• শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আমি সবার প্রতি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী : জাহাঙ্গীর কবির

  স্বাস্থ্য ডেস্ক

০৩ আগস্ট ২০২১, ২০:১৪
ডা. জাহাঙ্গীর কবির
ডা. জাহাঙ্গীর কবির (ছবি : সংগৃহীত)

চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং করোনার টিকা নিয়ে ‘অসাবধানতাবশত’ ভুল ব্যাখ্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন আলোচিত-সমালোচিত কিটো ডায়েটের পরামর্শদাতা ভাইরাল ডা. হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর কবির।

তিনি বলেন, মানুষ হিসেবে আমি ভুলের উর্ধ্বে নই। তাই আমার কথায় হয়তো অনেক সহকর্মী-সিনিয়র চিকিৎসক কষ্ট পেয়েছেন। আমি তাদের সবার প্রতি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে এমন কথা লিখেছেন ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

এর আগে রবিবার (১ আগস্ট) জাহাঙ্গীর কবিরের কর্মকাণ্ডকে অবৈজ্ঞানিক, অসত্য, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছে চিকিৎসকদের একটি সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটস (এফডিএসআর)।

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ঠিকানায় কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো এই চিঠিতে সংস্থাটির পক্ষে বলা হয়, ডা. জাহাঙ্গীর কবির কিটো ডায়েট নিয়ে ভুল এবং অসত্য তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এই ডায়েটের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনো লিখিত বা মৌখিক কাউন্সেলিং করেন না। বরং ডায়াবেটিস, কিডনিসহ বিভিন্ন রোগীদের ব্যাপকভাবে কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে ক্ষতি করছেন। তিনি বিভিন্ন চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনকে হেয় করে মন্তব্য করেছেন। করোনার টিকা নিয়ে ইম্যুনোলজি বিষয়ক ভুল বক্তব্য দিয়েছেন।

চিকিৎসকদের এই সংগঠন জাহাঙ্গীর কবিরের এসব কার্যক্রমকে ম্যালপ্র্যাকটিস বা অপচিকিৎসা বলে আখ্যা দিয়েছে ও তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নীতিবিরোধী ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলেছে।

এখানে উল্লেখ করা হয়, এই পত্রপ্রাপ্তির এক সপ্তাহের মধ্যে সকল মাধ্যম থেকে ভুল ও বিকৃত তথ্যাদি অপসারণ এবং দুঃখ প্রকাশ না করলে জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাহাঙ্গীর কবিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা বক্তব্য এখানে তুলে ধরা হলো-

আসসালামু আলাইকুম, আমি ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর। সুস্থ থাকার লক্ষ্যে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিয়ে কাজ করছি। সেই লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে আমার রোগীদের লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। ইদানীংকালে আমার একটি ভিডিও এবং দুটি পোস্ট নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত, সুস্থ থাকার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আমি একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলাম, সেখানে করোনার ভ্যাকসিন বিষয়ে কিছু তথ্য সহজভাবে বোঝাতে গিয়ে আমি অসাবধানতাবশত ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম। এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে আমি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ভিডিওতে যে তথ্যগুলো ভুল ছিল এবং যে কথাগুলো জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে আগের ভিডিওটি অনলাইন থেকে সরিয়ে নিয়েছি। একই সঙ্গে সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য পরামর্শ এবং উৎসাহ দিয়েছি। এর পরেও কয়েকজন সম্মানিত ডাক্তার আমাকে ভুল বুঝে সরাসরি আমার নাম উল্লেখ করে নানান রকম পোস্ট করেন। তন্মধ্যে একটি পোস্টের স্ক্রিনশট আমি আমার পেইজে শেয়ার করেছিলাম।

এ ছাড়া অন্য একটি জনসচেতনতামূলক পোস্টে উদাহরণস্বরূপ একটি প্রেসক্রিপশন শেয়ার করেছিলাম। ঐ প্রেসক্রিপশনটি যিনি লিখেছিলেন তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমি তার নাম ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বারটি প্রকাশ করিনি। তথাপি এই পোস্টটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে তৎক্ষণাৎ দুটি পোস্টই ডিলিট করে দিই। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের ডাক্তারসমাজের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসেবা করে যাচ্ছেন, মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন, এ জন্য প্রত্যেক ডাক্তারই আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও শ্রদ্ধাভাজন। একজন ডাক্তার হিসেবে আমি কখনোই কাউকে অসম্মান করতে পারি না এবং আমি তা করতে চাইও না। তবু আমার অনিচ্ছায় তা হয়ে থাকলে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

উপরোক্ত বিষয়গুলোর বাইরে আরো যে বিষয়ে সমালোচনা এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো- আমার পরামর্শকে কিটো ডায়েট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমি বহুবার নানান ভিডিওর মাধ্যমে বলেছি যে আমি শুধু ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলি না। আমি মূলত পাঁচটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি অটোফেজি, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তির চর্চা করাকে সমানভাবে গুরুত্ব দিই। আমি কখনোই ওষুধবিরোধী না, আমি সব সময় বলে এসেছি জরুরি চিকিৎসায় ওষুধ অপরিহার্য। তবে লাইফস্টাইল রোগগুলো লাইফস্টাইল মডিফাই করে প্রতিরোধ করা যেতে পারে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমিও আমার রোগীদের প্রয়োজনে ওষুধ লিখছি; সুতরাং ওষুধের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আমি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছি যেন স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ওষুধ ছাড়া সুস্থ থাকতে পারেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, যেসব রোগী সরাসরি আমার পরামর্শ নেন আমি তাদেরকে নিয়মিত অবজারবেশনে রাখার চেষ্টা করি এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আমার পরামর্শের নানান প্রভাব ও প্রতিকারের বিষয়ে আলোকপাত করে থাকি।

সর্বোপরি আমি মনে করি, চিকিৎসক সমাজে আমরা সবাই সহকর্মী, একে অপরের সহযোগী। এখানে রয়েছেন আমার সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা, শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই-বোন, বন্ধুরা ও আগামীর সম্ভাবনাময় জুনিয়র ডাক্তাররা। জনস্বার্থে সব চিকিৎসকই একেকজন যোদ্ধা। করোনা মহামারির এই চরম দুর্দিনে ডাক্তারদের মতো যোদ্ধারাই নিজেদের জীবনঝুঁকির কথা ভুলে জরাগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকেছে, এখনো আছে। আজকের পুরো বিশ্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত সবার কাছে কৃতজ্ঞ।আমি সবার প্রতি সম্মান রেখে বলছি, মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে, তাই আপনারা আমার কোনো ভুল ধরিয়ে দিলে আমি তা শুধরে নেব। নিজের ভুলকে আমি ভুল হিসেবে গ্রহণ করে তা শুধরে নেব আর আপনাদের কাছেও আমার অনুরোধ, আপনারা আমার আগের ভুলগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেননা আমরা তো সবাই মিলে মানবসেবার ব্রতেই চিকিৎসা পেশাকে বেছে নিয়েছি, আর সে জন্য আমরা একে অপরের প্রতি সম্মান রেখে একযোগে কাজ করতে পারি।

আমি নিজেও একজন চিকিৎসক, সব সময়ই প্রত্যেক চিকিৎসকের সম্মান রক্ষা ও অবদান স্বীকার আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। বহু আগে থেকেই আমি নিজেও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও দায়িত্ব নিয়ে সোচ্চার আছি। সেই লক্ষ্যে আমি ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিসের (FDSR) সঙ্গে প্রগ্রাম করেছিলাম, তা আমার পেইজ থেকে শেয়ার করেছিলাম সবার উদ্দেশে। তবু মানুষ হিসেবে আমি ভুলের ঊর্ধ্বে নই। তাই আমার কথায় হয়তো অনেক সহকর্মী - সিনিয়র চিকিৎসক কষ্ট পেয়েছেন কিংবা মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন। আমি তাদের সবার প্রতি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

ওডি

স্বাস্থ্য-ভোগান্তি, নতুন পরিচিত অসুস্থতার কথা জানাতে অথবা চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পেতেই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার পরামর্শ দেবার প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড