• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

জিয়ার পরিচয় তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী : রেলমন্ত্রী||কলকাতায় চিকিৎসা করাতে যাওয়া ২ বাংলাদেশিকে পিষে মারল জাগুয়ার||ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের ফরম বিক্রি শুরু ||ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রস্তাব নাকচ করে দিল মার্কিন সাংসদ||ভারতকে অবিলম্বে কাশ্মীরের কারফিউ তুলতে বলেছে ওআইসি||‘তদন্ত করতে হবে কেন এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে’||ইউক্রেনের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ জনের প্রাণহানি||‘অগ্নিকাণ্ডে কেউ চাপা পড়েছে কিনা তল্লাশি চলছে’ ||মুক্তিপ্রাপ্ত ইরানের সুপার ট্যাঙ্কারটি আটকে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট জারি||অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  
eid

বিশুদ্ধ বাতাস পেতে ঘরে রাখুন এই গাছগুলো

  লাইফস্টাইল ডেস্ক

২১ জুলাই ২০১৯, ১৮:৫৩
গাছ
বেশকিছু গাছ রয়েছে যা আপনার ঘরের বাতাসকে বিশুদ্ধ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। (ছবি : সংগৃহীত)

দিনকে দিন বেড়েই চলেছে পরিবেশ দূষণের মাত্রা। গাড়ির ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য কিংবা প্লাস্টিক সবই পরিবেশের ক্ষতি করে চলেছে প্রতিনিয়ত। আর এই কারণে পৃথিবীতে ঘটছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মতো ব্যাপার। শহর থেকে ধীরে ধীরে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে এই দূষণের মাত্রা। নিঃশ্বাসের সাথে কত রমক ক্যামিকেলযে নিচ্ছি আমরা প্রতিক্ষণে তা কারোরই জানা নেই। বাতাসে ভেসে থাকা এইসব ক্যামিকেল শুধুমাত্র ঘরের বাইরেই থাকে না ঘরের ভেওরের পরিবেশকেও বিষাক্ত করে তোলে। তবে কিছু কিছু গাছ আছে যা অন্ততপক্ষে ঘরের বিষাক্ত বাতাসকে কিছুটা হলেও পরিশুদ্ধ রাখতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক তেমনই কিছু গাছ সম্পর্কে।

ঘৃতকুমারী :

ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা  গাছ চেনেন না এমন মানুষ কমই আছেন। এই গাছটির গুণের শেষ নেই। বিশেষ করে রূপচর্চায় এই গাছ নানা কাজে আসে। এই গাছের রয়েছে বেশ কিছু ঔষধি গুণ। তবে অ্যালোভেরার এমন একটি গুণ রয়েছে যা সত্যিই অবাক করার মতো। ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ করতে অ্যালোভেরার রয়েছে বিশেষ ক্ষমতা। এই গাছটি বাতাসে মিশে থাকা ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বেনজিন ও ফরমালডিহাইড দূর করে ঘরের বাতাসকে করে তুলে বিশুদ্ধ।

ঘৃতকুমারী

ঘৃতকুমারী ঘরের বাতাসকে খুব সহজেই করে তোলে বিশুদ্ধ। (ছবি : সংগৃহীত) 

বাতাসে ভেসে থাকা ক্ষতিকর কেমিক্যালের মাত্রা যখন খুব বেড়ে যায় তখন অ্যালোভেরার পাতায় ছোট ছোট বাদামি দাগ পড়ে। ফলে ঘরে থাকা বিষাক্ত জিনিসের মাত্রা সম্পর্কে সচেতন হওয়া যায়। এই গাছটির খুব বেশি যত্ন নেওয়ার দরকার পড়ে না। ভাল দেখে একটি টবে গাছটি রোপণ করে নিয়মিত পানি দিলেই এটি দ্রুত পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে নেয়। তবে অ্যালোভেরার যত্নে একটি ব্যাপার অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। পর্যাপ্ত সূর্যের আলো যেন পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ পর্যাপ্ত আলো পেলেই অ্যালোভেরা গাছ ভাল মতো বেড়ে উঠে।

ফার্ন :

ঘরের বাতাসকে বিশুদ্ধ করতে আরেকটি কার্যকরী গাছ হচ্ছে ফার্ন। এই গাছটি অন্যান্য কেমিক্যালের চেয়ে ফরমালডিহাইড দূর করতে বেশি শক্তিশালী। বিশেষ করে কাঠের আসবাবপত্রে থাকা ফরমালডিহাইড দূর করতে এই গাছ খুবই কার্যকরী। এছাড়াও ক্ষতিকর কেমিকেল জাইলিন ও টলুইন দূর করতেও ফার্ন বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ফার্ন

ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ রাখতে চাইলে ঘরে রাখুন ফার্ন। (ছবি : সংগৃহীত) 

ভিন্ন ভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মাটিতে থাকা নানা রকম বিষাক্ত পদার্থ যেমন মার্কারি কিংবা আর্সেনিক দূর করতেও এই গাছ বেশ উপকারী। এই গাছ বড় হয় খুব তাড়াতাড়ি। অপুষ্পক এই উদ্ভিদ ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে কিংবা বারান্দায় রাখা যায়। একটু ভাল আলো বাতাস পেলে ফার্ন গাছ খুবই দ্রুত শাখা প্রশাখা বিস্তার করে তোলে।

ব্যাম্বো পাম :

টবে চাষ করা যায় পাম প্রজাতির গাছ হলো ব্যাম্বো পাম। এই ঘাসগুলো ৩ থেকে ৬ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। মোটামুটি মাঝারি সাইজের একটি টবে ঘরের কোণে এই গাছ লাগানো যায়। ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোতে এই গাছ যেমন অতুলনীয় তেমনি পরিবেশ রক্ষায়ও সমান কাজ করে। ট্রাই ক্লোরোইথিলিন, বেনজিনসহ আরও বেশ কিছু ক্ষতিকর বিষাক্ত কেমিক্যাল দূর করে বাতাসকে বিশুদ্ধ করে তুলতে পারে এই উদ্ভিদ।

ব্যাম্বো পাম

ঘরের এক কোণে সাজিয়ে রাখতে পারেন ব্যাম্বো পাম। (ছবি : সংগৃহীত) 

এই উদ্ভিদের যত্ন অন্যসব গাছের মত করে নেওয়া যাবে না। সরাসরি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এই গাছ টিকে থাকতে পারে না। আলো আছে কিন্তু সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না এমন স্থান এই উদ্ভিদের জন্য উপযুক্ত। টবের মাটি সব সময় ভিজিয়ে রাখতে হবে পানি দিয়ে। পরিপূর্ণ বৃদ্ধির জন্য তরল সার দিতে হবে মাসে একবার।

স্ন্যাকপ্ল্যান্ট

স্ন্যাকপ্ল্যান্ট গাছের খুব বেশি যত্ন নিতে হয় না। (ছবি সংগৃহীত) 

স্ন্যাক প্ল্যান্ট :

এই গাছ অন্ধকার এবং জলীয়বাষ্পপূর্ণ জায়গায় ভালভাবে বেড়ে উঠে। তাই অনেকে এই গাছকে টবে রোপণ করে বাথরুম বা এর আশেপাশে রেখে দেন। এই গাছ অনেক ক্ষতিকর কেমিক্যালকে দূর করে বাতাস থেকে। বিশেষ করে ফরমালডিহাইড আর কার্বন মনোঅক্সাইড দূর করতে এই গাছের জুড়ি নেই। তবে এই গাছের পাতা যতই ধারালো হোক এর সবচেয়ে বড় গুণ হলো রাতে এই গাছ অক্সিজেন সরবরাহ করে বেশি। ঘুমের পরিবেশকে ভাল রাখতে শোবার ঘরে এই গাছ রাখেন অনেকেই।

মানি প্ল্যান্ট :

মোটামুটি পরিচিত একটি গাছ মানিপ্ল্যান্ট। এই গাছটি শুধুমাত্র মাটিতে কিংবা পানিতে লাগাতে পারেন। দ্রুত বেড়ে উঠে আর অনেক সহজেই সংগ্রহ করা যায় বলে এই গাছটির চাহিদা রয়েছে সবার কাছেই। গাছটি উজ্জ্বল আলোতে ভালো বাড়লেও অন্ধকারেও এই গাছ একই রকম সবুজ থাকে। ঘরের শোভা বাড়াতে এই গাছ বেশি ব্যবহার করা হয়। অনেকে অফিসের টেবিলেও যত্ন করে রাখেন এই গাছটিকে।

একটি কাঁচের জারে পানি দিয়ে রেখে দিলেই এই গাছ আপনা আপনি বেড়ে ওঠে। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না এই গাছটি ঘরের পরিবেশকে রাখে বিশুদ্ধ।  বিশেষ করে ক্ষতিকারক ফরমালডিহাইড দূর করতে এই গাছ বেশ ভালো ভূমিকা রাখে।

ওডি/এসএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড