• বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

টেন্ডার বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে ইবিতে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য

  ইবি প্রতিনিধি

০৬ আগস্ট ২০১৯, ১৩:৫৫
ইবি
পদবঞ্চিতদের সঙ্গে বহিরাগতরা (ছবি : সংগৃহীত)

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) টেন্ডার বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার করতে বহিরাগত, মাদকসেবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের দৌরাত্ম্য দেখা গিয়েছে।

সোমবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে ইবির বহিরাগত সাবেক শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন আলো, জুবায়ের আল মাহমুদ ও ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য তন্ময় সাহা টনির নেতৃত্বে কয়েকজন বহিরাগতকে শোডাউন দিতে দেখা গিয়েছে।

এ সময় তাদের সঙ্গে শোডাউনে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের দেখা যায়, এর মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের আল আমিন, ইতিহাস বিভাগের মিজান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্বপ্ন, আইন বিভাগের বিশাল, লোকপ্রশাসন বিভাগের জয়সহ প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শোডাউন দিয়েছেন।

এ দিকে, বহিরাগত ও বর্তমান কমিটি থেকে পদবঞ্চিতদের একাংশের আগমনে বর্তমান ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতা কর্মীদের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করে এবং তাদের শোডাউনের প্রেক্ষিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতাকর্মীরা একত্রে মোটর সাইকেল শোডাউনসহ ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়।

শোডাউনের বিষয়ে ইবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুবায়ের আল মাহমুদ বলেন, আমাদের হানিফ ভাইয়ের নির্দেশে আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শোডাউন দিয়েছি এখানে কোনো ধরনের বহিরাগত মাদকাসক্ত ছিল না।

জুবায়েরের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এমপি মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, এ বিষয়ে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কারো সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি সে বাটপারি কথা বলেছে। তিনি জুবায়ের আল মাহমুদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

ছবি

বর্তমান কমিটির নেতাকর্মীরা (ছবি : সংগৃহীত)

আলমগীর হোসেন আলো বলেন, এখানে কেউ বহিরাগত না, আমরা ছোট ভাইদের সঙ্গে একসঙ্গে ঘোরাফেরা করা যদি আপনারা শোডাউন মনে করেন তাহলে কিছুই করার নেই, আপনার ছাত্রত্ব শেষ এমন অভিযোগ এসেছে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব আলতু ফালতু প্রশ্ন করার দরকার নেই। আমার ছাত্রত্ব আছে দরকার হলে প্রশাসনে গিয়ে খোঁজ নেন।

কেন শোডাউন দিয়েছেন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তন্ময় সাহা টনি বলেন, বর্তমান ছাত্রলীগের কিছু কার্যক্রমে আমরা সন্তুষ্ট না, যেগুলো মেনে নেওয়ার মতো না তারা মিউচ্যুয়ালভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে যেকোনো কাজে যদি বর্তমান ছাত্রলীগ কোনো অসঙ্গতিপূর্ণ কাজ করে তাহলে সেটা আমরা মেনে নেব না।

এ দিকে, ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী দাবি করেন যে, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ কমিটি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে এবং মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়েছে। যাতে করে ক্যাম্পাস বিভিন্ন স্থানে ও হলে হলে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। সে জন্য মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য বহিরাগতদের সঙ্গে আঁতাত করছে এবং তাদের সঙ্গে শোডাউনে যোগদান করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দাবি করে, তারা মূলত মাদক ব্যবসা ও টেন্ডারবাজি করে বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ক্যাম্পাসে কিছু বহিরাগত নেতারা টেন্ডারবাজির নামে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে, যা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ কখনোই মেনে নেবে না, ইবি শাখা ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস উপহার দিতে চাই।

ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এস. এম রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, আমাদের কোন কর্মকাণ্ডে তারা অসন্তুষ্ট? আমরা ছাত্রলীগ করি আমরা ছাত্রদের জন্য কাজ করি। অতীতে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কিছু অপবাদ ছিল আমরা সেগুলো দূর করার চেষ্টা করেছি। আমরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চাচ্ছি না, আমরা চাই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠুভাবে ক্লাস করুক। আমরা মনে করি না আমাদের কর্মকাণ্ডে কেউ অসন্তুষ্ট। আমরা যে কাজ করছি এটা মূল্যায়নের দায়িত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আনিচুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখছি যদি তাদের কোনো খারাপ উদ্দেশ্য থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা করার জন্য যেকোনো মহল যে কেউ চেষ্টা করুক না কেন তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

ওডি/আরএআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড