• রোববার, ০৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জনশূন্য চবিতে আজ কারো ব্যস্ততা নেই

  মাহবুব এ রহমান, চবি প্রতিনিধি

১৭ মার্চ ২০২০, ২২:৫৮
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
জনশূন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

করোনাভাইরাস আতঙ্কে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ২১শ একরের ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। অনেকে এই ক্যাম্পাসকে বলেন গানের ক্যাম্পাস। পাহাড়ঘেরা সবুজাভ ক্যাম্পাসের ঝুপড়ি আর শাটলের গানের খ্যাতিও দেশজুড়ে বিস্তৃত।

কিন্তু সেই শাটল আর ঝুপড়ি আজ জনশূন্য। ধোঁয়া ওড়া চায়ের কাপের চুমুকে গিটারের টুংটাং ধ্বনি আজ আর নেই। যেই ঝুপড়ির টেবিল চাপড়িয়ে সুর উঠতো গানের, সেই ঝুপড়ি আজ হাহাকার করছে। 

ঘুরতে গিয়ে দেখা যায়, কলা ও লেডিস ঝুপড়ির সবগুলো দোকান আজ খুলেনি। যেগুলো খুলেছে সেগুলোও একদম ফাঁকা।  ঝুপড়ি দোকানদার মোজাম্মেল জানান, সকালে এসে দোকান খুলেছি, কিন্তু কোনো ব্যস্ততা নেই৷ আজ কেউ বলেনা, ‘মামা একটা খিচুড়ি দ্যান, মামা ৩টা চা দ্যান একটা চিনি ছাড়া।’

ফাঁকা ঝুপড়ির দোকান (ছবি : দৈনিক অধিকার)

৮ বছর বয়সী মামুন। লেডিস ঝুপড়ির একটি দোকানে ওয়েটারের কাজ করে। জানতে চাইলে সে বলে, ‘এ রকম ক্যাম্পাস খোলার দিন আমি রেস্ট নেওয়ার সময়ই পেতাম না। কিন্তু আজ অলস বসে আছি। কোনো কাজ নেই।’

লেডিস ঝুপড়ি, কলা ঝুপড়ি ছাড়াও ক্যাম্পাসে আড্ডার ব্যস্ততম স্থান হচ্ছে শহীদ মিনার চত্বর, বুদ্ধিজীবী চত্বর, জাদুঘর চত্বর, উন্মুক্ত মঞ্চ, বায়োলজি পুকুর পাড় এবং বঙ্গবন্ধু উদ্যান। কিন্তু ব্যস্ততম সেই সব স্থান আজ বিরানভূমি। নিরাপত্তা কর্মী ছাড়া কারোরই পদচারণা নেই আজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের তীর্থস্থান হচ্ছে চাকসু ভবন। চাকসু কার্যকর না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিসহ সবগুলো সাংস্কৃতিক সংগঠনের অস্থায়ী অফিস এই চাকসু ভবনে। যে চাকসু সম্মেলন কক্ষ সব সময় থাকতো ব্যস্ত, সেই চাকসুর আশপাশের নেই কোনো গানের কিংবা কবিতার রিহার্সেল ধ্বনি।

ছাত্র রাজনীতির আঁতুড়ঘর এই ক্যাম্পাসে নেই কোনো সভা সমাবেশ। আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী হলেও ক্যাম্পাসে ছিলনা তেমন একটা হাঁকডাক। ছোট্ট পরিসরে আয়োজিত হয়েছে অনু্ষ্ঠান।

ক্যাম্পাস ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য একমাত্র বাহন ২টি শাটল ও ১টি ডেমু ট্রেন। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করেন এসব ট্রেনে। খোলার দিনগুলোতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হতো। কিন্তু আজকের চিত্র ভিন্ন। শাটলে সিট ধরার জন্য কোনো দৌড়ঝাঁপ নেই। হল ছেড়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ছাড়া আর কোনো যাত্রী নেই শাটলে। বন্ধ হয়ে গেছে আবাসিক হলগুলোও।

আরও পড়ুন : বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপণ 

নাহিদ হাসান থাকেন সোহরাওয়ার্দী হলে। ব্যাগ গুছাতে দেখে জানতে চাইলে বলেন, ‘বাসায় চলে যাচ্ছি। কখন ফিরবো জানিনা। কিন্তু ক্যাম্পাসকে প্রচুর মিস করবো।’

আবাসিক হলের ডাইনিংয়ের চিত্রও একই রকম। মাস্টার দ্য সূর্যসেন হলে গিয়ে দেখা যায়, ডাইনিং রুম খোলা। তবে রান্নাবান্না নিয়ে তেমন ব্যস্ততা নেই। বাবুর্চি হিরণ প্রধান প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাড়ি তে যাওয়ার। আজ যেন কারো ব্যস্ততা নেই।

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড