• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় শিশুসহ আহত ৪

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:৩৬
কাশ্মীরে সেনা অভিযান
কাশ্মীরে অভিযান পরিচালনা করছেন সেনা সদস্যরা। (ছবিসূত্র : এনডিটিভি)

ভারতীয় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভূস্বর্গ খ্যাত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় অঞ্চলটিতে ইতোমধ্যে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যা নিয়ে পরবর্তীতে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এবার উপত্যকাটিতে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। এতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে চারজন।

কর্তৃপক্ষের বরাতে গণমাধ্যম 'এনডিটিভি' জানায়, শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে ভূস্বর্গ খ্যাত অঞ্চলটির সোপোর এলাকায় আচমকা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। গোলাগুলির এক পর্যায় শিশুসহ মোট চারজন আহত হন।

রাজ্য পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, 'শনিবার সকালে হওয়া জঙ্গি হামলায় আহতদের এরই মধ্যে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যদিও বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।'

তিনি বলেন, 'ভয়াবহ সেই গোলাগুলির ঘটনার পরপরই পুলিশ এলাকাটিতে পৌঁছে যায়। তাছাড়া এরই মধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।'

এ দিকে তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, নিজেদের অঞ্চলে অবস্থানরত জঙ্গিদের এবার কাশ্মীর উপত্যকায় পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। মূলত এলাকাটিতে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্যই তারা এমন কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এর আগে গত ২১ আগস্ট খলিল আহমেদ এবং মোজাম খোকা নামে দুইজনকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেফতার করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। মূলত পাক-ভারত সীমান্তরেখার কাছ থেকেই তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দুজনকে পাক মদদপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়্যবার সদস্য বলে দাবি করেছিল ভারতীয় সেনা ও পুলিশ বাহিনী। যার প্রেক্ষিতে তখন সেই দুজনের একটি স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ভাইরাল করেছিল ভারত।

ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেজিএস ধিঁলো বলেছেন, 'আমাদের কাশ্মীরে সুযোগ মতো পাকিস্তান তাদের বেশি সংখ্যক জঙ্গি ঢুকিয়ে উপত্যকার শান্তিভঙ্গ করতে চাইছে। গত ২১ আগস্ট আমরা দুজন পাকিস্তানের অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করেছি, যারা লস্কর-ই-তৈয়্যবার সদস্য। এখন তাদের কাছ থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।'

কাশ্মীর হামলা

সংবাদ সম্মেলন করছেন ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেজিএস ধিঁলো। (ছবিসূত্র : দ্য হিন্দু)

অপর দিকে গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।

এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। যদিও এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে ভারত পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে এবং পাক সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরান।

আরও পড়ুন :- কাশ্মীরে জঙ্গি ঢোকাচ্ছে পাকিস্তান, অভিযোগ ভারতের

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারসহ রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসন সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানানো হলেও; কাশ্মীর জুড়ে এখনো সংঘর্ষ ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি পাকিস্তানের।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড