• বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় : চিরায়ত কথাসাহিত্যের কালজয়ী শিল্প প্রতিভা

  শব্দনীল

২৪ জুলাই ২০১৯, ১০:৪৭
উপন্যাস
ছবি : কথাসাহিত্যের কালজয়ী শিল্প প্রতিভা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

নিচু বংশে জন্মানো নিতাইচরণ গ্রামের সবাইকে চমকে দিয়ে কবি হয়ে ওঠে। সে কবিয়ালদের দোহার হিসেবে কাজ করছিল। কিন্তু গ্রামের পালাগানের আসরে এক প্রতিষ্ঠিত কবিয়ালের অনুপস্থিতিতে তার সামনে সুযোগ খুলে যায় নিজের কবিয়াল পরিচয় গ্রামবাসীকে জানিয়ে দেওয়ার। অভিজ্ঞ কবিয়াল মহাদেবের কাছে সেই দফায় হেরে গেলেও তার উদ্দেশ্য সফল হয়। বাবুরা রীতিমতো অবাক- ‘ডোমের ছেলে পোয়েট!’

উপন্যাসের নাম ‘কবি’। রচনা করেছেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। যাকে বলা হয় বাংলা কথাসাহিত্যের কালোত্তীর্ণ শিল্পী। তার লেখায় উঠে এসেছে সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন চিত্র। লিখেছেন গ্রাম জীবনের ভাঙনের ও নগর জীবনের বিকাশের কথা। বিশেষ করে তার লেখায় পাওয়া যায় বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের সাঁওতাল, বাগদি, বোষ্টম, বাউরি, ডোম, গ্রাম্য কবিয়াল সম্প্রদায়ের কথা। তার লেখার বড় গুণ ছিল ছোট বা বড় যে ধরনের মানুষ নিয়ে গল্প বা উপন্যাস লেখা হোক না কেন, মানুষের মহত্ত্ব ফুটিয়ে তুলতে পারা।

‘চৈতালী ঘূর্ণি’ এই উপন্যাসের দিকে তাকালে দেখতে পাই গ্রামের দরিদ্র চাষি গোষ্ঠী আর তার স্ত্রী দামিনী গ্রাম্য শোষণের হাত থেকে বাঁচার জন্য শহরে আসে। গোষ্ঠী কারখানায় চাকরি পায়। স্বামী-স্ত্রী বস্তিতে থাকে। গোষ্ঠী মজুরদের ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করে, যার সঙ্গে নিম্ন-মধ্যবিত্ত কর্মীরাও জড়িত ছিল। এখানেই তারাশঙ্করের পরিচয়। তিনি বাংলা কথাসাহিত্যে নতুন বক্তব্য নিয়ে আসেন। 

‘গণদেবতা’ উপন্যাসে দেখতে পেয়েছি দ্বারক চৌধুরীর ট্র্যাজিক পরিণতিতে কিংবা হিরু পালের শ্রীহরি ঘোষরূপে অবিশ্বাস্য গোত্রান্তরে সত্য প্রকাশ। অগাধ বিত্ত এবং সে সূত্রে অর্জিত বর্ণগত শ্রেণীভেদের মূলে আঘাত হানতে হিরু পালকে প্ররোচিত করেছেন তারাশঙ্কর। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন অবক্ষয়- উন্মুখ সমাজে যে নবপ্রেরণা ক্রমশ সঞ্চারিত হচ্ছে, তার নিয়ামক অর্থ বা বিত্ত। 

‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’য় তারাশঙ্কর কৌমসমাজের গোষ্ঠীজীবনকে বিষয়ভুক্ত করেছেন। উপন্যাসটিতে রয়েছে সমান্তরাল দুটি কাহিনী স্রোত। একটি-বাঁশবাঁদি গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কোপাই নদীর বিখ্যাত হাঁসুলী বাঁকের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন। সংহতির অনিবার্য ভাঙন, কৃষি নির্ভর জীবনের ক্রমাবসান এবং বাঁশবন ঘেরা উপকথার হাঁসুলী বাঁকের বিরান প্রান্তরে পরিণত হওয়ার কথাও।

তিনি ১৮৯৮ সালের ২৪ জুলাই পশ্চিম বাংলার বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তার সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিশীল জীবনের অন্তত ১০টি উপন্যাস এবং বেশ কিছু অনন্য সাধারণ ছোট গল্প আছে। যার জন্য স্বকালের সীমা ছাড়িয়ে উত্তরকালের অগণিত পাঠককে স্পন্দিত করতে সমর্থ হয়েছেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বাংলার চিরায়ত কথাসাহিত্যের কালজয়ী শিল্প প্রতিভা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড