• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চবি সংসদের ৩১তম সম্মেলন

  চবি প্রতিনিধি

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:৩৭
সম্মেলন
চবি ছাত্র ইউনিয়নের সম্মেলন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

‘পূর্ণাঙ্গ আবাসন-পরিবহন সুবিধা ও গবেষণাবান্ধব মুক্তবুদ্ধি চর্চার গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস চাই’- স্লোগানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্র ইউনিয়নের দুই দিনব্যাপী ৩১তম সম্মেলন শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলা প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের ৩১তম সম্মেলনের প্রথম দিনের উদ্বোধন হয়। শুক্রবার নতুন কমিটি ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।

ধীষণ প্রদীপ চাকমার সভাপতিত্বে শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গৌরচাঁদ ঠাকুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রুহিন হোসেন প্রিন্স।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ লোভ আর ভয়ের রোগে আক্রান্ত। সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সবার মাঝে আমিত্ব ঢুকে গেছে। তাই কিছু করতে গেলেই লোভ আর ভয় চেপে ধরছে। বর্তমানে সর্বত্র ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট আর দুর্বৃত্তায়ন প্রবেশ করেছে। দেশের সাড়ে চারকোটি মানুষ এখনো অর্ধাহারে জীবনযাপন করছে। সংখ্যালঘু আর পাহাড়ে নির্যাতন চলছে নির্বিচারে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা।’ এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করণে ছাত্র ইউনিয়নের নতুন নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা হওয়ার কথা ছিল বিশ্বমানের। অথচ শাটলে ঝুলে, ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে ক্যাম্পাসে আসি আমরা। ক্যান্টিনের উচ্চমূল্য আর আবাসিক সঙ্কট তো রয়েছেই। শিক্ষকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস না নিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সময় দিচ্ছেন। ৭৩ এর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ বোধহয় শিক্ষকরা পড়েও দেখেন না। কেননা সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ব্যবস্থা চালু কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে গত কয়েক দশক আগে শাটলে যে পরিমাণ বগি ছিল, সেটি আর বাড়ানো হয়নি। অথচ বর্তমানে শিক্ষার্থী বাড়লেও উলটো মান কমেছে শাটলের। এসি রুম আর গাড়িতে চড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তারা এসব ভোগান্তি কীভাবে বুঝবে। কয়েকটি ক্লাস, কিছু সুবিধা, সার্টিফিকেট প্রদানই কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে জ্ঞান তৈরি আর হাজার বছরের অর্জিত জ্ঞান ছাত্রদের মাঝে বিতরণ করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজেটে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা গবেষণা খাতে রাখা হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু পড়ে এক হাজার ৯০০ টাকা। অন্যদিকে তা যদি কেবল শিক্ষকদের পেছনে ব্যয় করা হয় মাথাপিছু পড়বে ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ এই নগণ্য গবেষণা বরাদ্দের স্তুতি গাইতে ব্যস্ত মিডিয়াগুলো। মোট বাজেটের ৩০-৪০ ভাগ গবেষণা খাতে বরাদ্দ দিতে হবে।’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, ‘গণতন্ত্রহীন ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ পরিচালিত হচ্ছে। উপাচার্যরা আকণ্ঠ দুর্নীতে নিমজ্জিত। ছাত্র সমাজকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন পরিচালনা করছে। ইস্পাত-সম এই সংগ্রাম সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

এ ছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় সংসদের কোষাধ্যক্ষ জয়চন্দ্র রায়, সদস্য আতিক রিয়াদ, রাঙ্গামাটি সংসদের সভাপতি অভিজিৎ বড়ুয়া, শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবা জাহান রুমি প্রমুখ।

ওডি/এসএসকে

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড