যে কারণে ভর্তিচ্ছুদের পছন্দের শীর্ষে নোবিপ্রবি

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:২০

  নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। ২০০৬ সালে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের ২৭তম এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ৫ম। ১০১ একরের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে দেশের ১ম সারির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম। বয়সের হিসেবে তরুণ এই বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ খুব দ্রুত এগিয়ে চলছে। 

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১টি প্রশাসনিক ভবন, ২টি অ্যাকাডেমিক ভবন, ১টি লাইব্রেরি ভবন, ১টি অডিটোরিয়াম ও ৩টি হল নিয়ে চলছে এর কার্যক্রম। আর অতি শীঘ্রই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ২টি নতুন হল যা মেয়েদের শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এছাড়াও নির্মাণাধীন রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ যা হবে দেশের সর্ববৃহৎ একাডেমিক ভবন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে গেলেই জানতে ইচ্ছে করে সেই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে। উপরের বিষয়গুলোই ছিল সেই জানার আগ্রহের ক্ষুদ্র অংশ। এবার বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানার পর সামনে অগ্রসর হওয়া যাক। আসলে কি কি প্রয়োজন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে। হ্যা যোগ্যতার কথাই বলছি। এই নোবিপ্রবিতে আছে খুব কম জিপিয়ে নিয়ে প্রবেশ করার সুযোগ। এখানে এসএসসি এবং এইচএসসি উভয় মিলে মোট জিপিএ নূন্যতম ৬.৫ থাকলেই আবেদনের যোগ্যতাটি হয়ে যায়। 

অনেক শিক্ষার্থী হয়ত কোন কারণে প্রথমবার কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় না। দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সেসব শিক্ষার্থীদের ২য় বার সেই সুযোগটি দেয় না। কিন্তু নোবিপ্রবি সেই সুযোগটি দেয়। এছাড়াও এখানে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি বিশেষ সুবিধা তা হল এখানে পরীক্ষার সময় উত্তরপত্রে ভুল উত্তরের জন্য কোন নাম্বার কাটা হয় না।

এবার আসা যাক এই বিশবিদ্যালয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষত্ব অর্জন করেছে -

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি বিশ্ববিদ্যালয় যা বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে অবস্থানের দিক থেকে ৩ নাম্বার এ রয়েছে।

তারপর, দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেশনজট শব্দটির সাথে অতিপরিচিত হলেও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সেশনজট নেই বললেই চলে।

এছাড়াও এখানে রয়েছে ভর্তির সময় এ্যাপসের মাধ্যমে ঘরে বসে লাইভ ভর্তির আপডেট দেখার সুযোগ। যা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতেই তৈরি। 

নোবিপ্রবির হাত ধরেই বাংলাদেশ এন্ড লিবারেশন ওয়্যার স্টাডিজ সাবজেক্টটি বাংলাদেশে চালু হয়েছে।

এখানে রয়েছে মেয়েদের জন্য শতভাগ আবাসন সুব্যবস্থা। এখানকার মেয়েদের জন্য নির্মিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হলগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তারপর, নোবিপ্রবির প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্ট অনেক মানসম্মত। প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্টেই রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষক। রয়েছে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ সাথে রয়েছে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ল্যাব এর সুব্যবস্থা।

নোবিপ্রবি শিক্ষকের গবেষণা দ্বারা নতুন ৪টি অমেরুদণ্ডী প্রানী আবিষ্কৃত হয়েছে। যা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে খুবই বিরল।

এখানে রয়েছে পড়াশুনার পাশাপাশি বিভিন্ন কো-কারিকুলাম এক্টিভিটিজ যা আপনার মেধার বিকাশে সহায়তা করবে। 

সবশেষে আর একটা কথা না বললেই নয় তা হল নোবিপ্রবির সৌন্দর্য। 

ওপরের সব গুলো বিষয়ই একটা বিশবিদ্যালয়ের বিশেষত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট বলা যায়। তাই যারা নোবিপ্রবিতে ভর্তির স্বপ্ন লালন করছেন তারা বুঝতেই পারছেন তারা কি পেতে যাচ্ছেন। খুব লোভ হচ্ছে, না? তাই আর দেরি নয়, নিজের সেরাটা দিয়েই নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলে নিজের আসনটি পাকাপোক্ত করার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এখনই সময় নিজেকে প্রমাণ করার।