• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কিঙ্কর আহ্সানের গল্পগ্রন্থ বাঘবিধবার প্রি-অর্ডার চলছে রকমারিতে

  সাহিত্য ডেস্ক

০২ জানুয়ারি ২০২১, ০২:১৯
তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় লেখক কিঙ্কর আহ্‌সান
সময়ের জনপ্রিয় লেখক কিঙ্কর আহ্সান

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন বুকশপ রকমারিতে কিঙ্কর আহ্সানের গল্পগ্রন্থ বাঘবিধবা ২৫% ছাড়ে প্রি-অর্ডার চলছে। তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় লেখক কিঙ্কর আহ্‌সানের নতুন বইটি নিয়ে পাঠকের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে অনলাইন বুকশপগুলো।

বইটি নিয়ে লেখক কিঙ্কর আহ্সান বলেন, "বাহার ভাই মারা যাবার আগে বইটির সব কাজ গুছিয়ে গিয়েছিলেন। শ্রদ্ধেয় সাজু ভাইয়ের করা দারুণ প্রচ্ছদ দেখে উচ্ছ্বসিত ছিলেন খুব। বইটির প্রচারণা নিয়ে হাজারো প্লান ছিলো তার। পরিকল্পনা মতোন কিছুই হলোনা। করুণাময়ের প্লান মেনে তাকে ছাড়তে হলো পৃথিবী। লেখা নিয়ে, বই প্রকাশ নিয়ে আমাকে তাড়া দেবার কেউ থাকলো না। তিনি মারা যাবার পর ভেঙে পড়েছি অনেকটাই। লেখালেখি, বইয়ের প্রচারণা টানছে না কিছুই। এই বই আনা হচ্ছে তার সন্তান সাব্বির এর জন্য তাড়াহুড়ো করে। ‘লেখা শেষ করা আছে। প্রচ্ছদ আছে। এবার তোমার দায়িত্ব।’ এই বলে পালানোর চেষ্টা করি আমি। ‘বাঘবিধবা’ নিয়ে হৈ চৈ ভালো লাগছে না। একদম নীরবে থাকতে চাই। পাঠক দেখুক, বুঝুক, প্রচারণার দায়িত্ব নিক। আমি ক্লান্ত। অনেকটাই ক্লান্ত। বইটাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে রকমারি, বইবাজার, বুক এক্সপ্রেস, দূরবীন, বইপোকা ডট শপ, আদি’র কাছের মানুষগুলো। তাদের কাছে আমি ঋণী হয়ে থাকলাম। প্রচারণার সবকিছুই তাদের পরিকল্পনা। আমার ক্লান্তি টের পেয়ে তাদের এই এগিয়ে আসায় কৃতজ্ঞতা জানাই। শ্রদ্ধেয় নজরুল ইসলাম বাহার ভাই, বইটা আপনার জন্য থাকলো। আকাশেরও ওপাড় থেকে আপনার আর্শীবাদ চাই। দোয়া রাখবেন যেনো ‘জলপরানি’ উপন্যাসের লেখাটা শেষ করতে পারি। বইয়ের কথা ছড়িয়ে পড়ুক। পৃূথিবী বইয়ের হোক।"

ফ্ল্যাপের লেখা:

মায়ের চেয়ে সুন্দরবন বেশি পছন্দ ছিলো বাবাটার। পশুর নদীর গর্জন শুনলেই তার মাথা খারাপ হয়ে যেত। মোটা চালের ভাত আর কোন্দ আলুর ঝাল ঝাল বিদঘুটে একটা তরকারী খেয়ে রোজ দুপুরে সে বের হয়ে যেত নৌকাটা নিয়ে। পশুর আর সন্ধ্যা নদীর অলিগলি চষে বেড়ানো হয়েছে তার। বনের গভীরে, একদম গহীনে কাঠের জন্য যেত বাবা। সাথে থাকত মোর্শেদ আলী। তোবড়ানো একটা টিনের ডিব্বায় মা খাবার দিয়ে দিতো। ওটা থাকতো মোর্শেদ আলীর হাতে। এক হাতে বৈঠা আরেক হাতে ডিব্বা। বাবা কুড়াল পাশে রেখে নৌকার পাটাতনে কাত হয়ে শুয়ে গান ধরতো। ‘ওরে হৈ হৈ, জোয়ান মরদ বয়সের আগে হইলো বুড়া/ নাইরে বিবির সোহাগ/আনিতে রস ছোবল দিলো শঙ্খচূড়া...।’ একটা সময় নদী ছেড়ে নৌকা ঢুকতো খালে। নালার মতন ছোট্ট খাল। সে নালার শরীর চিড়ে ধীরে ধীরে নৌকা যেত গহীনে। এতটা গহীনে যেখানে বনকর্মীরা তো দূরের কথা, জলদস্যুরাও আসতো না। শুধু বাতাসের সো সো আওয়াজ। জলের ওপর বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ আঘাত। ভুতুড়ে পরিবেশ। মোর্শেদ আলীর ভয় ধরতো। বলতো,‘বাপজান, ডর লাগে। ফিরা যাই লন।’ তার বাবা হাসতো। বলতো, ‘পুরুষ মাইনষের কইলজা হইতে হইবো পাহাড়ের মতন। এক বিঘৎ হইলে চলবো?’ শুনে মোর্শেদ আলী চুপ যেত। ছোটবেলা থেকেই তার পৌরুষত্ব টনটনা। তবে এদিকে বাঘের ভয় আছে। শুনেছে অন্যদের কাছে। বাঘ জনবসতির কাছে এসে নিত্য টেনে নিয়ে যায় ছাগল, গরু। একটা বাঘ না, অনেকগুলো বাঘ। মোর্শেদ আলীর ভয় তাই কমতো না। ইচ্ছে না থাকার পরেও তাই থেকে থেকে বলতো, ‘ও বাপজান। ফিরা যাই না।’ বাবা হাসতো। খালিই হাসতো। ধুর।

রকমারি থেকে কিঙ্কর আহ্সানের নতুন বই বাঘবিধবা ২৫% ছাড়ে প্রি-অর্ডার করতে- বাঘবিধবা

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড