• শনিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮  |   ১৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বেরোবি এলাকায় বাড়ছে ছিনতাই, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

  আবু সাঈদ জনি, বেরোবি প্রতিনিধি

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:২৬
বেরোবি
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ফাইল ছবি)

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) এলাকায় দিনদিন বেড়ে চলেছে ছিনতাই নামক ভয়াবহ ঘটনা। যা এখন নিত্যদিনের ঘটনাই বলা যায়। এসব ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অস্ত্র ঠেকিয়ে করা হচ্ছে সর্বস্ব লুট। এতকিছুর পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

কখনো ভোরে জগিং করতে কিংবা সন্ধ্যার পর বের হলে, আবার কখনোবা নিজ মেসেই জিম্মি করে, কেউবা টিউশন থেকে ফেরার পথে একা পেলেই ছিনতাই করা হচ্ছে মোবাইল, ল্যাপটপ ও সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা। প্রথম চাওয়াতে দিতে অস্বীকার করলে ছুরিকাঘাত করে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোবাইল, ল্যাপটপ ও টাকা-পয়সা।

ছিনতাইয়ের স্পট হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক গেটের (১নং গেট) সামনে, মর্ডান থেকে পার্ক মোড় সড়ক, লালবাগ থেকে পার্ক মোড় সংলগ্ন রাস্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন অলিগলি। কথিত আছে মর্ডান থেকে লালবাগ রাস্তায় এক সময়ে দিন দুপুরে খুন ও লুট করা হতো।

সম্প্রতি গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে (২০১৮-১৯) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহরুফা আফরোজ মিরা মেসে যাওয়ার পথে অ্যাকাডেমিক গেটের (১নং গেট) সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হয়। অজ্ঞাত এক যুবক ব্যাগ কেড়ে নিয়ে ব্যাগ ছিঁড়ে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মাহরুফা আফরোজ মিরা জানান, ক্যাম্পাস থেকে মেসে যাওয়ার পথে অ্যাকাডেমিক গেটের সামনে একা পেয়ে আমার ব্যাগ ও মোবাইল কেড়ে নেয় অপরিচিত এক যুবক। আমি খুবই ভয় পেয়েছিলাম। পরে পুলিশ ও প্রক্টর স্যারকে বিষয়টি জানাই।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পরাগ মাহমুদকে রাত আড়াইটায় বেরোবি অ্যাকাডেমিক গেটের (১নং গেট) সামনে এবং বেরোবির ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মনিরুজ্জামানকে পার্কমোড়-লালবাগ রাস্তায় সকাল ছয়টায় জগিংরত অবস্থায় নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাই করে। শিক্ষক মনিরুজ্জামানকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এবং শিক্ষার্থী পরাগ মাহমুদকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিতে হয়।

এর আগে, গত ২০ আগস্ট ভোরবেলা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ‘শামস ভিলা’ ছাত্রাবাসে তালা ভেঙ্গে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হুদা এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানাকে রুমে ঢুকে তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মোবাইল ও সাথে থাকা টাকা পয়সা নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খুবই তৎপর। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্পাসে সার্চলাইট বসানো হয়েছে। পুলিশকে টহল জোরদার করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাচীর থেকে বাইরের দিকে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ডিআইজির সঙ্গে কথা বলেছি।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও পার্শ্ববর্তী এলাকার দায়িত্বরত সাব ইনিস্পেক্টর ইজার আলী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের ছিনতাইয়ের অন্যতম কারণ মাদক সেবনের অর্থ সংগ্রহ। যুবকদের মাদকের অর্থ সংকট হলেই ছিনতাই করছে। এছাড়াও ছিনতাইয়ের জন্য ব্যক্তিগত কারণ, পূর্ব শত্রুতা ও অন্যান্য কারণ থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশের টহল পার্টি থাকে। তারা সবসময় মুভমেন্ট করে। এরই মধ্যে যেকোনো সময় এ অপকর্মগুলো ঘটেছে। এর আগে তাতক্ষণিকভাবে আমরা অ্যারেস্ট করেছি, ছিনতাইয়ের মালামাল উদ্ধার করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজকর্মী উমর ফারুক বলেন, করোনার কারণে নতুন করে ২ কোটি ৪৫ লক্ষ মানুষের আয় দারিদ্রসীমার নিচে চলে এসেছে। প্রায় ১ কোটি মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান না থাকায় কিছু মানুষ বিপদগামী হয়ে উঠেছে ও আয়ের জন্য অসৎ পথ অবলম্বন করছে। অন্য একটি কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের এই অঞ্চলে নেশা ও জুয়ো দুটোই বেড়েছে। নেশা করার টাকার প্রয়োজনে যুবকরা ছিনতাইয়ের পথ বেছে নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন এ সমস্যা সমাধানে দুইটি কাজ করা যেতে পারে। যেসব মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে নিয়ে এসে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। অপরটি হচ্ছে অপরাধ সংগঠিত হওয়া এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইলিয়াস ছাব্বির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এসব অপরাধ সংগঠিত হওয়ার নানাবিধ কারণ রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে এলাকার যুবক যারা অপরাধকে অপছন্দ করে তাদের কাজে লাগাতে হবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মানুষের সহযোগিতা নিতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও এলাকাবাসী বসে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড