• সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনা সংকটে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দিনকাল যেমন যাচ্ছে

  আসমাউল মোত্তাকিন

১৯ মে ২০২০, ২১:১১
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা
ছবি : সম্পাদিত

একটি গান আছে, যা আমরা সবাই শুনেছি- খবর আসে যে কাগজের পাতা ভরে, জীবন পাতার অনেক খবর রয়ে যায় অগোচরে। ঠিক যেন তাই। প্রতিনিয়ত শত ঘটনার মাঝে অনুসন্ধানী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংবাদ চেতনাকে কাজে লাগিয়ে যারা খবরা-খবর আমাদের সামনে তুলে ধরে তাদের সাংবাদিক বলা হয়। আর সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক পেশা। 

বর্তমান সময়ে এ পেশার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। সাংবাদিকতার বিভিন্ন ধরন রয়েছে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা তার একটি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন কিন্তু ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার নাম শোনেননি এরকম মানুষ কমই আছে। 

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা খণ্ডকালীন পেশা হলেও একদল তরুণ-তরুণী এই পেশাকে ভালোবেসে চলে আসেন। তবে বাস্ততবিকভাবে এই পেশাকে পূর্ণকালীন পেশা বলা যেতে পারে। কারণ ক্যাম্পাসের ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো সময় মাফিক ঘটে না। ২৪ ঘণ্টায় ক্যাম্পাসের খবরের প্রতি নজরদারি করতে হয়। ক্যাম্পাস খোলা হোক বা বন্ধ হোক সব সময় নজরদারি করতে হয় ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায় অনেকে বাড়ি ফিরলেও কিছু ক্যাম্পাস সাংবাদিক থেকে গেছেন ক্যাম্পাসে শুধু সাংবাদিকতার দায়িত্ববোধের কারণে। আবার কেউবা বাড়িতে বা বাসায় বসেই চালিয়ে যাচ্ছেন সাংবাদিকতা। এসব ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন দৈনিক অধিকারের মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আসমাউল মুত্তাকিন।

আবদুল্লাহ আল মুবাসির বাংলা ট্রিবিউনে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘করোনায় বিপর্যস্ত পুরো দেশ। এমতাবস্থায় বাসাই বসেই সবাইকে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। তবে ক্যাম্পাস সাংবাদিক হিসেবে আমাদের বসে থাকার জোঁ নেই। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জানা, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর রাখাসহ বাসায় বসে থেকেও নানা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘যদিও ক্যাম্পাস খোলা থাকলে নিজেকে এর চেয়েও বেশি ব্যস্ত রাখতে হতো। তবে রমযানে বন্ধু-বান্ধব এবং বিভিন্ন ক্লাবের আয়োজনে একসঙ্গে বসে ইফতার করার আনন্দগুলোকে মিস করছি। যদিও এ বছর পরিবারের সঙ্গে পুরো রমযান কাটাতে পারবো, এটা ভাল লাগছে। পরিশেষে এটাই প্রার্থনা করি, এই পরিস্থিতি থেকে আমরা যেন দ্রুত ফিরে আসতে পারি।’

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একুশে টেলিভিশন প্রতিনিধি মুছা মল্লিক জানান, করোনার এই অবসরে সারাদিন বাসায় অবস্থান করছি। প্রিয় ক্যাম্পাস আর প্রেসক্লাবের প্রিয় মুখগুলোকে খুব মিস করছি। তবে করোনার এই অবসরেও থেমে নেই সাংবাদিকতা। প্রতিনিয়ত সবার সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং এবং বিভিন্ন ফিচার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি সকলের থেকে, সংকটকে শক্তিতে রূপ দিয়ে এগিয়ে চলছি দিগন্তপ্রসারী যাত্রায়।’

আরও পড়ুন : অনলাইন ক্লাসের বিরুদ্ধে ববি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলা কাগজ প্রতিনিধি মীর মারুফ তাহসিন বলেন, ‘সাংবা‌দিকতার ক্ষে‌ত্রে ২৪ ঘণ্টা সপ্তাহের সাতদিনই দায়িত্ব পালন কর‌তে হয়। এক্ষেত্রে ক্যাম্পাস সাংবা‌দিকতাও ব্যতিক্রম নয়। বৈশ্বিক মহামারি ক‌রোনায় বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগু‌লো বন্ধ হ‌য়ে গে‌লেও থে‌মে নেই ক্যাম্পাস সাংবা‌দিকতা। ক্যাম্পাসের নানা দিক এবং এ সময়ও শিক্ষার্থী‌দের অধিকার, সু‌যোগ সুবিধা নিয়ে কলম থেমে নেই।’

দৈনিক অধিকার পত্রিকার তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি মামুন সোহাগ বলেন, ‘ক্যাম্পাস খোলা থাকলে এক ভাবে সময় কাটে আর বন্ধে আরেক অপেক্ষায় সময় কাটে আর ক'দিন বাকি ক্যাম্পাস খুলতে। এবার এক অনিশ্চয়তা ভর করছে। কবে এই করোনা থেকে মুক্তি মিলবে? কবে আবার ক্যাম্পাস ঘুরে বেড়াবো?’

তিনি বলেন, ‘আসলে বাসায় থেকে বোরিং সময় না গেলেও ক্যাম্পাসের ভালো সময়গুলো পাওয়া যায় না।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড