• মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নানা অভিযোগ

  মো. শাহীন সরদার, বাকৃবি প্রতিনিধি

০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৩:২৮
কৃষি গুচ্ছ
কৃষি গুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লোগো (ফাইল ছবি)

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় পছন্দকৃত কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে না পারা, প্রশ্নপত্র ও ফলাফলে অসঙ্গতির অভিযোগ করেছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকগণ। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই দুই শিক্ষার্থীর মেধা তালিকায় নাম আসারও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অস্বীকার করে পরীক্ষার ফল বাতিল করে পুনরায় নিরীক্ষণের সুযোগ নেই বলে জানান কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরকৃবি) প্রশাসন।

মঙ্গলবার (০৭ ডিসেম্বর) কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় বিতর্কিত ফলাফলের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছে বাকৃবি শাখা ছাত্র ইউনিয়ন।

বাকৃবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের দফতর সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, এবছরের কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে জনমনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কিত এই ফলাফলে যদি একজন শিক্ষার্থীও বঞ্চিত হয় সেই দায় বিশ্ববিদ্যালয় এড়াতে পারে না।

জানা যায়, গত ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বাকৃবি) সাতটি কৃষিপ্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবার পরীক্ষা আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরকৃবি)। ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র প্রকাশের পর অভিযোগ আসে যে, মেধা ও কেন্দ্রের পছন্দক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্র দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা পছন্দমত কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে পারেনি। গত ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এরপরই পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অভিযোগ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা-২০২১ এর ফলাফল নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও প্রাপ্ত ফলাফল তালিকায় অনুপস্থিতিসহ নানা ধরণের কারিগরি সমস্যা হয়েছে। অনেকে ভালো পরীক্ষা দিয়েও ফলাফলে তাদের সিরিয়াল আসেনি। যে কাটমার্কের কথা বলা হয়েছে তার থেকে বেশি নাম্বার পেয়েও চান্স হয়নি। ফলাফল বাতিল করে পূর্নমূল্যায়ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কৃষি গুচ্ছ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ফজলে রাহাদ নামে একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের মতামতের সাপেক্ষে ফলাফল রিচেকের সুযোগ দেয়। তাই অনেক শিক্ষার্থী বশেমুরকৃবিতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে রিচেকের আবেদন করে। পরে তারা ‘এ’ সেটের উত্তরমালা সংগ্রহ করে আমাদের দিলে আমরা দেখি পাঠ্যবই অনুসারে ১০টি প্রশ্নের উত্তর ভুল আছে এবং ২টি টাইপিং মিস্টেক ছিল।

রাশেদা খাতুন নামে এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক পরীক্ষার কেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে আমার মেয়ের মোট নাম্বার বেশি থাকা সত্ত্বেও তার সিট পড়েছে ৬নং সিরিয়ালের পরীক্ষা কেন্দ্রে। অথচ আমার মেয়ের বান্ধবীর মোট নাম্বার অনেক কম থাকা সত্ত্বেও তার সিট পড়েছে ৩নং সিরিয়ালের কেন্দ্র। এরকম অব্যবস্থাপনার জন্য আমাদেরকে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণ বঙ্গে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসতে হয়েছে। গুচ্ছ পরীক্ষা নিয়ে তাহলে শিক্ষার্থীদের কী লাভ হলো?

অভিযোগের বিষয়ে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বশেমুরকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া বলেন, যথেষ্ট সতর্কতার সাথে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র তৈরি করেছি। আমরা ওএমআর মেশিনে রেজাল্ট প্রবেশ করানোর সময়ও যথেষ্ট সতর্ক থেকেছি। প্রতিযোগিতামূলক প্রশ্ন যেমন হওয়ার কথা তেমনি হয়েছিল। পাঠ্যবইয়ের উত্তরকেই প্রাধান্য দিয়ে আমরা সে কাজটি করেছি। তারপরেও যদি কোনো ভুল থাকে সেটিও আমরা খতিয়ে দেখবো।

বশেমুরকৃবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের প্রশ্ন এবং উত্তরপত্রে কোনো ভুল নেই। সকল শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রের স্ক্যান কপি আমাদের কাছে আছে। যারা দেখতে চেয়েছে তাদেরও দেখানো হয়েছে। টেকনিক্যাল কোনো সমস্যা হচ্ছে নাকি সেটি দেখার জন্যে আমি নিজে ৩টি উত্তরপত্র ম্যানুয়ালি চেক করে দেখেছি। কোনো ভুল ছিল না। উত্তর ভুল বা রেজাল্ট সঠিক নয় এমন বলছে কেন সেটি আমার বোধগম্য নয়।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড