• শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গানের কবি অতুল প্রসাদ সেন

  শব্দনীল

২০ অক্টোবর ২০১৯, ১২:১৫
ছবি
ছবি : সঙ্গীতজ্ঞ ও সুরকার অতুল প্রসাদ সেন

‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!
তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালোবাসা!
কি যাদু বাংলা গানে!- গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে
এমন কোথা আর আছে গো!
গেয়ে গান নাচে বাউল, গান গেয়ে ধান কাটে চাষা।’

উনিশ শতকের শেষ থেকে বিশ শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত রবীন্দ্রপ্রভাবের মধ্যে বিচরণ করেও যারা বাংলা কাব্যগীতি রচনায় মুনশিয়ানা প্রকাশ করতে সক্ষম হন, অতুল প্রসাদ সেন ছিলেন তাদের অন্যতম। তিনিই প্রথম বাংলায় গজল রচনা করেন। বাংলা সঙ্গীতের প্রধান পাঁচজন স্থপতির একজন বলা হয় তাকে। তিনি বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তক।

অতুল প্রসাদ সেন বাংলার প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার। তার সহজ সরল ও আন্তরিক লেখার জন্য তিনি বিখ্যাত। তার রচিত গানগুলোর মূল উপজীব্য বিষয় ছিল দেশপ্রেম, ভক্তি ও প্রেম। তার বিখ্যাত গান ‘মোদের গরব, মোদের আশা’ দিকে তাকালে দেখা যায় দেশপ্রেম ও মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ। এটি এমন এক গান। যে গানের কথা কার না হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এই গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে এ গান।

‘নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন,
তুই সুখি জনের করিস পূজা, দুঃখীর অযতন।
মূঢ় মন, সুখি জনের করিস পূজা, দুঃখীর অযতন।’

অতুল প্রসাদ সরল ভাষায় তার মনকে করেছেন তিরস্কার। আসলে তিনি নিজের মনকে তিরস্কার করেননি, করেছেন সমাজকে। কারণ সমাজের মানুষ সবসময় পূজা করে যারা অর্থবিত্তে সুখি তাদের। তাদের গুণগানে মগ্ন থাকে সর্বদা। কিন্তু সমাজের দারিদ্র শ্রেণির প্রতি একটু নজর, ভালোবাসা, সহায়তার প্রয়োজন। তা আমরা বেমালুম ভুলে যাই। ভুলে যাই মনুষ্যত্ব। এই কথাগুলো বলতে চেয়েছেন তিনি গানে গানে। আবার অন্যদিকে লক্ষ্য করলে দেখি তিনি একজন রোমান্টিক প্রেমিকও বটে।

‘জল বলে চল, মোর সাথে চল
তোর আঁখিজল, হবে না বিফল, কখনো হবে না বিফল।
চেয়ে দেখ মোর নীল জলে শত চাঁদ করে টল মল।
জল বলে চল, মোর সাথে চল।’ 

আগেই বলেছি অতুল প্রসাদের রচিত গানগুলোর মূল উপজীব্য বিষয় ছিল দেশপ্রেম, ভক্তি ও প্রেম। ‘মোদের গরব, মোদের আশা’ গানটিতে যেমন প্রকাশ করেছেন দেশপ্রেম তেমনি ‘জল বলে চল, মোর সাথে চল’ গানটি তার প্রেয়সীর জন্য কতটা ভক্তি ও ভালোবাসা লুকিয়ে আছে তার মনে গহীনে। সেটাই প্রকাশ করেছেন। ‘চেয়ে দেখ মোর নীল জলে শত চাঁদ করে টল মল’ কথাটায় ভালোবাসার প্রকাশ করেছেন তেমনি ‘তোর আঁখিজল, হবে না বিফল, কখনো হবে না বিফল’ এই লাইনটায় প্রেয়সীর প্রতি ভক্তি প্রকাশ করেছেন। এই জন্যই বলেছি তিনি একজন রোমান্টিক প্রেমিকও বটে। তবে তার জীবনের দুঃখ ও যন্ত্রণাগুলো তার গানের ভাষায় বাঙ্ময় মূর্তি ধারণ করেছিল। গানের প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে দুঃখ ও যন্ত্রণা। যা ‘ওগো নিঠুর দরদ’ গানে প্রকাশ পেয়েছে গভীরভাবে।

‘ওগো নিঠুর দরদী, ও কি খেলছ অনুক্ষণ।
তোমার কাঁটায় ভরা বন, তোমার প্রেমে ভরা মন,
মিছে খাও কাঁটার ব্যথা, সহিতে না পারে তা আমার আঁখিজল,
ওগো আমার আঁখিজল তোমায় করে গো চঞ্চল
তাই নাই বুঝি বিফল আমার অশ্রু বরিশন।’

আজ এই মহান গীতিকার ও সুরকারের জন্মদিন। তিনি ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় তার নানুবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩৪ সালের ২৬ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন তার আদি নিবাস ছিল ফরিদপুরের দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে। বাল্যকালে পিতৃহীন হয়ে অতুলপ্রসাদ ভগবদ্ভক্ত, সুকণ্ঠ গায়ক ও ভক্তিগীতিরচয়িতা মাতামহ কালীনারায়ণ গুপ্তের আশ্রয়ে প্রতিপালিত হন। পরবর্তী সময় মাতামহের এসব গুণ তার মধ্যেও সঞ্চারিত হয়। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড