• বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

এক দোকানেই ২০০ কোটি টাকা উড়িয়েছেন এই গৃহিণী!

  ভিন্ন খবর ডেস্ক ৩০ মে ২০১৯, ১৪:৪৩

জামিরা হাজিয়েভা
জামিরা হাজিয়েভা; (ছবি- বিবিসি)

শপিং করতে কে না ভালোবাসে? বিশেষ করে নারীরা পছন্দের সব জিনিস কিনে দারুণ আনন্দ পায়। কারও কারও ক্ষেত্রে তাই শপিং বিলটা হয় একটু বেশি। তবে তার পরিমাণ যদি হয় ১৬ মিলিয়ন পাউন্ড? সম্ভবত এমন শপিং বিলের নজির আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। যেখানে দেখা যায় কীভাবে ব্রিটেনের একজন কারাবন্দি ব্যাংকারের স্ত্রী লন্ডনে সবচেয়ে বিলাসবহুল দোকান হ্যারডসে কেনাকাটায় ১৬ মিলিয়ন পাউন্ড উড়িয়েছেন। প্রায় ১০ বছর ধরে করা এই কেনাকাটায় কখনো সন্দেহের উদ্রেক হয়নি তাকে নিয়ে। 

জানা যায়, জামিরা হাজিয়েভা নামে এই নারী তার এই শপিংয়ের জন্য ৫৪টি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেছেন, যেগুলোর অনেকগুলোই তার স্বামীর ব্যাংকের সাথে সংশ্লিষ্ট। বর্তমানে তার সম্পদের উৎস নিয়ে ব্রিটেনে তদন্ত চলছে। হাইকোর্টে সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে না পারলে জামিরা হাজিয়েভা ইংল্যান্ডে বার্কশায়ার কাউন্টিতে তার গল্ফ কোর্সটিও হারাতে পারেন।

তার স্বামী রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যাংক থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অপরাধে আজারবাইজানে ১৫ বছরের সাজা খাটছেন। ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার সুদ ছাড়া অন্য কোনো আয় না থাকলেও কীভাবে এত ধন সম্পদের মালিক হলেন তিনি, হাইকোর্ট থেকে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে সম্পদ হারানোর সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়। 

এরপরই জানা যায় সব। ব্রিটেনের অপরাধ তদন্তের বিভাগের নথিপত্র ঘেঁটে মিসেস হাজিয়েভার প্রতিদিনের খরচ-খরচার যে বিবরণ পাওয়া গেছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য!

তিন সন্তানের মা নারীর ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি রয়েছে। হ্যারডস থেকে বড়জোর পাঁচ মিনিটের দূরত্বে থাকেন তিনি। এটি লন্ডনের একটি অত্যন্ত অভিজাত এলাকা। ওই দোকানেই কেনাকাটা করতেন তিনি। এমনকি দোকানের কারপার্কের দুটো বের মালিকানাও তার। তার বিরুদ্ধে তদন্তে যেসব নথিপত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তার একটি হ্যারডসের লয়ালটি কার্ডের সূত্রে পাওয়া ৯৩-পাতার একটি বিবরণ। সেখানেই দেখা যায় মিসেস হাজিয়েভার শপিংয়ের চিত্র।

যেভাবে খরচের শুরু- 

ব্রিটেনে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরুর পর থেকেই তার খরচের বহর শুরু হয়। খরচ অনুযায়ী দেখা যায় তিনি বই কিনতে খরচ করেছেন ৮৪২ পাউন্ড, সুগন্ধি কিনেছে ১৪০ পাউন্ডের। হিসেব অনুযায়ী যা খুব বেশি নয়। 

কিন্তু বছর না ঘুরতেই তিনি খোঁজ পেয়ে যান হ্যারডসের কার্টিয়ার ব্র্যান্ডের জুয়েলারি বিক্রির জায়গার খোঁজ। সেখানে একটি টিলের রেকর্ডে দেখা যায় তিনি ১৮১ পাউন্ডের জিনিস কিনেছেন। তালিকায় দেখা যায়, এরপর তিনি ১৬০০ পাউন্ড দিয়ে মিউ মিউ ব্র্যান্ডের পোশাক কিনেছেন। আর ১৫৩৯ পাউন্ড দিয়ে কিনেছেন ফেরাগামো জুতা। 

২০০৭ সালের মার্চে মিসেস হাজিয়েভা আবারও মিউ মিউ ব্র্যান্ডের কাপড়ের পেছনে খরচ করেন ১০,৬১৬ পাউন্ড। যেগুলোর মূল্য পরিশোধ করেন তার ২৫টি আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ডের একটি দিয়ে। এরপর থেকে বাড়তেই থাকে তার খরচের বহর। এক হিসেবে দেখা যায়, হ্যারডসে ৬৬,০০০ পাউন্ডর বিল দিয়েছেন। টম ডিক্সন ব্র্যান্ডের দোকান থেকে ১৭,০০০ পাউন্ডের জিনিস কিনেছেন।

দশ বছরে হ্যারডসে জামিরা হাজিয়েভার খরচের তালিকা : 

বুশেরন ব্র্যান্ডের গহনা- ৩৫ লাখ পাউন্ড
কার্টিয়ের গহনা- ১৪ লাখ পাউন্ড
ডেনিস বাসো ডিজাইনার পোশাক- ৪০২,০০০ পাউন্ড
স্যান্ডউইচ- ৩৩২,০০০ পাউন্ড (টম ডিক্সন ফার্নিচার এবং কফি শপের বিল একসাথে পরিশোধ করা হতে পারে)
হ্যারডসের পারফিউম কাউন্টার- ১৬০,০০০ পাউন্ড
মোট ব্যয়- ১৬,৩০৯,০৭৭ পাউন্ড (এক কোটি ৬৩ লক্ষ নয় হাজার ৭৭ পাউন্ড)

(সূত্র: হাই কোর্ট নথি) 

২০০৮ সালের ২০ জুন দুপুরের পরপরই মিসেস হাজিয়েভা আন্ডারওয়ার এবং মোজার কাউন্টারে ৯২৫ পাউন্ডের বিল দেন। এক ঘণ্টা তিন মিনিট পর কার্টিয়ের গহনার কাউন্টারে বিল দেন ৪৩৩,৩৫৮.৭৯ পাউন্ড। আবার একই দিনে ছেলেদের একটি ডিজাইনার পণ্য কেনার জন্য খরচ করেন ৩৭৪ পাউন্ড।

এর কিছুদিন পরই তিনি ইসরায়েলি ডিজাইনার এলি তাহারির জিনিসের জন্য খরচ করেন ৮৩৮৭ পাউন্ড। দুদিন পর ২৬ জুন ঘড়ির কাউন্টারে বিল দেন ১৭০০০। 

ডিজনি কাউন্টারে কেন এত খরচ?

হ্যারডসে ডিজনি পণ্যের যে কাউন্টার রয়েছে, সেখানে প্রায় ৯৯,০০০ পাউন্ড কেন খরচ করেছিলেন তিনি তা বোধগম্য নয়। শপিংয়ের এই তালিকা দিনকে দিন শুধুই বেড়েছে। কেবল উপহার মোড়ার জন্যই তিনি একদিন খরচ করেছেন ১৩৭১ পাউন্ড। হ্যারডসের খেলনার বিভাগে গিয়েই খরচ করেছেন ২৫০,০০০ পাউন্ড।

প্রশ্ন হচ্ছে, তবে তার সর্বমোট বিল কত? 

২০০৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ১৪ জুন পর্যন্ত মিসেস হাজিয়েভা হ্যারডস থেকে ১৬,৩০৯,০৭৭.৮৭ (এক কোটি ৬৩ লাখ নয় হাজার ৭৭ পাউন্ডের) বিল দিয়েছেন। ব্যবহার করেছেন ৫৪টি ক্রেডিট কার্ড, যার মধ্যে ৩৫টি ক্রেডিট কার্ড আজারবাইজানের সেই ব্যাংক থেকে ইস্যু করা যেটি থেকে টাকা আত্মসাতের দায়ে তার স্বামী জেল খাটছেন।

তবে হ্যারডসে কীভাবে এত অর্থ খরচ করলেন তিনি তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই ব্রিটেনের জাতীয় অপরাধ এজেন্সির (এনসিএ) এর। তাদের মূল নজর কীভাবে মিসেস হাজিয়েভা লন্ডনের বাড়ি এবং বার্কশায়ারে গল্ফ কোর্স কিনলেন। এত অর্থ কোথায় পেলেন তিনি? 

মিসেস হাজিয়েভা অবশ্য এনসিএর তদন্তকে চ্যালেঞ্জ করছেন। বলেছেন, অবৈধ কিছু করেননি। তিনি বলছেন, তার স্বামী আজারবাইজানের কারাগারে। আর তাই তার স্বামী যে একজন সফল ব্যবসায়ী সে প্রমাণ তিনি এখন দিতে পারছেন না।

সূত্র : বিবিসি 

ওডি/এনএম
 

আপনার চোখে পড়া অথবা জানা অন্যরকম অথবা ভিন্ন স্বাদের খবরগুলোও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড