• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কাশ্মীর নিয়ে পারমাণবিক যুদ্ধের ইঙ্গিতসহ পাক সরকারের ভবিষ্যৎ কৌশল

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৪৮
জম্মু-কাশ্মীর
ছবি : সংগৃহীত

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীর ইস্যু এবং ভারত অধিকৃত অঞ্চলটির পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির ভবিষ্যত কৌশলের ব্যাপারে পাকিস্তানিদের উদ্দেশে একটি ভাষণ দিয়েছেন। ফ্রান্সে কাশ্মীরকে পাক-ভারত দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলে ট্রাম্পের সম্বোধনের পরেই সোমবার (২৬ আগস্ট) পাক প্রধানমন্ত্রী এই ভাষণ দেন। তিনি তার ভাষণের এক পর্যায়ে যদি বৈশ্বিক মণ্ডল এই সংকটের সমাধানে এগিয়ে না আসে তাহলে দু-দেশের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ হতে পারে এবং তাতে কেউ জয়লাভ করবে না বলে জানান ইমরান। 

শুরুতেই তিনি ভারত শাসিত কাশ্মীরের বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পাক সরকারের নীতি এবং অবস্থান জনগণের সাথে শেয়ার করে নিতে চান। তিনি বলেন, 'আমি যখন ক্ষমতায় এসেছি, আমরা এর সমাধান করতে এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলাম। ভারত এবং আমরা মুদ্রাস্ফীতি, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ অনেক সমস্যায় জড়িত।'

'সুতরাং আমরা সবার সাথে বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিলাম...। আমি যখন ক্ষমতায় এসেছি তখন (ভারতকে) সংলাপের জন্য আমি অনেকবার আহ্বান জানিয়েছিলাম, তবে সবসময়ই কিছু সমস্যা ছিল' বলে জানান পাক প্রধানমন্ত্রী।

'প্রথমে তাদের নির্বাচন আসলো, তাই আমরা এটা শেষ হবার অপেক্ষা করেছিলাম, আমরা ভেবেছিলাম নির্বাচন যখন শেষ হবে, পরিস্থিতি অন্যরকম হবে। তারপরে পুলওয়ামা ঘটল ; এক কাশ্মীরি লোক নিজেকে উড়িয়ে দিল।'

'তারা (ভারত) নিজেদের মধ্যে তদন্তের পরিবর্তে আমাদের দিকে আঙুল তুলেছিল। নির্বাচনের পরে আমরা বুঝতে পারলাম তাদের আলাদা এজেন্ডা ছিল এবং তারা এফএটিএফ-তে পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করেছিল।'

'৫ আগস্ট তারা কাশ্মীরে অতিরিক্ত সামরিক সেনা প্রেরণ করেছিল এবং ঘোষণা দিল যে, কাশ্মীর এখন ভারতের অংশ। এটি তাদের প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের এবং জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলোর বিরোধী ছিল' বলে যোগ করেন ইমরান।

তিনি বলেন, ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) দলের আদর্শকে জনগণের পক্ষে বোঝা জরুরি- যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একটি মূল সংগঠন- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও যার সদস্য ছিলেন।

'তারা (আরএসএস) বিশ্বাস করে যে, হিন্দুরাই সর্বোচ্চ এবং অন্যরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। তাদের একটি ফ্যাসিবাদী আদর্শ আছে, তারা ভারতের অতীত সরকারকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে বহির্ভূত করেছিল। হিন্দু-মুসলিম ঐক্য প্রচারের চেষ্টা করার জন্য (মহাত্মা) গান্ধীকে হত্যা করেছিল তাদেরই একজন। (দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল) নেহেরুর মৃত্যুর পরে আরএসএসের আদর্শ ভিত্তি অর্জন শুরু করেছিল।'

'এই আদর্শই কায়েদ-ই-আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তান গঠনের আগে দেখেছিলেন এবং পাকিস্তান গঠন করেছিলেন। আমাদের আদর্শ পবিত্র কুরআনের ওপর ভিত্তি করে এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় বিশ্বাসী ; আরএসএসের ঠিক বিপরীত মানসিকতা রয়েছে', বলে জানান ইমরান। 

ইমরান বলেন, মোদী অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসনকে প্রত্যাহার করে একটি 'ঐতিহাসিক ভুল'-এর সৃষ্টি করেছে এবং তা করে 'তিনি কাশ্মীরের স্বাধীনতার পথ খুলে দিয়েছেন। আমরা জানতে পেরেছি যে, দখলকৃত কাশ্মীর থেকে দৃষ্টি সরাতে তারা বালাকোটের মতো, আরেকটি মিথ্যা-পতাকা অভিযানের পরিকল্পনা করছে।'

'আমরা কূটনৈতিক ফ্রন্টে জিতেছি, আমরা কাশ্মীর ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছি, রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছি, ১৯৬৫ সালের পর তাদের দূতাবাস (এবং) জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিল প্রথমবারের মতো কাশ্মীর নিয়ে একটি অধিবেশন আহ্বান করে। আমরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে রিপোর্ট করার জন্য আহ্বান অব্যাহত রেখেছি এবং তারা এটি করেছে' বলে জানান পাক প্রধানমন্ত্রী। 

ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাক সরকারের ভবিষ্যতের কৌশল উল্লেখ করে ইমরান বলেন, 'প্রথমত, আমি বিশ্বাস করি, কাশ্মীরি জাতির পাশে পুরো জাতির (পাকিস্তানি) দাঁড়ানো উচিত। আমি বলেছি যে, আমি কাশ্মীরের রাষ্ট্রদূত হয়ে কাজ করব। আমি বিশ্বকে এই বিষয়ে বলব, আমি রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং তাদের সঙ্গে আমি এটি শেয়ার করছি। আমি জাতিসংঘেও এই বিষয়টি উত্থাপন করব।'

কাশ্মীরের অবস্থা বর্ননা করতে গিয়ে ইমরান বলেন, 'মুসলিম দেশগুলি কাশ্মীরের পাশে না দাঁড়ানোতে জনগণ হতাশ হয়ে পড়েছে বলে আমি সংবাদপত্রগুলোতে পড়েছি। আমি আপনাদের বলতে চাই, হতাশ হবেন না; কিছু দেশ যদি তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে এই বিষয়টি উত্থাপন না করে তবে, অবশেষে তারা এই বিষয়টি তুলে ধরবে, সময় আসলেই ধরবে।'

'পশ্চিমা গণমাধ্যম ভারতকে এখনকার মতো ততটা সমালোচনা কোনদিন করেনি। আমি কাশ্মীরি জনগণকে বলতে চাই যে, বিশ্ব তাদের পাশে না দাঁড়ালেও, পাকিস্তান দাঁড়াবে' বলে ইমরান ঘোষণা দেন।

প্রতি সপ্তাহে কাশ্মীরি জনগণের সাথে সংহতি জানাতে পাকিস্তানে একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং আসন্ন শুক্রবারে, পাকিস্তান সংহতি প্রকাশের জন্য বেলা ১২-১২.৩০ (জুমার সময়) সময় পথে নামবে। 'তারা (ভারত) তাদের ট্রাম্প কার্ড খেলেছে, এখন আর তাদের খেলার কোনও কার্ড নেই। এখন যা করা দরকার তা আমাদের এবং বিশ্বকে করতে হবে।'

ইমরান খান আরও বলেন, 'এটি জাতিসংঘের দায়িত্ব, তারা কাশ্মীরের জনগণকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ঐতিহাসিকভাবে, বিশ্ব সংস্থাগুলো সর্বদাই শক্তিশালীদের পক্ষে থেকেছে, তবে জাতিসংঘের জানা উচিত যে ১২৫ কোটি মুসলমান তাদের দিকে তাকিয়ে আছে'।

পরাশক্তিদের ইঙ্গিত দিয়ে ইমরান বলেন, 'এই বড় দেশগুলো কি কেবল তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের দিকেই নজর রাখবে?, তাদের মনে রাখা উচিত, উভয় দেশেরই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। পারমাণবিক যুদ্ধে কেউ জিততে পারবে না। এটি কেবল এই অঞ্চলে বিপর্যয় ডেকে আনবে, তবে পুরো বিশ্বই এর পরিণতির মুখোমুখি হবে। এটি এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর নির্ভর করবে।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড