• বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জাতিসংঘের বিবৃতি উপেক্ষা করে সু চির বিচার করছে জান্তারা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৪ জুন ২০২১, ১৭:১১
জাতিসংঘের বিবৃতি উপেক্ষা করে সু চির বিচার করছে জান্তারা
মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি গৃহবন্দি নেত্রী অং সান সু চি (ছবি : রয়টার্স)

রাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচার, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওয়াকি টকি বহন ও ব্যবহার, ক্ষমতায় থাকাকালে ঘুষ গ্রহণ, নিজের দাতব্য সংস্থার নামে অবৈধভাবে ভূমি অধিগ্রহণ ও করোনা ভাইরাসের সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় গাফিলতি- এই ৫ অভিযোগে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি গৃহবন্দি নেত্রী অং সান সু চির বিচার শুরু হয়েছে।

দেশটির জাতীয় মিডিয়াগুলোর বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার (১৪ জুন) মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোর একটি আদালতে বিচার শুরু হয়েছে সু চির। যিনি গত ৪ মাস ধরে দেশটির ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের নির্দেশে গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন।

সু চির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন ও তার বিচার প্রক্রিয়াকে অগণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে যে বিবৃতি জাতিসংঘ দিয়েছে, পাল্টা এক বিবৃতিতে তা ইতোমধ্যে তা বাতিল করেছে ক্ষমতাসীন জান্তা।

মিয়ানমারের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) নেত্রীর আইনজীবী মিন মিন সোয়ে সু চির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেছেন।

যদিও দেশটির আইন ও বিচারবিভাগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জান্তার উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্তত ২টি অভিযোগ বেশ স্পর্শকাতর। এগুলো সত্য বলে প্রমাণিত হলে বাকি জীবন কারাগারেই কাটাতে হবে সু চিকে।

আরও পড়ুন : ইসরায়েলে দায়িত্ব নিল বেনেট মন্ত্রিসভা

২০২০ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে চলতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। মিয়ানমারের সেনা প্রধান মিন অং হ্লেইং এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন।

ক্ষমতা দখলের পরপরই গৃহবন্দি করা হয় অং সান সু চিকে। গ্রেফতার হন তার দল এনএলডির বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক।

তারপর থেকে গৃহবন্দি অবস্থায়ই আছেন তিনি। সশরীরে কারো সঙ্গে তার দেখা করার অনুমতি দেয়নি জান্তা। অনলাইনে ভিডিওর মাধ্যমে নিজের আইনজীবীর সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করতে পেরেছেন তিনি। সোমবার বিচার শুরুর দিন আদালতেও তাকে সশরীরে উপস্থিত করা হয়নি।

সু চির সমর্থকরা অবশ্য এতে দমে যাননি। সোমবার নেইপিদো ও মিয়ানমারের প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ মিছিল করেছন তারা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক ফিল রবার্টসন সোমবার বিবৃতির মাধ্যমে বলেছেন, অবিলম্বে এই ভুয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বিচার প্রক্রিয়া থামিয়ে তাকে (সু চি) নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া উচিত।

বিচার শুরু হওয়ার আগে গত শুক্রবার এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার হাই কমিশনার মিশেল বেশেলেট বলেছিলেন, এই বিচার প্রক্রিয়া মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ক্ষমতাকে স্থায়ী করার ষড়যন্ত্র। শত শত মানুষকে হত্যা করে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে তারা।

বিবৃতিতে বেশেলেট অভিযোগ করেন, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) সম্মেলনে মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার সু চিকে মুক্তি দেবে এবং দেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি সমাধানে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনা করবে; কিন্তু তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রাখেননি।

সোমবার মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের পররাষ্ট্র বিভাগ পাল্টা এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ হাই কমিশনারের বিবৃতি বাতিল করে বলেছে, জাতিসংঘ একচোখাভাবে সবকিছু বিবেচনা করছে। তারা বেসামরিক লোকজনের মৃত্যু দেখছে, কিন্তু বিদ্রোহীদের হামলায় যেসব সামরিক সদস্য মারা গেছেন, তাদের কথা জাতিসংঘ ধর্তব্যে আনছে না।

আরও পড়ুন : একজনের করোনা শনাক্তের পর গোটা শহরে লকডাউন

গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পরপরই সু চি ও তার দল এনএলডির গ্রেফতার সদস্যদের মুক্তির দাবিতে মিয়ানমারজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আন্দোলন; এবং কঠোর হাতে সেই আন্দোলন দমনে তৎপর হয় জান্তা। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলছে, সেনা শাসনবিরোধী এই বিক্ষোভে জান্তার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এ ছাড়া সাড়ে ৪ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী বর্তমানে কারাঅন্তরীণ আছেন।

সূত্র : রয়টার্স

ওডি/কেএইচআর

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড