• রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফেসবুক কমেন্ট নিয়ে যবিপ্রবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ (ভিডিও)

  যবিপ্রবি প্রতিনিধি

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:০৭
যবিপ্রবি
ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ফেসবুকে কমেন্টকে কেন্দ্র করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রায় পাঁচজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। 

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রলীগ কর্মী মারুফ হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তামান্না দোলার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী জুয়েল রানার অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যের খুদে বার্তার স্ক্রিনশট দিয়ে বিচার চেয়ে স্ট্যাটাস দেয়। তারই প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে ছাত্রলীগ কর্মী অন্তর দে শুভ ও তার অনুসারীরা জুয়েল রানার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার এক পর্যায়ে তাকে মারতে উদ্যত হয়। 

এ সময় ছাত্রলীগ কর্মী কামরুল হাসান শিহাব বাধা দিতে আসলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তার ওপরও হামলা করে শুভর অনুসারীরা। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেন। জানা যায় জুয়েল রানা ও শিহাব শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসানের অনুসারী।

তখন থেকেই বিবাদমান দুই গ্রুপের অনুসারীরা ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন। ঘটনার কিছুক্ষণ পর আবার শাখা ছাত্রলীগের উপপ্রচার সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন রকির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মী ও পিইএসএস বিভাগের অন্তর দে শুভ (শিক্ষাবর্ষ ২০১৬-১৭), পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের মারুফ হাসান (শিক্ষাবর্ষ ২০১৬-১৭), ফিশারিজ ও মেরিন বায়োসাইন্স বিভাগের ইসমে আজম শুভ (শিক্ষাবর্ষ ২০১৬-১৭), একই বিভাগের মাহমুদুল হাসান সাকিব পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক খন্দকারের (শিক্ষাবর্ষ ২০১৪-১৫) ওপর হামলা চালায় এবং এতে তিনি আহত হন। তারপর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। 

তবে পরিস্থিতি শান্ত না হতেই সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসানের অনুসারীরা আশিক খন্দকারের নেতৃত্বে রহিতসহ প্রায় পনেরো জন শিক্ষার্থী শাখা ছাত্রলীগের উপপ্রচার সম্পাদক ইলিয়াস হোসাইন রকির ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন, পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহতরা হলেন- শাখা ছাত্রলীগের উপপ্রচার সম্পাদক ও শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান (পিইএসএস) বিভাগের শিক্ষার্থী ইলিয়াস হাসান রকি (শিক্ষাবর্ষ ২০১২-১৩), একই বিভাগের কামরুল হাসান শিহাব (শিক্ষাবর্ষ ২০১৬-১৭), পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক খন্দকার (শিক্ষাবর্ষ ২০১৪-১৫), গণিত বিভাগের জুয়েল রানা (শিক্ষাবর্ষ ২০১৬-১৭), ইংরেজি বিভাগ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রুহুল কুদ্দুস রহিত (শিক্ষাবর্ষ ২০১৩-১৪)।

পুরো ঘটনাতেই দায়িত্বরত পুলিশ প্রশাসনের নীরব ভূমিকা দেখা যায়, এবং ঘটনার শেষ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে, এতে ছাত্রলীগ কর্মী রুহুল কুদ্দুস রহিত গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। দায়িত্বরত সাব-ইন্সপেক্টর এস আই মাহবুব হাসানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি লাঠিচার্জের বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কথা বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবেই চলছে। অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই সুষ্ঠু কার্যক্রমকে ব্যহত করার জন্য একদল বহিরাগত অছাত্র সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর ওপর যদি কোনো বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলা করে তার বিচার করা হবে। আর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যদি কেউ খারাপ ব্যবহার বা ইভটিজিং করে থাকে এবং এর কোনো লিখিত অভিযোগ আমি পাই এবং এর যদি কোনো সঠিক প্রমাণ থাকে তাহলে সেটা আমি অবশ্যই ক্ষতিয়ে দেখব এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’ 

শেষে উপাচার্য আরও জানান, ‘সারা দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অরাজকতা শুরু হয়েছে তারই ফলস্বরূপ কুরাজনীতির এক মহল বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে, যা কখনো হতে দেয়া যাবে না। আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে তিনি জানান।’ 

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রক্টর দপ্তর থেকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’

ওডি/এমএ

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড