• বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা: নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র

সনদ জালিয়াতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় ওলামা লীগ নেতার ছেলে আটক

  সরকার আব্দুল্লাহ তুহিন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়:

১৩ আগস্ট ২০২২, ১৮:৪০
ভর্তি পরীক্ষা
অভিযুক্ত মাহবুব হাসান। ছবি- অধিকার

স্নাতক ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছপদ্ধতিতে বি-ইউনিটের (মানবিক শাখা) ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে সনদ ও পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক হয়েছে মাহবুব হাসান নামের এক শিক্ষার্থী। নিজেকে কেন্দ্রীয় ওলামা লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহিম পীর এর সন্তান দাবি করেন আটক হওয়া ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থী।

শনিবার (১৩ আগস্ট) বেলা সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৬০১ নং কক্ষ থেকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হয়। অভিযোগ ও অপরাধের ব্যাপ্তি বেশি এবং তদন্তের প্রয়োজনে তা সাধারণ মামলা হিসেবে পরিচালনা করতে পরামর্শ দেন ভর্তি পরীক্ষায় নিয়োজিত ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযোগ দায়ের করে ত্রিশাল মডেল থানায় মামলার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আটক হওয়া শিক্ষার্থী থেকে অর্ধ ডজনের বেশি জাতীয় পরিচয়পত্র সহ ভুয়া সনদ, সিভি, রেজিস্ট্রেশন কার্ড উদ্ধার করা হয়। সনদ জালিয়াতির অভিযোগ স্বীকার করেছে আটক হওয়া শিক্ষার্থী পরিচয় দেয়া মাহবুব আলম। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য ও পরিচয় দিচ্ছিল ওই অভিযুক্ত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদে স্নাতক পাসের সন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ২০১৯ সাল। অন্যদিকে এইচএসসি পাশের সনের জায়গায় একটিতে ২০১৯ এবং অন্য একটিতে ২০২০ উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযুক্তের পিতার দেওয়া তথ্য মতে, তার ছেলে মাহবুব হাসান ২ থেকে ৩ বছর আগে এইচএসসি পাশ করেছে। পিতার দেওয়া তথ্য সঠিক হলে মাহবুব হোসেনের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ থাকে না। আটক হওয়া শিক্ষার্থীর বাড়ি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার ছোট মালিঝিকান্দা গ্রামে।

সন্তানের নামে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওলামা লীগ নেতা আব্দুর রহিম পীর বলেন, আমার ছেলেকে সেইভ করেন, ওর সব ঠিক আছে। আমার ছেলেকে হেফাজত করেন আল্লাহ আপনাদের ভালো করবে। আমার অবস্থা সামনে ভালোর দিকে যাচ্ছে দোয়া করেন। এমন তথ্য ছড়িয়েন না, আল্লাহ সইবে না।

তবে এটিকে অপরাধ হিসেবেই দেখছে প্রশাসন। এছাড়া আদালত চলাকালীন সময়ে কিছু ডকুমেন্ট সরিয়ে ফেলার তথ্যও জানা গেছে। যার সত্যতা পাওয়া গেছে সেসময় উপস্থিত থাকা একাধিক সূত্রের মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, জালিয়াতির কিংবা অনৈতিকতার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্যে সাধারণ মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার অপরাধ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ ডায়েরি করা হচ্ছে। জব্দকৃত ভুয়া দলিলাদিসহ জিনিসপত্র থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাইন উদ্দিন বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। পাশাপাশি মামলা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

অসদুপায়ে পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, ভর্তি পরীক্ষা সুন্দর গোছালোভাবে হয়েছে। আর একজন আটক হয়েছে। আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার প্রশাসন স্বচ্ছ, কোনো অসংলগ্নতা পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মানবিক শাখার গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন নির্বাচন করে ৭ হাজার ৭৮৩ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ৭০১ জন, পরীক্ষায় উপস্থিতির হাড় ৯১ শতাংশ বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ৪ অনুষদের ১২৫টি কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড