ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকদের মন খারাপ ! 

প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:১৫

  অধিকার ডেস্ক

ঢাকা মেডিকেলের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকসহ সবার মন খারাপ। তবে সেই মন খারাপের কারণ ব্যাখ্যা করলেন অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের কাজ পাগল একজন চিকিৎসক। তিনি  ডা. শহিদুল ইসলাম আকন। ভালো বাসেন কাজ করতে। থাকতে চান কাজের মধ্যেই।
তিনি তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘মন খারাপ অতিরিক্ত কাজের চাপে না, বরং কাজ না করতে পারার কষ্টে। এত রোগীর চাপ, তাদেরকে কিভাবে সার্ভিস দেয়া যায় সেই চিন্তায় সবাই বিভোর। একটা সময় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলো আর একটা নতুন অপারেশন থিয়েটারের জন্য। কিন্তু তা সম্ভব না, তাই কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলেন তিনটা বিভাগ (অর্থোপেডিক্স, নাক- কান- গলা এবং নিউরোসার্জারি) রাত আটটা পর্যন্ত রুটিন অপারেশন করবেন।’

যেই ভাবা সেই কাজ, শুরু হলো ইভেনিং অপারেশন। এনেস্থিসিয়া বিভাগের জনবল সীমিত থাকা সত্বেও উনাদের সহযোগিতায় এই তিন বিভাগে প্রতিদিন দ্বিগুণ অপারেশন হয়। সবই ঠিক মতো চলছিল কিন্তু অর্থোপেডিক সার্জারীর অন্যতম অনু সংগ C - Arm তো আর পারছে না। এই বিভাগের থিয়েটারে আসার পর থেকে অনেক সার্ভিস দিয়েছেন। যত কষ্টই হোক মেনে নিয়েছেন, মাঝে মাঝে একটু সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন, আবার চিকিৎসায় ভালো হয়েছেন। কিন্ত এতদিনে প্রেশার হাই, ডায়াবেটিস ও দেখা দিয়েছে। T I A তে মাঝে মাঝে ঘুরে পরেছেন, কিন্তু Stroke করেনননি। কিন্তু আর কতো? এবার সরাসরি Stroke সাথে Hemiplegia. সেরে উঠার সম্ভাবনা কম। আর চিকিৎসাও ব্যায়বহুল। নতুন কোন C- Arm আসাও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে কর্তৃপক্ষ জোরালো চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

আচ্ছা এতে তো সবার খুশি হওয়ার কথা, কাজ করতে হবেনা। কিন্তু চিকিৎসকরা একটু ভিন্ন প্রাণী, রোগীর কষ্টে তারাও কষ্ট পান। সব কিছু থাকার পরেও শুধুমাত্র C- Arm এর অভাবে অনেক অপারেশন করা যাচ্ছেনা। চিকিৎসকদের বা চিকিৎসা পেশার সাথে সংশ্লিষ্টদের এই মানসিক অবস্থা কি আমরা বুঝি? আসুন একটু বোঝার চেষ্টা করি তাহলে অযথা সমালোচনা করে তাদেরকে কষ্ট দিবোনা।

ওডি/ এজেড