকায় মাশার দিকে। - তুমি কি কোনভাবে ব্লু হোয়েল খেলছো মাশা?

আরও পড়ুন- ধারাবাহিক উপন্যাস : দ্যা গেম (১৬তম পর্ব)

jachai
nite
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
jachai

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড