রাবিতে বহিরাগত ছাত্রীকে আটকে রেখে চাঁদা দাবি

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৮:৪০

  রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আসা দুই ছাত্রীকে আটকে রেখে তিন হাজার টাকা চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে একজনকে উদ্ধার করে আর পুলিশ পৌঁছানোর আগে আরেকজন এক হাজার টাকা দিয়ে চলে যায় বলে জানা যায়। শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর বন্ধুর অভিযোগ চাঁদাবাজরা ছাত্রলীগ পরিচয়ে চাঁদা দাবি করে, তবে ছাত্রলীগ এ বিষয়টি সম্পুর্ণ অস্বীকার করেছে।

জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজশাহী নিউ গভনমেন্ট ডিগ্রি কলেজের দুই শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে আসেন। এ সময় তাদেরকে তিন যুবক আটক করে রোকেলা হলের পেছনে নিয়ে যায়। তারপর নিজেদেরকে ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে তাদের থেকে তিন হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরে টাকার জন্য ওই ছাত্রী বিভাষ নামের তার এক বন্ধুকে ফোন দিয়ে টাকা চাইলে তিনি পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশে একজনকে উদ্ধার করে অপরজন পুলিশ পৌঁছানোর আগেই এক হাজার টাকা দিয়ে চলে যায়। ওই দুই ছাত্রীর বন্ধু বিভাষ জানান, তার দুই বান্ধবী শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার জন্য ক্যাম্পাসে আসে। তাদেরকে আটকে রেখে তিনজন মুক্তিপণ দাবি করে। তার বান্ধবী তাকে ফোন করে টাকা বিকাশ করতে বললে তিনি কাজলা ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ যেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। পরে মেয়েটির অভিভাবক এসে তাকে নিয়ে যান। তবে, বিভাষের অভিযোগ পুলিশ ওই যুবকদেরকে আটক না করে ছেড়ে দিয়েছে।

এ দিকে, রাতে কাজলা ফাঁড়িতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু। তারা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। ফাঁড়ি থেকে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেছি।’

এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কিবরিয়া বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছুই আলোচনা হয়নি।’ তবে, সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, এর সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত থাকার মতো কেউ অভিযোগ করেনি। ছাত্রলীগ পরিচয়ে টাকা দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’

মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে যেয়ে আমরা মেয়েটিকে একাই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। কারা তাকে আটকে রেখেছে জিজ্ঞাসা করলে ওই যুবকগুলো চলে গেছে বলে মেয়েটি জানায়। পরে মেয়েটিকে আমরা ফাঁড়িতে নিয়ে এসে তার অভিভাবককে খবর দেই। পরে তার অভিভাবক এসে তাকে নিয়ে যান। আর এ ঘটনায় কোনো মামলা বা অভিযোগ করেনি কেউ।’